ঢাকা, রোববার 15 October 2017, ৩০ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নেত্রকোনায় দুই ইঞ্জিনিয়ার ছেলের নির্যাতন থেকে বাঁচতে অসহায় মায়ের সাংবাদিক সম্মেলন

নেত্রকোনা সংবাদদাতা: দুই প্রকৌশলী ছেলের অত্যাচার নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এক অসহায় মা।
গত রবিবার সন্ধ্যায় ছেলেদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে তাদের হাত থেকে বাঁচতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের চল্লিশায় সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ক্যান্সারে আক্রান্ত অসুস্থ মা মোছাঃ মাজেদা বেগম (৬২)।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের ভটপুর গ্রামের মোঃ নূরুল হকের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে তিন ছেলে এক মেয়ে জন্ম নেয়। তিনি জানান, স্বামী স্ত্রী মিলে অনেক কষ্ট করে প্রতিটি সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছি কিন্তু ২ ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করতে পারেননি। আমার স্বামী ব্রেইনষ্টোকে আক্রান্ত হয়ে এক বছর পূর্ব থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। বড় ছেলে আমিনুল হক শাহীন ‘পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড’র (পিজিসিবি) ইঞ্জিনিয়ার ও তৃতীয় ছেলে এনামুল হক তুহিন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার।
এই দুই ছেলেই অপর দুই ভাই-বোনকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করে অবৈধ পন্থায় সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে দিতে দীর্ঘদিন যাবৎ আমার উপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। আমি তাদের এই অন্যায় আবদার মেনে না নেয়ায় ইঞ্জিনিয়ার দুই ছেলে প্রায়শই আমাকে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রোজার ঈদের সময় বড় ছেলে শাহীন জমি লিখে দিতে বলে, আমি তাতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে আমাকে বিছানা থেকে লাথি মেরে নিছে ফেলে দিয়ে লাঠি দিয়ে বেদড়ক মারপিট করে। তারপর থেকে আমি অসুস্থ বোধ করতে থাকি। কোরবানী ঈদের আগের দিন ছোট ছেলে তুহিনও বড় ভাইয়ের মত জমি লিখে দিতে চাপর সৃষ্টি করে। এতে সাড়া না দেয়ায় সেও আমাকে মারধর করে। ছেলেদের মারধরের আঘাতে আমার মেরুদন্ড ও গলায় সমস্যা দেখা দেয়। খবর পেয়ে মেঝো ছেলে নাজমুল হক মনির আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ নিয়ে গেলে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, আমার গলায় ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে। মেঝো ছেলে মনির তার চিকিৎসা করাচ্ছে জেনে দুই ইঞ্জিনিয়ার ছেলে মনে করছে সম্পত্তি হয়ত মা তার মেঝো ছেলেকে দিয়ে দিবে। এই আশংকায় তারা মায়ের উপর অত্যাচার নির্যাতন আরো বাড়িয়ে দেয়। দুই ছেলের অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাঁচতে অবশেষে ক্যান্সারে আক্রান্ত মা মাজেদা বেগম স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ী সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের কারলী গ্রামে আশ্রয় নিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে চোখের পানি মুছতে মুছতে মাজেদা বেগম বলেন, প্রতিটি বাবা মা’ই চায় বৃদ্ধকালে তারা ছেলে মেয়ে নাতি নাতনিদের সাথে হাসি আনন্দ খেলাধুলা করে জীবনের শেষ দিনগুলি পার করে দিতে। ছেলেরা তার সাথে যে ধরনের অন্যায় আচরণ করেছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে তিনি বলেন, আর যে কয়টা দিন বাচব, সেই কয়টা দিন স্বামীর বাড়িতেই অসুস্থ স্বামীর সেবা করে মরতে চাই।
এদিকে অভিযুক্ত দুই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদেরকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ