ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

একতরফা পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

১৬ অক্টোবর, বিবিসি : উদ্বেগে হিলারি ক্লিনটন। না, তিনি নিজেকে নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি উদ্বেগে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে। তার ভয়, ক্ষোভের বশে ট্রাম্প একতরফাভাবে পারমাণবিক হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাকে আটকানোর সামর্থ্য কারো থাকবে না। কোন দেশে বা কোন অঞ্চলে ওই হামলা হতে পারে তা স্পষ্ট করে বলেন নি হিলারি। তবে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব বিরাজ করছে তাতে ধরে নেয়া যায় তিনি সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনাকাক্সিক্ষতভাবে হেরে যান ডেমোক্রেট দলের এই প্রার্থী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি লন্ডনের সাউথব্যাংক সেন্টারে বক্তব্য রাখছিলেন। সেখানে লন্ডন লিটারেচার ফেস্টিভাল চলছে। তাতে যোগ দিয়েছেন হিলারি। এ উৎসব চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত।
ওই উৎসবেই বক্তব্য রেখে হিলারি বলেন, ভুল হিসাব কিতাবের বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এ সময় হিলারি গত বছর তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত তার নির্বাচনী টিমের একটি বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।
ওই বিজ্ঞাপনে দেখা যায় সেনাবাহিনীর সাবেক একজন স্টাফকে। তার কাজই হলো পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জন্য হোয়াইট হাউজ থেকে নির্দেশ পাওয়া। ওই বিজ্ঞাপনে ওই যোদ্ধা সতর্ক করেছেন। বলেছেন, পারমাণবিক কোড যেন ট্রাম্পের হাতে দেয়া না হয়। হিলারি ক্লিনটন এ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রচুর মানুষ ভেবেছিল আমরা বুঝি অতিরঞ্জিত করছি। কিন্তু এখন! এখন আমরা উদ্বিগ্ন। উদ্বিগ্ন কংগ্রেসও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে এ বিষয়ে ক্ষমতা প্রত্যাহার করে নেয়া যাবে কিনা তা নিয়ে এই উদ্বেগ। এই ক্ষমতা তার কাছ থেকে সরিয়ে নেয়া হলে উত্তুঙ্গু এই সময়ে তিনি ফোন তুলতে পারবেন না, এখন (পারমাণবিক অস্ত্র) নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যিনি বসে আছেন তাকে কল করতে পারবেন না। হিলারি বলেন, এ বিষয়টি এর আগে আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এখন আবার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করলাম। এ জন্যই কংগ্রেসে উভয় দলের সদস্যরা চেষ্টা করছেন ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণে আনার।হিলারি বলেন, ট্রাম্পের মন্ত্রীপরিষদের সিনিয়র সদস্যরা একটি নতুন আইন উত্থাপনের জন্য কাজ করছেন। এই আইনের অধীনে একতরফাভাবে হামলা চালানো বন্ধ করা যাবে ট্রাম্পকে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে কিছুটা রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তাতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচআর ম্যাকমাস্টার, হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ জন কেলি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাত্তিস এরা তাকে থামানোর জন্য এ চেষ্টা করছেন।
ট্রাম্প কি পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেবেন, তিনি কি মনে করেন এ প্রশ্নের জবাবে হিলারি বলেন, এ নিয়ে আমি এখন উদ্বিগ্ন। আমার জীবদ্দশায় অন্য যারা প্রেসিডেন্ট ছিলেন তাদের সঙ্গে অনেক বিষয়ে আমার মতবিরোধ ছিল। কিন্তু এটা (পারমাণবিক ইস্যুতে) নিয়ে আমি কখনো উদ্বেগে ছিলাম না। এ জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটারা মিলে একটি পন্থা বের করার চেষ্টা করছেন। তারা হয়তো বলার চেষ্টা করছেন, পারমাণবিক হামলা চালাতে হলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ স্বাক্ষর লাগবে। কেউ কেউ তো বলছেনই যে, (কংগ্রেসের) যুদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।
সম্প্রতি দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে জনমত জরিপে। তবে হিলারি বিশ্বাস করেন, বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ডনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২০ সালের নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ জানাবেন রিপাবলিকানরা। তারা তাকে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হওয়া থামিয়ে দেবেন। হিলারি আরো অভিযোগ করেন, এরই মধ্যে ট্রাম্পের বিরোধিতা বা সমালোচনা করেন এমন সিনেটরদের উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে ট্রাম্প টিম। বিবিসির উপস্থাপক জিম নটি’কে জনাকীর্ণ অডিটোরিয়ামে সাক্ষাতকার দেন হিলারি। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অধিক হারে চ্যালেঞ্জ জানাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য মিডিয়াকে দায়ি করেন।
তিনি বলেন, তার মিথ্যা কথার বিরুদ্ধে প্রেস আরো ভাল করতে পারে। আমি এ জন্য এ নিয়ে সমালোচনা করছি, কারণ, খুব গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা গুরুত্বপূর্ণ খবর কাভারেজ করতে বা তথ্য প্রকাশ করা এড়িয়ে গেছে।
৬৯ বছর বয়সী হিলারি ক্লিনটন আবারো তার বদ্ধমূল বিশ্বাসের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যদি এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমি নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে তার প্রাইভেট ইমেইল তদন্ত নতুন করে শুরু করার ঘোষণা না দিতেন তাহলে হিলারিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকতেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ