ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জনপ্রিয় হচ্ছে খাটো জাতের নারিকেল চাষ

রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা: ঝালকাঠির মাহফুজুর রহমান ‘এশা ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচার’ নামে মিশ্র খামার করে বেকারত্ব গুছিয়েছেন। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের কবল থেকে গাছ ও নারিকেল রক্ষায় ঝালকাঠিতে ভিয়েতনামের খাটো জাতের সিয়াম ব্লু নারিকেল গাছের তিন একর জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি মিশ্র খামার। পৈতৃক বসতভিটা ছাড়া তেমন কোনো জমাজমি নেই তার। স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে ৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে নারিকেল গাছের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে প্রায় ২০ ধরনের সবজি আবাদ করছেন তিনি। ভিয়েতনামের এই খাটো জাতের সিয়াম ব্লু নারিকেল গাছের খামার পরিদর্শন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও কৃষি অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। শনিবার যুগ্ম সচিব ফরিদা জাহানের নেতৃত্বে কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেশাইন খান গ্রামে কৃষক মাহাফুজুর রহমানের মিশ্র খামারটি ঘুরে দেখেন। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ভিয়েতনামের আদলে নারিকেলভিত্তিক পরিবার বা সমাজ তৈরি করতে চায় সরকার। বাংলাদেশে নতুন জাতের ডোয়ার্ফ বা বামন আকৃতির অধিক উত্পাদনশীল এই ‘ম্যাজিক নারিকেল গাছ’ আমদানি করেছে সরকার। উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারাদেশে এ নারিকেল গাছ চাষের সম্প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে। গাছ রোপণের দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে ফুল ফোটা শুরু হয়। দেশীয় লম্বা জাতের নারিকেলগাছে ফুল আসতে ৭-৮ বছর লেগে যায়। ভিয়েতনামের খাটো জাতের ডাবে পানির পরিমাণও অনেক বেশি। সব ধরনের মাটিতেই এ গাছ লাগানো সম্ভব। তা ছাড়া এ জাতের গাছ লবণাক্ততা অনেক বেশি সহ্য করতে পারে। গাছ খাটো হওয়ায় পরিচর্যাও সহজ। এটা উদ্ভাবন করা হয় ২০০৫ সালে। এ জাতের ডাব খুবই সুস্বাদু। এ ছাড়া ফলনও লম্বা জাতের গাছের চেয়ে অনেক বেশি। ভিয়েতনামে এ চারা কৃষকের খুবই পছন্দ। এ জাতের ডাব ও নারিকেল বিক্রি করে ভিয়েতনামে অনেক পরিবার বেঁচে আছে। বাংলাদেশেও, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে দুই ধরনের ছোট জাতের নারিকেলগাছ আমদানি করা হয়েছে। মোট ৪০ কোটি এ খাটো জাতের নারিকেলগাছ লাগানোর পরিকল্পনা আছে সরকারের। নারিকেল গাছের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে মাল্টা, লাউ, করলা, দুন্দল, শষা ও মাছের চাষ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন যুগ্ম সচিব ফরিদা জাহান। ছয় মাস আগে ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ভিয়েতনামের খাটো জাতের সিয়াম ব্লু চারা কিনে রোপন করেন তিনি। বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় এই নারিকেল গাছের কোনো ক্ষতি হবে না। চারা রোপণের তিন বছরের মধ্যে গাছে ফল পাওয়া যাবে। নারিকেল ও ডাবের চাহিদা পূরণে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা খাটো জাতের নারিকেল গাছ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় লাগানো শুরু করেছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকার দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ জাতের চারা রোপণ করেছে। কৃষি মন্ত্রীর নির্দেশে খামারটি পরিদর্শন করার কথা জানিয়েছেন যুগ্ম সচিব ফরিদা জাহান। মাহফুজের এই মিশ্র খামারটি দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই অসংখ্য বেকার যুবক খামারটি দেখতে বেশাইন খান গ্রামে ছুটে যাচ্ছেন। তারা খামারের মালিক মাহফুজুর রহমানের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এই ধরনের মিশ্র খামার করার পরিকল্পনা করছেন। খামারের শ্রমিক আনসার আলী জানায়, এই নারিকেল খামারে নিয়মিত কাজ করছেন পাঁচজন শ্রমিক। এ খামার থেকে ইতোমধ্যেই সপ্তাহে দশ হাজার টাকা আয় হচ্ছে মাহফুজের। তিন বছর পরে তার এ খামারের নারিকেল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যাবে। ঝালকাঠির সদর কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম জানান, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আধুনিক প্রযুক্তিসহ আইপিএমের মাধ্যমে চাষিকে সহযোগিতা করে আসছি তাকে গাছের চারা সরবরাহসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শুক্কুর মোল্লা বলেন, ঝালকাঠি তথা দক্ষিণাঞ্চলে মাহফুজ একজন ক্ষুদ্র সফল চাষি। তার ফসল সঠিকভাবে বাজারজাতের ব্যবস্থা করা গেলে দিন দিন সমৃদ্ধি লাভ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ