ঢাকা, রোববার 15 October 2017, ৩০ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আবারও একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র চলছে

গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) নির্বাচন ২০১৭ উপলক্ষে আইইবির প্রাক্তন নির্বাচিত কর্মকর্তাদের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) এর নির্বাচিত প্রাক্তন কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেছেন, আসন্ন আইইবি নির্বাচন ভয়ভীতির মাধ্যমে একতরফাভাবে করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) আচরণ ও কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি করেছে। বিগত আইইবি নির্বাচনের মতো এবারও দখলের আয়োজন চলছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল হলে আইইবি আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিনিয়র প্রকৌশলীদের পক্ষে এই অভিযোগ তুলে ধরেন আইইবির সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন। আরও বক্তব্য দেন এ্যাব সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহসীন আলী, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু ও প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মিয়া মোহাম্মদ কাইউম, সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রেজাউল করিম রেজা ও প্রকৌশলী এসএম গালিব, সাবেক চেয়ারম্যান (টেক্সটাইল ডিভিশন) প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহম্মদ সেলিম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান (মেকাকিন্যাল ডিভিশন) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, সম্পাদক প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, আইইবির সদস্য প্রকৌশলী গোলাম মওলা ও একেএম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
 লিখিত বক্তব্যে আ ন ম আখতার হোসেন বলেন,আমাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরার জন্য নির্বাচন কমিটির কাছে বার বার সাক্ষাৎ চেয়েও পাওয়া যায়নি। তাদের কালক্ষেপণ ও দীর্ঘসূত্রিতার নীতি আমাদের মধ্যে আশংকার জন্ম দিয়েছে যে, আগামী আইইবি নির্বাচন আদৌ নিরপেক্ষ হবে কিনা? আরও আশংকা আসন্ন নির্বাচনও আইইবি নির্বাচন ২০১৫ এর পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, বিগত ২০১৫-১৬ মেয়াদে আইইবির নির্বাচনটি ছিলো ইতিহাসের এক কলংকজনক অধ্যায়। আইইবির কর্মকর্তারা এখন আইইবির গঠনতন্ত্র মেনে চলার কোন বাধ্যবাধকতা বোধ করেন না। ৯ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ৭ অক্টোবর থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি নির্বাচন সিডিউল ঘোষণা করেছেন। নির্বাচন সিডিউল ঘোষণার পর আমরা কয়েকজন আইইবির সাবেক কর্মকর্তা সিইসির সঙ্গে নির্বাচন যাতে অবাধ সুষ্ঠ ও ভয়ভীতিহীন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্যে কিছু সুপারিশ মালা নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। আমরা বলতে চেয়েছিলাম মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিষয়েও আমাদের সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু সিইসি আমাদেরকে কোনো সাক্ষাত না দিয়ে একতরফাভাবে নির্বাচন করার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছেন। গত নির্বাচনের অনিয়মের বিষয়ে সাবেক সিইসির চেয়ারম্যান মরহুম প্রকৌশলী খিজির খান অভিযোগের সুরাহা করেননি।
প্রকৌশলীরা আরও বলেন, বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোসাদেকুজ্জামান আওয়ামী পন্থী বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের প্যানেল ঠিক করার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি আবার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ অবস্থায় কিভাবে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে?
 প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান বলেন, আইইবির বিগত নির্বাচনটি চরদখলের মতো করা হয়। ওই কর্মকর্তারা এবারও তাদের প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন একরতফাভাবে করার পাঁয়তারা করছেন। তিনি আইইবিকে দলীয় করণের উর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে যাতে একদলীয়, ভয়ভীতির মাধ্যমে একতরফা নির্বাচন আইইবিতে অনুষ্ঠিত হতে না পারে সেজন্য আইইবির সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন,এই সরকার নিজেই চর দখলের মত দেশের ক্ষমতা দখল করে আছে। এইক অবস্থা দেশের সব কয়টি প্রতিষ্ঠানের। শুধু তাই নয় বিচার বিভাগ নিয়ে সরকার এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছে। অস্ত্রের মুখে প্রধান বিচারপতিকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রীকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। যাতে তিনি বিদেশে গিয়েও মুখ খুলতে সাহস না পান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,এই সরকার আবারও চর দখলের মত রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পায়তারা করছে। এই সরকারের অধীনে আর সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশে ভোটাধিকার ফিরাতে চাইলে এই সরকারের পতন নিশ্চিত করতে হবে। দাবি আদায়ে আমাদের রাজ পথে নামতে হবে। তা না হলে দাবি আদায় হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ