ঢাকা, রোববার 15 October 2017, ৩০ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ-খুলনা মহাসড়কে কোটি টাকার সংস্কার কাজ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা: বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের (গৌরনদী, পয়সারহাট, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ, খুলনা)’র সংযোগ সড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস থেকে পয়সারহাট বরিশাল পর্যন্ত অংশের ১১ কিলোমিটার সড়কে এক কোটি ৪ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সংস্কার করা হয়। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরে তিন মাস যেতে না যেতেই সড়কটি খানাখন্দে পরিণত হয়ে সাবেক সড়কে রুপান্তরিত হয়েছে। সড়কে যাতায়াতকারী বাস চালক ও স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদাররা নামেমাত্র সংস্কার কাজ করেছে। যে কারনে মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে সড়কটি।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস থেকে পয়সারহাট পর্যন্ত অংশের ১১ কিলোমিটর সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে সড়কটিতে বাস চালকদের ভোগান্তিসহ দূর্ঘটনা বেড়েই চলছে। বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০১৬-২০১৭ইং অর্থ বছরে রক্ষনাবেক্ষন প্রকল্পের অধীনে সড়কের ১১ কিলোমিটর সংস্কারের জন্য দুটি প্রকল্প গ্রহন করেন। আগৈলঝাড়া বাইপাস ৭তম থেকে ১১তম (বাইপাস থেকে পশ্চিমে ৪ কিলোমিটার) সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের জন্য মেসার্স সেরনিয়াবাত এণ্টারপ্রাইজকে ৬৬ লক্ষ টাকা ও বাইপাসের শেষ মাথা থেকে পয়সারহাট অংশের শেষ পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার বাস্তবায়নের জন্য মেসার্স সান্টু ট্রেডার্সকে ৩৮ লক্ষ টাকার গত মে মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। দুই ঠিকাদার জুন মাসে কাজ শেষ করে চূড়ান্ত বিল গ্রহন করেন।
সড়ক বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গৌরনদী, পয়সারহাট, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ সংযোগ সড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস থেকে পয়সারহাট পর্যন্ত অংশের ১১ কিলোমিটার সড়কে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানসমূহে সিলকোট মেরামত ও পটলস মেরামতকরণ কাজ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমন কাজ করেছে যা শেষ হতে না হতেই বড় বড় গর্তে পরিনত হয়েছে। মাঝখানে সরকারি তহবিলের ব্যায় হয়েছে এক কোটি ৪ লক্ষ টাকা। দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার এটি একমাত্র সড়ক হওয়ায় মানুষের দূর্ভোগের শেষ নাই। 
সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের বাইপাস থেকে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১১ কিলোমিটার সড়কটির বেহাল দশা। অধিকাংশ সড়কে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া পুরো সড়কটি পাথর পিচ উঠে গেছে। ২০/২৫টি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গোটা সড়কই ছোট বড় গর্তে ভরপুর। এ সময় সড়কের বিভিন্ন অংশের স্থানীয়রা জানান, সড়কটি সংস্কারের সময় ঠিকাদারের লোকজন নামে মাত্র কাজ করেছেন। তারা মাঝে মধ্যে জোড়াতালি দিয়েই সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন করেছেন। ফুলশ্রী এলাকার সেন্টু মোল্লা(৫০), জাহাঙ্গীর হোসেন(৪০) ও রিপা বেগম(৩০) জানান, সংস্কার কাজ করার সময় খুবই নিন্মমানের কাজ হয়েছে। আমরা ঠিকাদারের লোকজনকে ঠিকমত কাজ করতে বলায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের সাশিয়ে দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে আপনাদের নাগ না গলালেই হবে। পয়সারহাট এলাকার আনোয়ার হোসেন(৫২), ফুলশ্রীর খলিলুর রহমান(৬৫), মোতালেব হোসেন(৩৩)সহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টের স্থানীয়রা জানান, খুলনা-বরিশাল মহাসড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন সড়কে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে মোংলা পোর্ট থেকে বরিশাল, পটুয়াখালি বরগুনার বিভিণœ বানিজ্যিক পন্য এই সড়ক দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ ছাড়া দক্ষিনাঞ্চলের পায়রা বন্দরের নির্মান সামগ্রী এই পথেই পরিবহন করা হয়। ফলে এ সড়কে যানবাহন সংখ্যা বহুগুনে বেড়ে গিয়েছে। এছাড়া বরিশাল-খুলনা, বরিশাল-যশোর, বরিশাল-বাগেরহাট, বরিশাল-গোপালগঞ্জ রুটে অসংখ্য দুরপাল্লার বাস চলাচল করেছে। সড়কটি খানাখন্দের কারনে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কটির এমন উন্নয়ন করা হয়েছে যে কোটি টাকা ব্যায় করে কাজ শেষ করতে না করতেই মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এ সড়কের মধ্যেই কথা হয় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বরিশালগামি ট্রাক চালক আজগর আলী(৫১)র সাথে। তিনি অভিযোগ করেন, মহাসড়কের মধ্যকার ভাঙ্গা ও গর্তের মধ্য অংশে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দূঘটনার শিকার হচ্ছে। সড়কে এত গর্ত যা বৃষ্টি হলে দেখা যায় না। ভাড়ি মালামাল নিয়ে সড়কে প্রায়ই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা পয়সারহাট গামি বাসের চালক বেলাল হোসেন বলেন, সড়কের উন্নয়নে বরাদ্দ হয় তা দিয়ে সড়কের উন্নয়ন হয় না। নামেমাত্র কাজ করে পুরো বরাদ্দই পকেটে চলে যায়। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বাস চালক ও সাধারন মানুষকে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেরনিয়াবাত এণ্টারপ্রাইজের পক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার মো. হানিফ মোল্লা বলেন, আমি রাস্তায় এক সাইডের সিলকোটের কাজ করেছি কিন্তু যে পরিনাম ভাড়ি মালবাহি ট্রাক চলে আর যে পরিমান অতি বৃষ্টি তাতে রাস্তা টিকতে পারে না। বৃষ্টিতে সংস্কার কাজ সব ধূয়ে গেছে। আরেক ঠিকাদার মেসার্স সান্টু ট্রেডার্সের মালিক মো. আলাউদ্দিন ভূইয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ বলেন, অতি বৃষ্টিজনিত কারনে সংস্কার কাজ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি কমলে নতুন করে সংস্কার কাজ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ