ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এনামুলের বোলিংয়ে জয় পেয়েছে সিলেট বিভাগ

স্পোর্টস রিপোর্টার : জাতীয় ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে সিলেট বিভাগ। গতকাল দুই স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র ও শাহানুর রহমানের অসাধারণ বোলিংয়ে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে সিলেট বিভাগ। ঢাকা মেট্রোকে সিলেট বিভাগ হারিয়েছে ১৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে। শেষ দিনে চতুর্থ ইনিংসে ৩২৪ রান তাড়ায় জয় অসম্ভব ছিল ঢাকা মেট্রোর জন্য। তবে দিনের সম্ভাব্য ৬৮ ওভার কাটিয়ে দিয়ে ম্যাচ ড্র করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এনামুল ও শাহানুরের ঘূর্ণিপাকে পড়ে ৪৯.২ ওভারে ঢাকা মেট্রো অলআউট হয়েছে মাত্র ১৩৩ রানে! প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫ উইকেট নিয়েছেন এনামুল। শাহানুর নিয়েছেন ৪ উইকেট। অপর উইকেটটি আরেক স্পিনার রাহাতুল ফেরদৌসের। প্রায় ৪ উইকেটের একটিও এনামুলের ছিল না। পঞ্চমটি দিয়ে শুরু। শেষের ৪টি নিয়ে পূর্ণ করেছেন পাঁচ উইকেট। ম্যাচে ১৫বেশিবার ইনিংসে ৫ উইকেটের রেকর্ড অনেক দিন থেকেই এনামুলের। এই ম্যাচের দুটি দিয়ে সেটা বেড়ে হলো ৩২ বার। ২৯ বার ৫ উইকেট নিয়ে এনামুলকের খুব কাছেই আছেন আরেক স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। এনামুলের ম্যাচে ১০ উইকেট হলো এই নিয়ে ৬ বার। রাজ্জাক অবশ্য এখানে তার থেকে এগিয়ে (৮ বার)। ওয়ালটন ১৯তম জাতীয় লিগে পাঁচ ম্যাচে এটি সিলেটের প্রথম জয়। তারা একটি করে ম্যাচ হেরেছে ও ড্র করেছে এবং দুই ম্যাচের ফল হয়নি। পাঁচ ম্যাচে প্রথম হার ঢাকা মেট্রোর। তারা তিনটি ম্যাচ ড্র করেছে, একটির ফল হয়নি। দ্বিতীয় স্তরের এই ম্যাচে প্রখম ইনিংসে সিলেটের ৩১৯ রানের জবাবে ঢাকা মেট্রো করেছিল ২৫৯ রান। ৪০ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল সিলেট।
তৃতীয় দিনের ৮ উইকেটে ১৭৮ রান নিয়ে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সোমবার শেষ দিনের খেলা শুরু করে তারা। শাহানুর ২৩ ও আবু জায়েদ ১১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দুজনই তুলে নেন ফিফটি। নবম উইকেটে এই দুজন গড়েন ১০২ রানের দারুণ এক জুটি। তাতে ৯ উইকেটে ২৬৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে সিলেট। শাহানুর ৫৮ ও আবু জায়েদ অপরাজিত ৫৩ রান করেন। ব্যাট হাতে কার্যকরী ইনিংস খেলার পর বল হাতেও জাদু দেখিয়েছেন শাহানুর। বড় লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা মেট্রোর টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনিই। প্রথম ছোবলটা দিয়েছিলেন অবশ্য রাহাতুল। তার বলে খালেদ আহমেদকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শামসুর রহমান। এরপর একে একে আসিফ আহমেদ, মার্শাল আইয়ুব ও মেহরাব হোসেন জুনিয়রকে ফিরিয়েছেন শাহানুর। তখন ৬৫ রানেই ৪ উইকেট নেই ঢাকা মেট্রোর! একটু পরেই সৈকত আলীকে অলক কাপালির ক্যাচ বানিয়ে পাঁচ উইকেটের মিশন শুরু এনামুলের। পরের ওভারে মোহাম্মদ আশরাফুলকে ফিরিয়েছেন শুধু শাহানুর। শেষের ৪ উইকেট নিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এনামুল। ইলিয়াস সানীর ৩৭ রান না হলে ঢাকা মেট্রোর একশও হয় না! সানীর অপরাজিত ৩৭ রানই ইনিংস সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রান সৈকতের। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে ১০ উইকেট নেওয়া এনামুল জুনিয়রের হাতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ