ঢাকা, রোববার 15 October 2017, ৩০ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠিতে কাজে আসছে না অধিকাংশ স্কুল-কলেজের মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম

ঝালকাঠি সংবাদদাতা: কাজে আসছে না অধিকাংশ স্কুল-কলেজের মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম। জেলার প্রায় শতভাগ প্রতিষ্ঠানে মাল্টিডিয়া ক্লাসরুম ও ল্যাব থাকলেও নেই দক্ষ শিক্ষক। ফলে ডিজিটাল এই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী। সমস্যা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, ঝালকাঠি জেলায় ৩৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম আর ১৬টি প্রতিষ্ঠানে আছে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব। জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থী  ৯৯ হাজার ২৪৪ জন। মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল ল্যাবে ক্লাস করতে আগ্রহী সব শিক্ষার্থীরাই। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এগুলোর ব্যবহার হয় না। তালাবদ্ধ থাকে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে। জেলার অল্প সংখ্যক স্কুল কলেজে মাল্টিমিডিয়া বা ল্যাব চালু থাকলেও তা নাম মাত্র। প্রতিদিন একটি করে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস পাওয়ার কথা থাকলেও সপ্তাহ অন্তর জোটে একটি ক্লাস। ফলে চরম ভাবে হতাশা প্রকাশ করেছে অসংখ্য শিক্ষার্থীরা।
নলছিটি উপজেলার প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় ল্যাপটপ অনেক কম। এ কারণে খুব একটা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয় না। ল্যাপটপ বাড়ানোর দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
আমিরাবাদ সৈয়দ আব্দুল লতিফ মাধ্যমিব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, আমাদের বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়ার ল্যাব আছে কিন্তু ক্লাস হয় না। মাল্টি মিডিয়া ক্লাস চালুর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানায় তারা।
ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা জানায়, ডিজিটাল ক্লাস প্রত্যেক প্রিয়ডে হওয়া দরকার। গণিত, সমাজ ও বিজ্ঞান বিষয়ে আমরা ডিজিটাল ক্লাস করতে চাই। প্রতিদিন আমাদের ৬টি ক্লাস হওয়া প্রয়োজন।
একই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী জানায়, ডিজিটাল ক্লাস বর্তমানে আমাদের শিক্ষাজীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ডিজিটাল ক্লাসের মাধ্যমে আমরা অনেক অজানা বিষয়ে ভালোকরে বুঝতে পারি। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয় ল্যাব ভিত্তিক ক্লাস প্রয়োজন। অনেক শিক্ষা আছে যেটা শুধু বই নয়, হাতে কলমে ভিডিও বা কিছু দেখার মধ্যে শিখতে পারলে বেশি মনে থাকে। প্রত্যেকটা শ্রেণিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করলে অনেকটাই ভালো হবে।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে আইসিটিতে তেমন দক্ষতা না থাকায় সঠিকভাবে ক্লাস করানো যাচ্ছে না। প্রতি স্কুলে কলেজের দু’একজন করে শিক্ষককে সরকারি ভাবে মাত্র ১৪ দিনের আইসিটির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ক্লাস নেয়া বা মাল্টিমিয়িা চালানোর জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। সকল বিষয় ভিত্তিক শিক্ষককে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ আওতায় না আনলে ডিজিটাল পদ্ধতির এ শিক্ষা দেয়া সম্ভব নয় বলে শিক্ষকরা মনে করেন। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে মাল্টিমিডিয়ার ক্লাসরুম এবং সরঞ্জামও বৃদ্ধি করা দরকার বলে তাদের অভিমত।
প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, আমাদের বিদ্যালয়টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের আওতাভুক্ত রয়েছে। ডিজিটাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকের খুবই অভাব। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের জন্য আমাদের যে সকল উপকরণ দরকার তা আমাদের নেই। সরকারের মহতি উদ্যোগকে সফল করতে হলে দক্ষ শিক্ষক ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করতে হবে।
ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ সাহা জানান, এ বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম আছে ১ টা, শিক্ষার্থী আছে ১৭০০। কিন্তু সেই ক্লাসটিতেও পর্যাপ্ত আসন নেই। শিক্ষকদের মধ্যে যাদের কম্পিউটার পরিচালনার জ্ঞান আছে তাদের মধ্যে কে কত পারদর্শি তার একটি তালিকা তৈরী করছি।
ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা অফিসার প্রাণ গোপাল দে জানান, ঝালকাঠি জেলায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কার্যক্রম ভালোই চলছে। তবে আমাদের দক্ষ জনবল না থাকার কারণে কিছু কিছু সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে আমরা অনুভব করছি। বিশেষ করে যাদের আইসিটি প্রশক্ষিণ নেই তারা বা অন্য শিক্ষকরা কিন্তু এই সকল ক্লাস নিতে পারছেন না। শ্রেণিকক্ষের কিছু সমস্যা রয়েছে। যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা, বেঞ্চ না থাকায় শিক্ষার্থীদের চাপাচাপি করে বসতে হয়  এবং সরঞ্জামাদিরও অভাব রয়েছে। এটা ডিজিটালাইজেশনের অন্তরায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, অধিকাং শিক্ষকদেরই প্রশিক্ষণের আওতাভুক্ত করে যাতে দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষাদান করতে পারে। পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পরিবেশটা যেন ভালো থাকে সে ব্যাপারেও উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ