ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ এবং সামরিক অভিযান চালাতে হবে -মুজিবুর রহমান হামিদী

গতকাল শুক্রবার বিকালে শনিরআখড়া ব্রীজের উপর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঢাকা জেলা দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেছেন, মায়ানমার সরকারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, বাড়ীঘর, মসজিদ-মাদ্রাসা জালিয়ে দিয়ে বিতাড়িত করা বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম বর্বরতা। সেখানে মানবতার লেশমাত্রও নেই। মুসলমানদের রক্তের স্রোতে ভাসছে আরাকান। রোহিঙ্গারা এখন বিশ্বের রাস্ট্রহীন নাগরিক। শরনার্থীদের বার্মায় ফিরিয়ে নেয়ার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও আইওয়াশ মাত্র। সেখানে হত্যা, অগ্নিসংযোগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে, মুসলমানদেরকে দেশ ছাড়তে মাইকিং করছে। তিনি বলেন মিয়ানমার সরকারের অমানবিক হত্যাকান্ড বন্ধ ও তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে হবে। জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিশ্ববাসীকে মিয়ানমার সরকারকে বয়কট এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে হবে। তাদের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধে সামরিক অভিযান চালাতে হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টায় শনিরআখড়া ব্রীজের উপর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঢাকা জেলা দক্ষিণের উদ্যোগে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ এবং সকল রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার প্রদান করে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হাজী আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খেলাফত আন্দোলনের ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর মাওলানা ফিরোজ আশরাফী। বক্তব্য রাখেন, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মুফতী মামুনুর রশীদ, প্রিন্সিপাল শফিকুল ইসলাম, আব্দুর রব, ফেরদৌস আহমদ কোরাইশী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, হাজী মাহবুবুর রহমান, মাস্টার জামাল উদ্দিন, এস আর খান প্রমুখ।
মাওলানা হামিদী আরো বলেন, যে জাতিসংঘ ইন্দোনেশিয়া ভাগ করে পূর্বতিমুর এবং সুদান ভাগ করে খ্রিস্টানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান তৈরী করে; সেই জাতিসংঘের উচিত শতবছর যাবত নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র ‘আরাকান’ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা। স্বাধীন রাষ্ট্র ছাড়া রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় হবে না।
মাওলানা ফিরোজ আশরাফী বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানরা জন্মসূত্রে সেদেশের নাগরিক। পরিপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের শিক্ষা,চিকিৎসা,চাকরিসহ তাদের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার দিতে হবে। অন্যথায়, জিহাদ করে আরাকানকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘকাল ধরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার জান্তার জাতিগত নির্মূল নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাখাইন রাজ্যের তৈল, গ্যাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ। এ সম্পদ লুটপাটে আধিপত্য বিস্তার করতেই চীন, ভারত ও রাশিয়া প্রকাশ্যে মিয়ানমার সরকারের বর্বর গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওরা মানবতার দুশমন, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ