ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বর্মী প্রক্রিয়ায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত যেতে সময় লাগবে ২৫বছর

 

কামাল হোসেন আজাদ / শাহনেওয়াজ জিল্লু : সীমাহীন অত্যাচার-জুলুমের পর এবার বার্মা সরকারের নথিভুক্ত দৈনিক ১শ’ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার আগ্রহের কথা সেদেশেরসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। অর্থাৎ পরিকল্পনাও হয়েছে প্রতিদিন শত রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার বিষয়টি। সেখানে ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের বসতঘর অক্ষত না থাকলে তাদের ক্যাম্পে রাখা হবে বলেও দাবি করা হয় বার্মা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বার্মা সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর নিশ্চিত করেছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আইয়ি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, যাদের পরিচয় বার্মা সরকারের নথিতে থাকবে শুধুমাত্র তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। 

আল জাজিরার বরাত দিয়ে সংবাদে দাবি করা হয়েছে, বার্মা কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চলতি মাসের শেষ দিকে বৈঠকে বসবে। প্রতিদিন ১০০জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে বার্মার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আইয়ি বলেন, ‘আমাদের তাদের শনাক্ত করতে হবে যারা সঠিক। তাদের নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে। যদি তাদের বাড়ি সেখানে না থাকে তাহলে আপাতত তাদের জন্য নির্মিত অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হবে।’ দিনে মাত্র ১০০জন রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়া বিষয়ক বার্মার পরিকল্পনার কোন প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত আসেনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। এ বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার মেনে নেবে কিনা তাতেও সন্দেহ রয়েছে। কেননা বাংলাদেশে আশ্রিত নতুন-পুরনো প্রায় ৯ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে এ প্রক্রিয়ায় ফেরত নিলে প্রায় ২৫ বছর সময় অতিবাহিত হবে। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গাদের রাখা এবং কচ্ছপ গতির প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সম্মতি থাকবেনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

রোহিঙ্গা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকার মেনে নিলেও রোহিঙ্গারা তা মানবেনা। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব শর্ত পূর্ণ হলে মাত্র তারা স্বদেশে ফেরত যাবে। স্বদেশে কোন ক্যাম্পে গিয়ে বাস করার ইচ্ছাও নেই তাদের। নাগরিকত্ব দিয়ে নিজ পৈতৃক ভূমি ফিরিয়ে দিলে নিজের ঘর নিজে তৈরী করে নিবে রোহিঙ্গারা। বসতঘর তৈরীতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।

বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রিত তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে বর্মী বাহিনী। সরকার এখন তাদের ঘরবাড়ি না থাকার অজুহাতে ক্যাম্প বন্দী করতে চাইছে। বার্মায় ২০১২সাল থেকে ১লাখ ৪০হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে জোরপূর্বক ক্যাম্পবন্দী করে রেখেছে বলে জানান বিশ্লেষকরা।

মিয়ানমারের ২০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ স্থগিত করলো বিশ্বব্যাংক

রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষের ওপর জাতিগত নিধনের প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের ২০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ স্থগিত করেছে বিশ্বব্যাংক।  রাখাইন পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পর রেহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ জানিয়ে শুক্রবার ওয়াশিংটনে এক বিবৃতিতে এসব জানায় বিশ্বের এই শীর্ষ ঋণদাতা সংস্থা। উন্নয়ন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্লাটফর্মভিত্তিক ডেভেক্স-এর ওয়েবসাইটে বিশ্বব্যাংকের বিবৃতির বরাত দিয়ে ঋণ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক জানায়, ‘সম্প্রতি মিয়ানমারের জন্য অনুমোদিত উন্নয়ন সংক্রান্ত ঋণের সবশেষ পরিস্থিতি আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি। সার্বিক বিচারে আমাদের মনে হয়েছে, ওই ঋণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতে সেখানকার পরিস্থিতির আরও উন্নতি হওয়া দরকার।’

২৫ আগস্ট সহিংসতার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। সেনাবাহিনীর হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তাদের কাছ থেকে জানা যায় সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র। যারা পালিয়ে আসতে পারেনি তারাও রয়েছেন ভয়াবহ দুর্দশায়। রাখাইনে কোনও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাকেও প্রবেশ করতে দিচ্ছে না মিয়ানমার সরকার। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে সেই মানবিক বিপর্যয়ের গল্প। বিশ্বব্যাংকের সেই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বৈষম্যহীনতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সবার জন্য অর্থনৈতিক সুযোগের মৌলিক নীতির জন্য একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে, আমরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা, রাখাইনের ধ্বংসযজ্ঞ এবং তাদের উচ্ছেদ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বিশ্বব্যাংক।  মিয়ানমার সরকারকে তারা পরিস্থিতি সংকট উত্তরণ এবং  মানবিক আর্তির প্রতি দৃষ্টি দিয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওযার আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করেছে। বিশ্ব আর্থিক সংস্থাটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

আইপিইউ-এর আসন্ন অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে ‘রোহিঙ্গা পরিস্থিতি’

আইপিইউ-এর (ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন) আসন্ন অধিবেশনে ‘রোহিঙ্গা পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হবে। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবাগে ওই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। রুশ বার্তা সংস্থা তাস আইপিইউ-এর ১৩৭তম অধিবেশনের এজেন্ডায় রোহিঙ্গা ইস্যু স্থান পাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে।

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন- আইপিইউ ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বৈশ্বিক আন্তঃসংসদীয় প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের ১৭৩ টি দেশের জাতীয় সংসদ ওই ইউনিয়নের সদস্য। প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি ছিল স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের জন্য। পরে এটি সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক সংস্থায় রূপান্তরিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আলোচনার জন্য এটিই প্রথম স্থায়ী ফোরাম। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আইপিইউ এর স্থায়ী পর্যবেক্ষক মর্যাদা রয়েছে।

সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে আইপিইউ জানিয়েছে, ১৭৩টি দেশের ৮০০ পার্লমেন্ট সদস্য আর ৮৬ জন স্পিকারসহ ২০০০ প্রতিনিধি সংস্থাটির ১৩৭তম অধিবেশনে অংশ নেবেন। বহুসংস্কৃতিবাদ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব আর টেকসই উন্নয়ন এবারের অধিবেশনের মূল আলোচ্য হিসেবে র্নিধারিত হয়েছে। নয়া প্রযুক্তি আর অভিবাসনের কারণে বিশ্বজুড়ে যখন মানুষে মানুষে সম্পর্কিত হওয়ার সুযোগ যখন বাড়ছে তখন এর সমান্তরালে বাড়ছে অসহিষ্ণুতা-ভীতি আর চরমপন্থা। আইপিইউ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আসন্ন অধিবেশনে এসবের বিস্তৃতিকে রুখতে সমাধান খুঁজবেন পার্লামেন্ট সদস্যরা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইমামতি করলেন মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তাদের সঙ্গে জোহরের নামায আদায় করেছেন । এ সময় তিনি নামাযে ইমামতি করেন। আমাদের সময়.কম।

এর আগে গতকাল সোমবার সকালে বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছান। কক্সবাজার বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) কামরুল আহসান। বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন তিনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে আহমাদ জাহিদ হামিদি জানান, মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ফিল্ড হাসপাতাল বানিয়ে দেবে মালয়েশিয়া। ২-৩ মাসের মধ্যে এই হাসপাতাল তৈরি করে দেয়া হবে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার নির্যাতন বন্ধ করতে এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগ করার জন্য আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানান। এ সময় মালয়েশিয়ার মানব উন্নয়ন মন্ত্রী রিচার্ড রিওদও উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ