ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উপলব্ধির সোনালী বার্তা

পাকিস্তানের বিখ্যাত অভিনেত্রী এবং টিভি হোস্ট নূর বুখারী শোবিজ অঙ্গন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত তার অনেক সমর্থককে বিস্মিত করেছে। সম্প্রতি তিনি হিজাব পরিধান অবস্থায় কয়েকটি ছবি প্রকাশ করলে সংবাদপত্রে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ৩৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি ভবিষ্যতে কোন সিনেমা বা টিভি শো করছেন না। স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি এসব সিদ্ধান্ত নিলেন।
জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’কে বলেন, “আমি এমন একটি সময় অতিক্রম করছিলাম যেটি মানসিক আঘাত এবং অন্যান্য কষ্টের সঙ্গে জড়িত। আমি এ সম্পর্কে আর ভাবতে চাই না।” নূর বুখারী আরো বলেন, “ইসলামের পথে আসতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি আপনি চাইলেই বাছাই করে নিতে পারেন না বরং আল্লাহই আপনাকে পছন্দ করে নেন। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাকে পছন্দ করেছেন।” সিনেমা বা শোবিজ থেকে বেরিয়ে গেলেও নূর ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি একজন পরিবর্তিত নারী। আমার দর্শন পরিবর্তিত হয়েছে। আমার পরিশ্রম আমাকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। আমি আমার এই রূপান্তর সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি এই পথ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে চাই।”
নূর বুখারী বলেছেন, “ইসলামের পথে আসতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছি।” তাঁর এই বক্তব্য বিশ্লেষণ করতে গেলে কিছুটা অবাক হতে হয় বৈকি! একজন মুসলিম যখন বলেন, ইসলামের পথে আসতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি, তখন প্রশ্ন জাগে- মুসলিম হয়েও তিনি কি আগে ইসলামের পথে ছিলেন না? এখানে রহস্যের একটা ছায়া লক্ষ্য করা যায় এবং সেই রহস্যটা খুব সহজেই ভেদ করা যায়। আসলে মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেই কেউ আপনা আপনি মুসলিম হয়ে যায় না। কাউকে সত্যিকার অর্থে মুসলিম হতে হলে ইসলামকে জেনেবুঝে আমলের মাধ্যমে তা অর্জন করতে হয়। এ জন্য জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ করা হয়েছে। আসলে জ্ঞান ছাড়া মুসলিম হওয়া যায় না, আবার শুধু জ্ঞানের নামই ইসলাম নয়। তাই ইলম এবং আমলের সমন্বয়ের মাধ্যমেই আমাদের প্রকৃত মুসলিম হতে হবে। মহান সাহাবীদের জীবন থেকে এ ব্যাপারে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। নূর বুখারীর মধ্যে যথার্থ উপলব্ধি ঘটায় আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই। বিষয়টি বর্তমান বাস্তবতায় মুসলিম উম্মাহর জন্যও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। আদম শুমারিতে তো প্রতি বছরই মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু জ্ঞান ও চর্চার আলোকে প্রকৃত মুসলমানের সংখ্যা সেভাবে বাড়ছে কী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ