ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুমেক হাসপাতালে চোর আতঙ্ক কাটছে না রোগী ও স্বজনদের

খুলনা অফিস : খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের এক্স-রে রুমের সামনে মুহূর্তেও মধ্যেই ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে থাকা দামি মোবাইল ও কয়েক হাজার টাকা উধাও। ব্যাগের চেইন খোলা। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর মোস্তফা হাসানের স্ত্রী মুর্শিদা সুলতানা তার মাকে নিয়ে এক্স-রে রুমে ঢোকার সময়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার ভাই নগর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম সাথে ছিলেন। রোগী ও স্বজনদের নগদ অর্থ, মোবাইল সেট ও মূল্যবান জিনিসপত্র মুহূর্তেও মধ্যে চুরি করে লাপাত্তা হচ্ছে চোরেরা।
অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম জানান, দালাল নির্মূলের র‌্যাবের অভিযানে হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে। তবে চোরের উপদ্রবে আতঙ্কিত সকলেই। অবাঞ্ছিতদের প্রবেশে কড়াকড়ি, নিরাপত্তা প্রহরীদের নজরদারী বৃদ্ধি, বিনা প্রয়োজনে প্রবেশকারী সন্দেহজনকদের তল্লাশীর ব্যবস্থা করছে চোরের উপদ্রব কমবে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণত্ব গরীব মানুষেরা আসে; তারা যদি চুরির মুখোমুখি হন, তাহলে নিঃস্ব হয়ে পড়েন অনেকেই।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, খুমেক হাসপাতালের বহিঃবিভাগ, জরুরী বিভাগ, গাইনী বিভাগ, এক্স-রে ও প্যাথলজি বিভাগের সামনে এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটে। যেখানেই ভীড়, সেখানেই চোর। কতিপয় বোরখা পরিহিত অল্প ও মধ্য বয়সী মহিলা এ চুরির সাথে জড়িত। তারা প্রতিদিনই হাসপাতালে ঢুকে বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থানে গিয়ে কৌশলে চুরি করে। এদের সাথে হাসপাতালের কতিপয় কর্মচারীর যোগসাজসও রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
দায়িত্বশীল সূত্রটি জানায়, কখনো চোর ধরা পড়লে হাসপাতালের ওই সব কর্মচারীরাই এগিয়ে এসে শাস্তি দেবার অযুহাতে তাদের কৌশলে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। দালাল, ওষুধ চুরি ও চিকিৎসকদের সম্পর্কে মিডিয়াতে নিউজ হলেও সব সময়েই চোরেরা থেকে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কয়েকদিন অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে ধরে শাস্তি দিলেই চোর নির্মূল করা সম্ভব বলে মনে করেন সুত্রটি।
খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম মোর্শেদ বলেন, অসহায় ও নিরূপায় মানুষগুলোই হাসপাতালে আসেন, তাদের অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে তারা কতটা নির্দয় হতে পারে। বিভাগীয় হাসপাতাল প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। এর মধ্যে চোর ধরার মতো পর্যাপ্ত সংখ্য প্রহরী (জনবল) নেই হাসপাতালের। তাই রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ