ঢাকা, শনিবার 18 November 2017, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোবটকে কি ভালো-মন্দের বোধ শেখানো সম্ভব?

 

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: আর কিছুদিন পরই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়তো এমন গাড়ি রাস্তায় চলবে - যা আর মানুষকে চালাতে হবে না। একটি 'কম্পিউটার মস্তিষ্কওয়ালা' রোবটই চালাবে গাড়ি।

বিবিসির সংবাদদাতা ডেভিড এডমন্ডস লিখছেন, জাগুয়ার-ল্যান্ডরোভারের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার ড. এমি রিমার তাকে একটি চালকবিহীন গাড়িতে চড়িয়ে কিভাবে শহরে ঘুরেছেন।

তাকে শুধু একটি বোতাম টিপে গাড়িটি চালু করতে হলো। তার পর গাড়ি চলতে শুরু করলো, ট্রাফিক সিগন্যালে থামলো, ডানে-বাঁয়ে ঘুরলো, তার পর এক জায়গায় সুন্দরভাবে পার্কও করলো।

ড. রিমার বলছিলেন, আর এক দশকের মধ্যেই এরকম গাড়ি রাস্তায় নামবে। এখন চলছে তার কারিগরী বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কাজ।

তবে অনেকের প্রশ্ন : চালকবিহীন গাড়ির সমস্যা শুধুই যান্ত্রিক নয়, এর একটা নৈতিক দিকও আছে।

চালকবিহীন গাড়িতে ড. এমি রিমার

এটা উদাহরণ দেয়া যাক। ধরুন, একটি ট্রেন লাইনের ওপর পাঁচজন মানুষকে বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছে। একটি ট্রেন তার খুব কাছে চলে এসেছে। যেখানে লোকগুলো বাঁধা - তার আগে লাইনের ওপর আছে একটি ওভারব্রিজ। তাতে দাঁড়ানো দুজন লোক, তার একজনের সাথে একটা বিরাট ব্যাগ। একজন ভাবলো, ব্যাগওয়ালা লোকটাকে ধাক্কা দিয়ে লাইনের ওপর ফেলে দেয়া হলে লোকটা মারা যাবে ঠিকই, কিন্তু তার ব্যাগটা ট্রেনটাকে আটকে দেবে এবং তাতে লাইনের ওপরের পাঁচজন লোক বেঁচে যাবে। লোকটার কি এটা করা উচিত হবে?

এ প্রশ্ন করা হয় অনেককে। বেশির ভাগ লোকই জবাব দেন যে না, ৫ জনকে বাঁচানোর জন্য ব্যাগধারী লোকটিকে মুত্যুর মুখে ফেলে দেয়া উচিত হবে না।

এখন প্রশ্ন হলো - যদি একটি রোবটচালিত গাড়ি এ অবস্থায় পড়ে, তাহলে সে কি করবে? সে কি দুটি শিশুকে বাঁচানোর জন্য একটা মোটরবাইককে আঘাত করবে? বা পথচারীদের জীবন বাঁচাতে চালককে মারা যেতে দেবে?

পাঁচজনকে বাঁচাতে একজনকে মরতে দেয়া কি নৈতিক সিদ্ধান্ত?

রোবটচালিত গাড়ি যদি কোন দুর্ঘটনার সময় পথচারীদের জীবন বাঁচানোর জন্য ড্রাইভারের মৃত্যু ডেকে আনে - তাহলে সে গাড়িতে কি আপনি চড়বেন?

তা ছাড়া কে এই সিদ্ধান্ত নেবে? রাস্তায় চলমান গাড়ি কি করবে-না-করবে তার ওপর কি সরকার সিদ্ধান্ত নেবে? নাকি সেই সিদ্ধান্ত নেবে গাড়ি নির্মাতা? নাকি যে গাড়ি কিনবে - সে?

আপনি কি গাড়ির দোকানে গিয়ে বিক্রেতাকে প্রশ্ন করবেন, "আমাকে এমন একটা নীল রঙের গাড়ি দেখান তো, যেটা পাঁচজনকে বাঁচাতে একজনকে মেরে ফেলবে?"

রোবটের এই 'নৈতিকতা' নিয়ে ২০০৪ সালে এক সেমিনারও হয়েছিল। ড্রাইভারবিহীন গাড়ির মতো এখন এমন ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি হয়েছে যা শত্রুর পাল্টা আক্রমণের মুখে নিজে নিজেই দিক পরিবর্তন করবে। কিন্তু এরকম রোবট কি বানানো যাবে যে ছুরি হাতে একজন যোদ্ধা এবং ছুরি হাতে একজন সার্জনের পার্থক্য বুঝতে পারবে?

বুড়োবুড়িদের সাহায্য করে এই ছোট্ট রোবট

সুজান এন্ডার্সন এবং তার স্বামী মাইকেল দুজনেই কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তারা মনে করেন, রোবটকে নৈতিকতা শেখানোর উপায় হচ্ছে প্রথমে তাকে কিছু নীতি শেখানো - যেমন দুর্ভোগ এড়িয়ে চলো, সুখকে উৎসাহিত করো ইত্যাদি। এর পর মেশিন বিভিন্ন রকম পরিস্থিতিতে এই নীতিগুলো কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে তা শিখতে পারবে।

কেয়ারবট নামে একধরণের রোবট আছে যারা বয়স্ক মানুষদের বই বা খাবার এনে দিতে পারে, টিভি বা লাইট অন করে দিতে পারে। হয়তো একজন রোগীকে তার ওষুধ এনে দিতে পারে।

কিন্তু কোন রোগীর জীবন কখন বিপন্ন এটা বুঝে সাহায্য চাওয়া - এটা কি ভাবে রোবট করবে?

সুজান ও মাইকেল এন্ডারসন মনে করেন, রোবটের পক্ষে এসব ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করা সম্ভব।

রোবটকে নৈতিক শিক্ষা দিতে গিয়ে কি কোন বিপদ হতে পারে?

তবে মেশিনের শিক্ষাগ্রহণে সমস্যাও হতে পারে। তারা হয়তো ভুল জিনিস শিখে ফেলতে পারে। তাদের হয়তো এমন পক্ষপাত সৃষ্টি হতে পারে যা অসঙ্গত।

আরেকটা সমস্যা হলো শেখার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে রোবট কখন কি আচরণ করবে সেটার পূর্ব ধারণা পাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

হয়তো আগামিতে আরো অনেক বেশি কাজ মানুষের হয়ে রোবটই করে দেবে।

তাই মানুষের নিশ্চিত করতে হবে যে রোবটের মধ্যে যেন মানুষের মতো নানা রকম সংস্কার বা পক্ষপাত তৈরি না হয়।

তবে যেহেতু কি হবে বলা যায় না, তাই ভালো কিছুও তো হতে পারে। হয়তো রোবট নৈতিক প্রশ্নে মানুষের চেয়েও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে - এমনটাও হতে পারে।-বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ