ঢাকা, রোববার 15 October 2017, ৩০ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনা-যশোর মহাসড়কে প্রবেশ গেটটি আজও সংস্কার হয়নি

খুলনা অফিস: খুলনা-যশোর মহাসড়কে প্রবেশগেটে নির্মাণ করা ভাস্কর্যটি নষ্ট অবস্থায় দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে আছে। গেটটিতে পোড়ামাটির তৈরি ভাস্কর্য নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। খুলনার ঐতিহ্য বহনের জন্য অনেক টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করলেও তা এখন জরাজীর্ণ দশায় পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আজও তা করা হয়নি। ফলে শীত মওসুমে সুন্দরবনসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের দৃষ্টিতে খুলনার প্রবেশদ্বারের এমন চিত্র এ অঞ্চলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে পারে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারী বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। এরই সুবাদে জুন মাসে গেটটি সংস্কারের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। জুলাই মাসের ৭ তারিখে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় কায়েদ এন্টারপ্রাইজ। ২৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটিকে দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়ে সংস্কারের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অদ্যাবধি গেটটিতে সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়নি।
বেজেরডাঙ্গা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোরশেদ খাঁ ও কয়েকজন যাত্রী জানান, এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারীদের খুলনা গেটের দিকে দৃষ্টি যায়। অনেকে এখানে বসে বিশ্রাম নেন। গেটটির ভাস্কর্য ধসে পড়ছে।
বসার স্থানে ময়লা আবর্জনা থাকায় এখানে কেউ দাঁড়াতে চায় না। এছাড়াও এটা খুলনা জেলার প্রবেশদ্বার। তাই এটি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গেটটি দ্রুত সংস্কার দরকার বলে মনে করেন সকলে।
খুলনা জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, প্রবেশে গেটে পোড়া মাটির ফলকের পরিবর্তে টাইলস দেওয়া হবে। প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত টাইলস’র জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। টাইলস আসলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, আপনাদের পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় এবছরের জুন মাসে সংস্কারের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্করের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ হয়ে গেছে। গেটটি খুব শিগগিরই সংস্কার করা হবে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, এটি একটি খুলনার ঐতিহ্যবাহী প্রবেশ গেট। এর সৌন্দর্য বর্ধনে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে এটি সংস্কার করার জন্য কিছু টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এটি আরও সুন্দর করে তুলতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৪ জুন খুলনা গেট’র নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। একই বছর ২০ নবেম্বর ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। নতুন গেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ। রাখি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় এটি নির্মাণ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ