ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের নাভিশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার : কাঁচা মরিচের কেজি ২০০-২২০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, ৬০ টাকার কমে কোন সবজি নেই। আর চালের দাম তো আকাশচুম্বী। অল্প আয়ের মানুষেরা খাবে কী? সবকিছুর দাম বেশী। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকার এ বিষয়ে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীতে সব ধরনের চালের দাম বাড়তি দামে বিক্রির পাশাপাশি ক্রমাগত হারে ঊর্ধ্বমুখী ছিল সব ধরনের পণ্যের দাম। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কিছুটা কমলেও কমেনি কাঁচা মরিচের দাম, এদিকে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪-৬ টাকা। এছাড়া বাজারে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা দরে। পেঁয়াজ সপ্তাহের ব্যবধানে ৪ টাকা থেকে ৬ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৩-৫৪ টাকা। দেশি এবং আমদানি করা পেঁয়াজ সপ্তাহের ব্যবধানে একই দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি প্রায় ১ থেকে ২ টাকা কমেছে।
চালের বাজারে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা ও পারিজা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৪৭ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে (ভালো মানের) ৬০ টাকা দরে, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৬ টাকা, বিআর-২৮ ৫৫ টাকা, ভারতীয় বিআর-২৮ ৫০ টাকা,  উন্নত মানের নাজিরশাইল ৬৫ টাকা, নাজিরশাইল (নরমাল) ৫৫, হাস্কি ৫৫, পাইজাম চাল ৫০ টাকা, বাসমতি ৬৫-৭০ টাকা, কাটারিভোগ ৭০-৭৫ টাকা এবং পোলাও চাল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এই দামের সঙ্গে টে পেঁয়াডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। টিসিবির মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, ভালো মানের মিনিকেট কেজিপ্রতি ৬৫-৬৮ টাকা, নরমাল মিনিকেট ৬০-৬৫ টাকা, ভালো মানের বিআর২৮ কেজিপ্রতি ৫৬-৫৮ টাকা, নরমাল বিআর২৮ ৫০-৫৬ টাকা, মোট স্বর্ণা চাল ৪৫-৪৮ টাকা।
সবজির বাজার ঘুরে দখা গেছে, বাজারে কালোবেগুন কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা ও সাদা বেগুন  ৮০ টাকা দরে। এছাড়া শিম ১০০ টাকা, হাইবি পেঁয়াড টমেটো ১২০ টাকা, শশা ৭০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, করলা ৬৫ টাকা, কাকরোল ৫৫ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০-৬৫ টাকা ও আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা, দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ৯০ টাকা, মাসকলাই ১২৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা, প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া কেজি প্রতি দেশি রসুন ১১০ টাকা, আমদানি করা ভারতীয় রসুন ১২০ টাকা, আলু কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা দরে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০-৪০০ টাকা, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১২০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ইলিশ ধরায় নিষিদ্ধ থাকায় বাজারে কোনো ইলিশ দেখা মেলেনি।
ব্রয়লার মুরগি আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকা দরে। লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪৫০ টাকা, পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর গোশত কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ