ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম ও সিলেটে ছাত্রলীগ দুই  গ্রুপের কোন্দলে এক কর্মী খুন

 

 

সিলেট ব্যুরো : গত ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মাছুম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী খুন হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল সোমবার বিকেলে আবারও আরেক ছাত্রলীগ কর্মী খুন হয়েছেন। সিলেটে এক মাসের মাথায় ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২ খুন হয়েছে। আজাদ গ্রুপের কর্মীদের হাতে এক মাসে ২ ছাত্রলীগ কর্মী খুন হওয়ায় রেষারেষি প্রকট আকার ধারণ করেছে। গতকাল সোমবার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে নগরীর টিলাগড়ে নিজ দলের কর্মীদের হাতে ছুরিকাঘাতে ওমর আহমদ মিয়াদ নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো দুজন। মিয়াদ রঞ্জিত গ্রুপের কর্মী বলে জানা যায়। নিহত মিয়াদের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার বাড়িশ্রী গ্রামে। কৃষক আকুল মিয়ার ৩ মেয়ে ও ২ ছেলের মধ্যে মিয়াদ ২য়। সে নগরীর লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র।  

গতকাল বেলা ৩টার দিকে টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন মসজিদ গলিতে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী এবং হামলার শিকার দুটি পক্ষই টিলাগড় কেন্দ্রিক কাউন্সিলর আজাদ গ্রুপ ও এডভোকেট রঞ্জিত গ্রুপ নামের  ছাত্রলীগের দু’টি গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। নিহত মিয়াদ সিলেটের বেসরকারি লিডিং ইউনিভার্সিটিতে এলএলবি বিভাগে অধ্যায়নরত ছিল বলে জানা যায়। আর আহতরা হচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য নাজমুল ও ছাত্রলীগ কর্মী নাসিম। তারা সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ৪র্থ তলায় সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনাস্থলে নিহত মিয়াদকে ওসমানী হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পিতা আকুল মিয়া খবর পেয়ে ওসমানী হাসপাতালে তার পুত্র মিয়াদকে জীবিত দেখতে না পেয়ে আহাজারি করছেন আর বলছেন, আমার পুত্র হত্যার বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম। তিনি যেন বিচার করেন। আকুল মিয়ার কান্না যেন থামছে না।  সিলেটে এসএমপি পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মুসা  দৈনিক সংগ্রামকে জানান, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের কোন্দলের জের ধরে ছুরিকাঘাতে মিয়াদ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ২ জন। এসএমপি শাহপরাণ থানার ওসি আক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই রয়েছেন। তিনি জানান, মিয়াদ খুনের পর যে কোন মুহূর্তে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ার আশংকা রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আজাদ গ্রুপের কর্মীদের হাতে রঞ্জিত গ্রুপের কর্মী মাছুম নিহত হয়। মাছুমের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলাকায়।

 

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

চট্টগ্রাম অফিস : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার  সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৫ জন আহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়নত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে ও বিবদমান পক্ষ দুটোকে দুই দিকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে জানা গেছে।

ছাত্রলীগের বিদ্যমান দুইপক্ষের একটি গ্রুপ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিমের সমর্থক। অপরপক্ষ বৈদেশিক কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি’র অনুসারী যুবলীগ নেতা টিনুর সমর্থক  বলে জানা গেছে।

কলেজ সূত্র জানায়,গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে যুবলীগের টিনুর অনুসারীদের একজন কলেজের মূল ফটক সংলগ্ন ব্যাংকের কাছে এলে তাকে ছাত্রলীগের অপর পক্ষের ছেলেরা মারধর করে। এরপর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের মধ্যে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই পক্ষই মুখোমুখি হয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষের সময়  ছাত্রলীগ কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের গায়ে লাগে। এ সময়  পুলিশ ধাওয়া দিয়ে মাহমুদুল করিমের অনুসারীদের গণি বেকারির দিকে এবং টিনু অনুসারীদের চকবাজারের দিকে সরিয়ে দেয়। এরপর বেলা পৌনে ১২টার দিকে টিনু অনুসারী সুভাষ মল্লিকের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা লাঠিশোঠা নিয়ে কলেজ রোডে কয়েক দফা মিছিল করে অপর পক্ষকে ধাওয়া দেয়। পুলিশ তাদের কাছ থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে সরিয়ে দেয়। পরে সুভাষের অনুসারীরা আবার কলেজের পশ্চিম গেইটের কাছে জড়ো হয়। তখন পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের চকবাজারের দিকে সরিয়ে দেয়।বেলা সোয়া ১২টার দিকে মাহমুদুল করিমের অনুসারীরা মিছিল নিয়ে একই এলাকায় আসতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা করে।  পুলিশের লাঠিপেটায়  অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছে বলে ছাত্রলীগ কর্মীরা দাবী করে । এরা হলেন- চট্টগ্রাম কলেজের   গিয়াস উদ্দিন (২৬), রাহুল শীল (২৪) এবং হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের   হানিফ সুমন (২০) ও   আল রিয়াদ (১৮)।আহতদের আঘাত তেমন গুরুতর নয় বলে চমেক সুত্র জানায়। এছাড়া ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় ইটের আঘাতে আরও ৬ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ছাত্রলীগ নেতা সুভাষ মল্লিক সবুজ  বলেন, মাহমুদুল করিমের ছেলেরা গতকাল আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে দেয়। এ নিয়ে গতকাল সমস্যা সৃষ্টি হয়। আগেও আমাদের ওপর হামলা হয়েছে।আজ সকালে তারা ক্যাম্পাসে এসে আমাদের পক্ষের ছয়জনকে মারধর করে।

 ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম   বলেন, বহিরাগতদের ইন্ধনদাতা টিনুর অনুসারীরা ক্যাম্পাসে অস্থিতিশলীতা সৃষ্টি করেছে এবং আমাদের উপর হামলা করেছে।

 চকবাজার থানার ওসি নুরুল হুদা   বলেন, ‘রবিবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ সোমবার আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ