ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

টিয়াখালী নদীর তীরে বন কেটে স্থাপনা নির্মাণ ॥ পরিবেশ হুমকির মুখে

এইচ.এম,হুমাযূনকবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ার চাকামইয়া-টিয়াখালী দোন নদীর কলাপাড়া অংশের তীরসহ নদী দখল করে স্থাপনা তোলার হিড়িক চলছে। যে যেভাবে পারছে নদীপাড়ের বনবিভাগের ছইলা-কেওড়া গাছসহ বনাঞ্চল পর্যন্ত কেটে উজাড় করে সেখানে স্থাপনা তুলছে। ইতোমধ্যে নবনির্মিত বাসস্ট্যান্ড থেকে চাকামইয়া ব্রিজ হয়ে উত্তরদিকে পর্যন্ত অন্তত শতাধিক স্থাপনা তোলা হয়েছে।
কেউ কেউ আবার পাকা স্থাপনা তুলছে। বর্তমানে স্থাপনা তোলার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
টিয়াখালী ভূমি অফিসের অধীন এই এলাকা এখন দখলদারদের দৌরাত্মে সরকারের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফ্রি-স্টাইলে যে যেভাবে পারছে তুলছে স্থাপনা।
এমনকি রাখাইনদের শ্মশান এলাকায় বালু দিয়ে ভরাট করে টিনশেড স্থাপনা তোলা হচ্ছে। নতুনপাড়া (চইয়াপাড়া) রাখাইন পল্লীর বাসীন্দারা জানান, তাঁদের শ্মশানসহ গোটা এলাকা দখল করে করাতকলসহ বাড়িঘর তোলা হয়েছে। বহুবার বাধা দেয়া হয়েছে কিন্তু কোন প্রতিকার তারা পাননি। এখন শ্মশানে যাওয়া-আসার পথটুকু পর্যন্ত নেই। চারপাশে বালু ফেলে ভরাট করে স্থাপনা করা হচ্ছে। নদী পর্যন্ত দখল করে আরসিসি পিলার করে বহুতল স্থাপনা তোলা হচ্ছে।স্থানীয়রা জানান, কলাপাড়া পৌরশহর থেকে এ নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ মহাসড়কে উন্নীত করে।
বেড়িবাঁধের নদীর সাইটে পাঁচ বছর আগেও বনবিভাগের সংরক্ষিত বাগান ছিল। ছিল ছইলা-কেওড়াসহ বাঁধের স্তোপে সামাজিক বনায়নের গাছপালা। কিন্তু এসব কেটে সাবাড় করে দেয়া হয়েছে। এখন বাঁধের স্লোপসহ বাঁধ সংরক্ষণের মাটি কাটার জায়গাসহ ভরাট করে বাড়িঘরসহ স্থাপনা তোলা হয়েছে। নদী পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না। করা হয়েছে গাছপালার মধ্যে করাতকল। দখলদারদের একজন নাম না বলার শর্তে জানান, সবাইকে উচ্ছেদ করা হলে তিনিও দখল ছেড়ে দিবেন। বনবিভাগ, পানিউন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এমনকি খোদ ভূমি প্রশাসন কেউ এসব বন্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে দখলদাররা তাদের দখল সন্ত্রাস চালাচ্ছে ফ্রি-স্টাইলে। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তাব্যক্তিদের মন্তব্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবস্থা এমন হয়েছে যে এই দখলের ধারা অব্যাহত থাকলে আগামি কিছু দিনের মধ্যে এই নদীরপাড় বিরানভূমিতে পরিণত হবে। পাশাপাশি বেহাত হবে সরকারের বিপুল পরিমাণ খাস জায়গা। ফলে সিডরের মতো ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা প্রতিরোধের মতো কোন বন থাকবেনা।
বেড়িবাঁধসহ জনপদ ভেসে যাবে। দূর্যোগকালীন ঝুঁকি চরমে পৌছবে। প্রথমে আড়ালে আবডালে ঘর তোলা হয়। পরে রাতের আধারে গাছ কেটে পাশের করাতকলে চেরাই করে পাচার করা হয়। কলাপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, দখলদার উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বনবিভাগের কলাপাড়ার কর্মকর্তা আবুল কালাম আযাদ জানান, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের জানান, ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে এসব সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ