ঢাকা, রোববার 15 October 2017, ৩০ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এনায়েতপুরে নদীভাঙন ॥ ক্ষতিগ্রস্তরা আশা-নিরাশায়-

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: যমুনার পশ্চিম পাড় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে গত চার বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের কবলে ইতোমধ্যে যুমনা গর্ভে বিলীন হয়েছে তাঁত কারখানা, ঘর-বাড়ি, ফসলি জমিসহ বহু স্থাপনা। অথচ ভাঙনরোধে পাউবো নেয়নি কার্যকর কোন ব্যবস্থা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বরাবরই ছিল উদাশীন।
এদিকে গত দুই সপ্তাহে যমুনার ভয়াল থাবায় ব্রাহ্মনগ্রাম, আড়কান্দি ও জালালপুরসহ ৮টি গ্রামের প্রায় দেড়হাজার ঘর-বাড়ি, ৩ টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে এ অঞ্চলের মানুষ যখন দিশেহারা তখন বৃহস্পতিবার বিকেলে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর আগমনের খবরে ক্ষতিগ্রস্থ ও আতঙ্কিতরা ভাঙনরোধে নদী তীর রক্ষা বাঁধ হবে এমন আশা নিয়ে তাকে বরন করেন। অথচ ভাঙন প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতিমন্ত্রী শান্তনা দিলেও বাঁধ নির্মানের জন্য তাৎক্ষনিক নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা উল্লেখ না করায় হতাশ নদী পাড়ের মানুষ।
এনায়েতপুরের দক্ষিণাঞ্চলের সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক বলেন, নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মানের বিষয়ে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের সাথে কথা হয়েছে।
তারা এগিয়ে না এলে দেশের টাকা দিয়েই বাঁধ নির্মান করা হবে। তবে এর জন্য কত সময় লাগবে তা বলা যাচ্ছে না। অপেক্ষা করতে হবে ধোর্য্যরে সাথে। তবে বাঁধ নির্মান হবেই।
তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে জালালপুরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ আজিজুর, ছালাম ও জমশেদুল করিম বলেন, ত্রাণ চাই না, নদী রক্ষা বাঁধ চাই। চাল খাইলে ফুরিয়ে যাবে। ঘর-বাড়ি যদি না থাকে তাহলে থাকবো কোথায়। তাই আমাদের পেটে খাবার নয়, ভাঙ্গন প্রতিরোধ চাই। দাবি মোদের একটাই।
এদিকে ভাঙন কবলিত ব্রাহ্মণ গ্রামের রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, মন্ত্রীকে দেখে খুশী হয়েছিলাম, কিন্তু তিনি নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মানের কোন বিষয়ে পরিস্কার না করায় এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাঁধ নির্মানে সময়ক্ষেপন করা হলে এনায়েতপুরের দক্ষিণ জনপদের চিহ্ন থাকবেনা। তখন বাঁধ দিয়ে কি হবে। তাই এলাকা রক্ষায় এখনই স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মানের দাবি জানাই।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ ব্রাহ্মণগ্রাম ও জালালপুরে পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন, পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পশ্চিম জোন) মোসাদ্দেক আলী, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা, শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আজাদ রহমান, সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ ও মুল্লুক চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ