ঢাকা, রোববার 15 October 2017, ৩০ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট গ্রাহক হয়রানি

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: পোল বসানো, সংস্কারসহ নানা কারণে টানা তিনদিন ধরে গোটা রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিল্পাঞ্চলখ্যাত রূপগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠার উপক্রম হয়েছে। প্রায় তিন শতাধিক শিল্পকারখানায় প্রতিদিন প্রায় দু’শ কোটি টাকার লোকসান গুণছে। একদিকে প্রচন্ড তাবদাহ, আরেকদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। লাখ-লাখ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ না থাকার ফলে সন্ধ্যা হলেই উপজেলার কয়েক’শ এলাকা ভুতুড়ে পরিবেশে পরিণত হয়। অব্যাহত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্রমেই ফুঁসে উঠছে বিভিন্ন শিল্প মালিক ও রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, জাতীয় গ্রীডে কাজ চলার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার কাজ আরো দুইদিন লাগতে পারে। এ অবস্থার উত্তরণ না হলে আরেকটি কানসার্টের জন্ম নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পোল বসানো ও সংস্কারের অজুহাতে পল্লী বিদ্যুৎ (পবিস ) কর্তৃপক্ষ গত তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে। ফলে গোটা রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উপজেলার ছোট-বড় তিন শতাধিক শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠার উপক্রম হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে প্রতিদিন এসব শিল্পকারখানাগুলোকে দু’শ কোটি টাকার লোকসান গুণতে হচ্ছে। গত তিনদিনে ৬’শ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এছাড়া চাদর কারখানা, মশারি কারখানা, জামদানি শিল্পসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বিক্রি-বাট্রা বন্ধ হয়ে গেছে বিপণী-বিতানগুলোতে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, টানা তিনদিন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় শিল্পাঞ্চল খ্যাত তারাবো, ভুলতা, কাঞ্চন, গোলাকান্দাইল, নাহাটি, পাচাইখা, পুবেরগাও, বরপা, রূপসী এলাকার ছোট-বড় তিন শতাধিক শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠেছে। বিদ্যুতের কারণে পানি উঠাতে পারছেনা জনসাধারন। এ জন্য তীব্র পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অধিক মুল্যে দিয়ে খাবার পানি দোকান থেকে ক্রয় করতে হচ্ছে। ব্যহত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া। গরমের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকার কারণে উপজেলার লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তি যেন শেষ নেই। 
কাঞ্চন এলাকার ব্যবসায়ী খলিল সিকদার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গরমে শিশুদের বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিলে ভোগান্তি চরম পর্যায় গিয়ে দাড়াবে।
পল্লী বিদ্যুতের সাওঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম মকবুল হোসেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
সাপাহার (নওগাঁ) সংবাদদাতা: নওগাঁর সাপাহারে বিদ্যুতের অনবরত যাওয়া- আসার খেলায় অতীষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন।
জরিপে জানা যায়,প্রতিদিন বিদ্যুতের প্রায় লাগাতর লোডশেডিংয়ের ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এলাকার বসবাসকারী জনগনদের। প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে আরো বেশি বিপাকে পড়ছে কোমলমতী ছাত্র-ছাত্রীরা। যখন পড়ার সময় ঠিক তখনই ভেল্কিবাজির মত চলে যায় বিদ্যুৎ যেন আসার আর নামমাত্র নেই। এতে করে অনেকটাই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তারা।
শুধু তাই নয় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে কল-কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। যেগুলো নির্ভর করে বিদ্যুতের উপর।
বর্তমানে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী এলাকার সচেতন মহলের।
পাবনা সংবাদদাতা: পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ভাগুুড়া অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকরা জানান নতুন সংযোগ, মিটার ও নাম পরিবর্তন, ভূতুড়ে বিল, লো-ভোল্টেজ, ট্রান্সফরমারের ত্রুটি প্রভৃতি কারণে অফিসে গেলে দিনের পর দিন ঘুরানো হয়। বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে পরিদর্শন রিপোর্ট টাকা না দিলে পাওয়া যায়না। ভাগুুড়া পৌরসভার শরৎনগর বাজারের বাবলু প্রফেসর , তমাল সুজের মালিক নিত্য বাবু, ছাড়া আরো অনেকে জানান আমাদের বাসার সামনের পুরাতন ও দুর্বল লাইন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখায় এক বছর ধরে লো-ভোল্টেজের শিকার হয়েছি। এ কারণে ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী যথাযথ ভাবে সার্ভিস দিতে না পারায় আমরা অবর্নণীয় কষ্ট পোহাচ্ছি। আমরা তখন থেকেই ঐ অফিসে ঘুরছি কিন্তু কর্তৃপক্ষের কুম্ভ কর্ণের ঘুম ভাঙ্গেনি। এ ছাড়া আরো কয়েকটি মহল্লায় দুর্বল লাইনে দীর্ঘদিন লো-ভোল্টেজের কারণে বাসা-বাড়িতে মটর,ফ্রিজ ও এসি প্রায়ই অচল হয়ে পড়ছে। পল্লী বিদ্যুতের এই অফিসের কর্মকর্তাদের বার বার অবহিত করেও এর কোনো সুরাহা হয়নি। ভাঙ্গুড়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী ব্যাবস্থাপক বেলাল হোসেন বলেন সমস্যা থাকলেও আমার কিছু করার নেই,আপনারা চাটমোহর মুল অফিসে যোগাযোগ করেন। প্রশ্ন হলো গ্রাহকদের সুবিধার জন্যই যদি এখানে পল্লী বিদ্যুতের অফিস স্থাপিত হয়ে থাকে তাহলে এসব বিষয়ে তাদের অজ্ঞতার কারণ কি?
ছাগলনাইয়া (ফেনী) সংবাদদাতা: পৌর কর্তৃপক্ষের এক সিদ্বান্তের আলোকে আগামী ২৪ অক্টোবর ইং থেকে ছাগলনাইয়া পৌর এলাকায় সকল ধরনের ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চালনার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা অরোপ করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর পৌর মেয়র মোহাম্মদ মোস্তফার নির্দেশক্রমে সমগ্র পৌর এলাকাব্যাপী মাইকিং করার মধ্যদিয়ে অটোরিক্সা মালিক এবং চালকদের উদ্দেশ্যে সকল ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চালনা নিষিদ্দের এ ঘোষনা প্রদান করা হয়। ২৪ অক্টোবর থেকে পৌর এলাকায় কোন অটোরিক্সা চালাতে দেখা গেলে ,সেগুলোকে জব্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। এদিকে স্থানীয় পৌরবাসী মেয়রের এহেন নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে। সূত্র জানায়, ছাগলনাইয়া পৌর এলাকায় প্রায় ২ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চলছে। এসব অটোরিক্সার লাগাতার ব্যাটারি চার্জিং এর কারনে পৌর এলাকায় সীমাহীন লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। ফলে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।   সিদ্বান্ত দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জনসাধারণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ