ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রচুর আলু অবিক্রিত থাকার আশঙ্কা

খুলনা অফিস: খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের ১৪টি কোল্ডস্টোরেজ থেকে লোকসানের ভয়ে মজুদদাররা আলু তুলছেন না। দক্ষিণের মোকামের সংকট মেটাতে রাজশাহী ও জয়পুরহাট থেকে চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ আলু আমদানি হচ্ছে।
স্থানীয় কদমতলা, দৌলতপুর ও ট্রাক টার্মিনাল আড়তে উল্লেখযোগ্য ক্রেতা নেই। পাইকারী মোকামে প্রতি কেজি গোল আলু ৮ টাকা ও খুচরা ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের কোল্ডস্টোরেজগুলোতে দেড় লাখ বস্তা আলু অবিক্রিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, ২০১৪ ও ’১৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আলুর বাজারে ধস নামে। উত্তরের আলু ব্যবসায়ীরা দক্ষিণের মোকামে পানির দামে আলু বিক্রি করে। লোকসান কাটিয়ে উঠতে ’১৬ সালে আবাদ বাড়িয়ে দেয়। বাম্পার ফলন হয়েছে আলুর। পাশাপাশি কাঙ্খিত রফতানি হয়নি। ফলে উত্তরের মজুদকৃত আলু আমদানির পরিমান বেড়েছে। প্রতিদিন উত্তরাঞ্চল থেকে ৩ হাজার মণ আলু আসছে।
খুলনা জেলা বাজার কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি মাসে স্থানীয় বাজারে গোল আলু প্রতি কেজি পাইকারী মূল্য ১৩ টাকা পঞ্চাশ পয়সা, ফেব্রুয়ারি মাসে পাইকারী মূল্য ১১ টাকা, খুচরা মূল্য ১৫ টাকা, মার্চ মাসে পাইকারী মূল্য ১১ টাকা পঞ্চাশ পয়সা, খুচরা ১৫ টাকা, এপ্রিল মাসে পাইকারী মূল্য ১৩ টাকা, খুচরা ১৬ টাকা, মে মাসে পাইকারী মূল্য ১৩ টাকা পঞ্চাশ পয়সা, খুচরা ১৬ টাকা, জুন মাসে পাইকারী মূল্য ১৬ টাকা পঞ্চাশ পয়সা, খুচরা ১৯ টাকা, জুলাই মাসে পাইকারী মূল্য ১৮ টাকা, খুচরা ২১ টাকা, আগস্টে পাইকারী মূল্য ১৭ টাকা পঞ্চাশ পয়সা, খুচরা ২১ টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসে পাইকারী মূল্য ১৬ টাকা, খুচরা ১৯ টাকা পঞ্চাশ পয়সা দরে বিক্রি হয়।
মহানগরীর কদমতলা মোকামের হাজি জবেদ আলী মোড়ল নামক কমিশন এজেন্টের ম্যানেজার গিয়াস কামাল জানান, জয়পুরহাট ও রাজশাহী থেকে আলু আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। যা চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ। তার দেওয়া তথ্য মতে, পাইকারী বাজারে ডায়মন্ড নামক আলু কেজি প্রতি ১৩ টাকা ৫০ পয়সা, লাল ১২ টাকা, গোল আলু ৮ টাকা এবং মুন্সিগঞ্জের আলু ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝালঝরা গ্রামের অধিবাসী মজুদদার মো. হানিফ সরদার জানান, মওসুমের শুরু থেকে ৯০ কেজি ওজনের আলু ১৪শ’ টাকা দরে কিনে এখন ৯শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু উঠার আগে উত্তরাঞ্চল থেকে পুরনো আলুর আমদানি বেশি হওয়ায় দাম এখন নিম্নমুখি। যশোর, খুলনা ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের মজুদদারদের প্রতি বস্তায় ৫শ’ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। ১৪টি কোল্ডস্টোরেজে দেড় লাখ বস্তা আলু অবিক্রিত থাকবে।
স্থানীয় শেখপাড়া বাজারের ক্ষুদে ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, রোববার প্রতিকেজি গোল আলু ১২ টাকা দরে বিক্রি হয়।
মাহমুদ কোল্ডস্টোরেজ-এর ম্যানেজার মো. আজমল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, মওসুমে ১৪ হাজার ৪৪৮ বস্তা মজুদ করা হলেও সোমবার পর্যন্ত মজুদের পরিমাণ ৬ হাজার ১২৩ বস্তা। প্রতি বস্তায় বছরে হিমাগারকে ২৬০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। ১২ জন মজুদদার হিমাগারের ধারে কাছে ভিড়ছে না। প্রতি বস্তায় ৫শ’ টাকা লোকসান হবে।
হিমাগারে প্রতিদিন ৩/৪ ঘন্টা লোডশেডিং হয়। আলু সতেজ রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ