ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুঠিয়ায় কলেজ ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ সাবেক স্বামী আটক

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার নওয়াপাড়ায় এবার কলেজ ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে তিন বখাটে মিলে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া  গেছে। পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই নারী পুঠিয়ার একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। মামলার প্রধান আসামী ও নির্যাতিত ছাত্রীর সাবেক স্বামী শাহজাহান আলীকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে তিন জনকে আসামী করে পুঠিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। বর্তমানে ওই কলেজ ছাত্রীকে রাজশাহী  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। ঘটানটি ঘটে গত ২৮ সেপ্টেম্বর। তবে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তিন বখাটের পক্ষ থেকে অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ওই তিন বখাটে হলো, পুঠিয়ার নওয়াপাড়া এলাকার হাসেম আলীর ছেলে শাহজাহান আলী (২৪), আব্দুল জলিলের ছেলে শামীম (২৩) এবং আছের আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (২৫)। এর মধ্যে শাহজাহান আলী হলো মেয়েটির সাবেক স্বামী। বেশকিছুদিন আগে মেয়েটির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। এরপর সম্প্রতি তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তখন থেকেই মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে থাকতো। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে নিজ এলাকায় তার নানীর বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে রাত ৯ টার দিকে বাসায় ফেরার জন্য বের হলে এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা বখাটে তিন যুবক শাহজাহান আলী, শামীম এবং ফারুক মিলে মেয়েটিকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি পেয়ারা বাগানের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর মেয়েটিকে অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে রাত ১১টার দিকে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয় তারা। কিন্তু ঘটনাটি কাউকে বললে মেয়েটিসহ তার পরিবারের লোকজনকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ওই বখাটেরা। তখন কাউকে কিছু না জানিয়ে মেয়েটি বাড়িতে চলে আসে। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রমেই তার স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকলে বৃহস্পতিবার তিনি পুঠিয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে পুঠিয়া থানার ওসি বলেন, ‘ওই ঘটনায় বখাটে তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামী শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
রাজশাহীতে ১৮ জুয়াড়ী
আটক ॥ বাঘায় পুকুরে
ডুবে শ্রমিকের মৃত্যু : রাজশাহীর মহানগরীতে পুলিশের অভিযানে ১৮ জন জুয়াড়ীকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে রাজশাহীর বাঘায় এক শ্রমিক পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর রাজপাড়া থানার হড়গ্রাম এলাকায়  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৮ জন জুয়াড়ীকে আটক করে পুলিশ। তাদের নিরুদ্ধে জুয়া নিরোধ আইনে মামলা করে শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। আটককৃতরা হলেন, নুরুজ্জামান (৩১), মিন্টু (৩০), মিঠু (৩৮), আমিরুল ইসলাম (৩৪), তুফান (২০), সারোয়ার  হোসেন (৪০), বাবু (৩৮),  মোস্তাক হোসেন (২৮), মোমিন (৩৫), মিঠুন (২৫), নাজমুল হক (৩০), ফারুক হোসেন (২৮), নাফিস (২৫), শরিফুল ইসলাম (২০), রামেশ (৩৫) আলতাফ (২৭), করিম শেখ (৩৫) ও রনি (২৫)।
বাঘায় শ্রমিকের মৃত্যু : বাঘা সংবাদদাতা জানান, রাজশাহীর বাঘায় গোসল করতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে রিপন মিঞা (৩৫) নামের ইট ভাটার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় তার লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। উপজেলার তেপুকুরিয়া গ্রামে আলাউদ্দিনের ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করতো রিপন মিঞা। গত বৃহস্পতিবার সারাদিনের কাজ শেষে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায় গত শুক্রবার সকালে ইটভাটার পাশে একটি পুকুরের ধারে তার ব্যবহৃত লুঙ্গি, স্যান্ডেল, মোবাইল দেখতে পান অন্যান্য শ্রমিকরা। এ খবর ভাটার মালিক আলাউদ্দীনকে দিলে বাঘা থানা পুলিশের সহযোগিতায় রাজশাহী দমকল বাহিনীকে খবর দেয়া হয়। পরে শক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় দমকল বাহিনীর ডুবুরিরা তার লাশ উদ্ধার করে। রিপন মিঞা ঢাকা ধামরায় এলাকার ধলা মিঞার ছেলে বলে নিশ্চিত করেন বাঘা থানার পুলিশ।
নিষিদ্ধ জাল আটক : বাঘা সংবাদদাতা জানান, রাজশাহীর বাঘায় পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টাকা মুল্যের জাল জব্দ করে জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে দেয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যোবায়ের হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক সামিম রেজার (৩২) ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সে উপজেলা রাওথা গ্রামের আজিজুল আলমের ছেলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ