ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাতিকে ঘুমন্ত রেখে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা যাবে না -আ স ম রব

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জাতিকে ঘুমন্ত রেখে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা যাবে না। রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী সংকটে জড়িয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে। এটা জানাও পরও সরকার দেশবাসীকে অবহিত না করে যা করেছে তা রাষ্ট্রের জন্য চরম ঝুকিপূর্ণ কাজ হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে সরকার ধবংসের কিনারে নিয়েছে। সরকার দেশকে পঙ্গু করে ফেলেছে-শুধু ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার স্বার্থে, পরিণত করেছে পুলিশী রাষ্ট্রে।
সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রোহিঙ্গা সমস্যা ও নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র উদ্যোগে আয়োজিত এ সাংবািদক সম্মেলনে আ স ম রব একথা বলেন। সম্মেলনে জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অন্যদের মধ্যে দলের এম এ গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, মো: সিরাজ মিয়া, কামাল উদ্দীন পাটোয়ারী, এস এম আনছার উদ্দিন, গোলাম রাব্বানী জামিল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আসম রব বলেন,প্রধান বিচারপতি-বিচার বিভাগের প্রধান নয়- দেশের প্রধান বিচারপতি সংবিধানের ৯৪ (২) এই সম্মান দিয়েছে। অথচ সরকার প্রতি মুহূর্তে প্রধান বিচারপতিকে অপমান করে দেশ-জনগণ ও সংবিধানকে অবমাননা করেছে। সুতরাং রোহিঙ্গা, যুদ্ধের উসকানিসহ কোনো সংকটের সমাধানই করতে পারবে না এ সরকার।
তিনি বলেন, সরকার মিয়ানমারের কূটকৌশল উপলব্ধিতে ব্যর্থ হয়ে বহু পাক্ষিক উদ্যোগের পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনীতির চরম ব্যর্থতা প্রতিফলিত হয়েছে। এখন ফেরত নেয়ার পরিবর্তে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে।
আসম রব বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার যথার্তভাবে মোকাবেলায় সরকার শুধু কূটনৈতিকভাবেই ব্যর্থ হয়নি, বরং বর্তমানে মিয়ানমার কর্র্তৃক যুদ্ধের উসকানি দেয়ার পরও এ বিষয়ে জাতিকে অবহিত করা হয়নি । জাতিকে প্রন্তুত করা হয়নি- যা জাতির জন্য খুবই ভয়াবহ।
তিনি বলেন, হত্যা, গুম-খুন-ধর্ষণ, অপহরণ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠন করে অবাধে বিদেশে পাচার করা সহ বিভিন্ন বেআইনী কর্মকান্ড দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিপজ্জনক করে তুলেছে। অপর দিকে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছাড়া করা হবে মর্মে অনেক মন্ত্রীদের বক্তব্য, সর্বশেষ ছুটির দরখাস্ত দিতে বাধ্য করার মাধ্যমে তাকে বিদায় করার মনোভাবেরই বহি:প্রকাশ ঘটেছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিই হুমকি সৃষ্টি করেনি-জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের মর্যাদাকে ভুলুন্ঠিত করেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমেই দক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ