ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দার্জিলিং থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে মমতার ক্ষোভ

১৬ অক্টোবর, পার্সটুডে : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করাতে গভর্নর কেশরিনাথ ত্রিপাঠির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান বিনয় তামাং।
গত রোববার তিনি পাহাড়ের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখার দাবিতে গভর্নরের কাছে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। বিনয় তামাং বলেন, ‘আমরা গভর্নরকে দার্জিলিং পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করেছি। সেখানে অস্ত্র উদ্ধার থেকে শুরু করে শান্তি স্থাপনের জন্য নেয়া পদক্ষেপ সবিস্তারে জানিয়েছি। দার্জিলিং ইস্যু নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সঙ্গে বৈঠকে রাজি সেকথাও গভর্নরকে জানানো হয়েছে।’ এদিকে, পাহাড় থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়ার বার্তা পৌঁছাতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 
গত রোববার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে ১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব। পাহাড়ে সম্প্রতি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং সমর্থকদের গুলিতে রাজ্য পুলিশের এক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পরে সেখানে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহারের খবরে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোববার সরাসরি ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা রাজনাথের কাছে সরাসরি বাহিনী প্রত্যাহারের কারণ জানতে চান। রাজনাথ তাকে বলেন, তিনি কিছুই জানতেন না। বিস্তারিত জেনে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কোম্পানির বদলে আপাতত ৭ কোম্পানি বাহিনী তুলে নেয়া হবে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়ার খবরে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার গুরুং শিবিরের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গোলযোগপূর্ণ দার্জিলিংয়ে বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনীর ১৫ কোম্পানি সিআরপিএফ ও এসএসবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এদের মধ্যে ৭ কোম্পানি প্রত্যাহার করা হলে সেখানে ৮ কোম্পানি বাহিনী থাকবে। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত আপাতত তাদের দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় রাখতে বলা হয়েছে।
পাহাড়ে সম্প্রতি এ কে সিরিজের স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, জিলোটিন স্টিক, ল্যান্ডমাইন, ডিটোনেটর, কার্তুজসহ প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আরও অস্ত্র সেখানে মজুদ করা আছে বলে প্রশাসনিক মহল মনে করছেন। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সেসব অস্ত্র উদ্ধার ও রাষ্ট্রবিরোধী ধারাসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত মোর্চা প্রধান বিমল গুরুংকে গ্রেফতার করার আগেই কেন্দ্রীয় সরকার কেন আচমকা সেনা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিল তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ