ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রশাসন দিয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না -ড. মঈন

স্টাফ রিপোর্টার : সরকার প্রশাসন দিয়ে জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, এই সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। এই জন্য তারা জোর করে প্রশাসন দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে। সরকারের জানা উচিত প্রশাসন দিয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়ার অভিযোগে করা মানহানির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ঢাকা মহানগর হাকিম নুরনবী। একইদিনে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পরোয়ানা জারি করে বকশিবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালত।
মঈন খান বলেন, সরকার জানে জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। এ কারণে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে দিয়ে জোর করে দেশ পরিচালনা করতে চাচ্ছে। কিন্তু এভাবে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়। সব মানুষকে চিরদিনের জন্য বোকা বানিয়ে রাখা যায় না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়ে অন্যায় করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এর প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামবে। আমরা বিশৃঙ্খলা চাই না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে অন্যায়ের জবাব দেব।
মঈন খান বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেড নিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা করছে না, অর্ধেকের বেশি এমপি বিনা ভোটে নির্বাচিত হলে সে সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। পুলিশ জনগণের সেবক, স্বৈরাচারী সরকারের নয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক দলের সেবাদাস হিসেবে কাজ করতে পারে না। কারণ তাদেরকে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিতে হয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে তারা সরকার পরিচালনা করুক, আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু এ দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে তাদের নেত্রী নির্বাচিত করলে তা মেনে নিতে হবে। জনগণকে সে সুযোগ দিতে হবে।
মঈন খান আরও বলেন, জনগণ তাদের সঙ্গে না থাকায় বিচার বিভাগকে করায়ত্ত করে তারা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গেফতারি পরোয়ানা দিয়েছে। অথচ যেসব মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তার সঙ্গে খালেদা জিয়া সম্পৃক্ত নন।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যাতে ভয় পেয়ে দেশে না আসেন, সে জন্য তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। 
তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী আপোষহীন। তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে দেশে ফিরে আসা থেকে বিরত রাখা যাবে না।
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী, তিনি অবশ্যই দেশে ফিরে আসবেন এবং তার নেতৃত্বে বিশদলীয় জোটের নেতাকর্মীরা আন্দোলন করে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে বন্দুকের নল ধরে ছুটি নিতে বাধ্য করা হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে টার্গেট করে ধ্বংস করছে। নিজের খবরদারী, নিজের কর্তৃত্বকে নিরঙ্কুশ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের মতো একটি আদালতকে তিনি তার প্রতিপক্ষ মনে করলেন। ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে, কয়েকটা অবজারভেশন, আওয়ামী লীগ এবং তাদের সরকার প্রধান মনে করলেন ওরে বাপরে, এটাতো সাংঘাতিক বিষয়।
পার্লামেন্টে প্রধান বিচারপতিকে গালাগালি করা হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, পৃথিবীর কোথাও দেশের প্রধান বিচারপতিকে এতো নোংরা এবং এতো কুশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতে পারে এটার কোনো নজির নেই। সেই নজিরও আওয়ামী লীগ তৈরি করেছে।
রিজভী বলেন, আমরা দেখলাম প্রধান বিচারপতি কিছুদিন আগে ছুটি কাটিয়ে দেশে এসে উনার কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন, আবার উনি নাকি ছুটি নিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি নিজেই নিজের ছুটি নিতে পারেন। ছুটি নিলেতো আগেই নিতে পারতেন। গ্রীষ্মকালীন ছুটি নিয়ে তিনি যখন কানাডা, জাপান গেলেন তখনই নিতে পারতেন। এটাও কি জনগণের জানতে বাকি আছে, যে উনি ছুটি নিয়েছেন না তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নেয়া হয়েছে।
মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও মহিলা দলের নেত্রী হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ