ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে হাজতির মৃত্যু॥ নির্যাতনের অভিযোগ

 

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : গত বুধবার মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের হাজতি পাতানা মাদ্রাজী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবারের অভিযোগ শারীরিক নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের বাজার লাইন এলাকার চা শ্রমিক মৃত মিনু মাদ্রাজীর ছেলে। কারা কর্তৃপক্ষ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পাত্রখোলা চা বাগান সূত্রে জানা যায়, মাস দু-এক আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাত্রখোলা চা বাগানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে পাতানা মাদ্রাজীর বসতঘর থেকে প্রচুর পরিমাণ দেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাতানা মাদ্রাজী পালিয়ে যায়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তার নামে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করে। মামলার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে পাতানা মাদ্রাজী অসুস্থ হলে তাকে প্রথমে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়। নিহতের ছোট ভাই হরি মাদ্রাজী অভিযোগ করেন, পুলিশ তার বড় ভাইকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় গ্রেফতার করে। এর পর তারা আর কোনো খোঁজ পাননি। গত বৃহস্পতিবার তারা জানতে পেরেছেন, অসুস্থ অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। হরি মাদ্রাজী আরও জানান, হয়তো বা গ্রেফতারের পর পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তার ভাইকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। সে নির্যাতনেই অসুস্থ হয়ে পরে মারা গেছেন। 

পাত্রখোলা চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি দেবাশীষ চক্রবর্তী (শিপন) ও সাধারণ সম্পাদক আমুল মিয়া বলেন, এ মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সাধারণ চা শ্রমিকরা মনে করেন, কোনো না কোনো নির্যাতনে পাতানা মাদ্রাজী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাই প্রথমে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল ও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

মৌলভীবাজারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, ৮ অক্টোবর রাত পর্যন্ত তিনি ভালো ছিলেন। ৯ অক্টোবর তার শরীর খারাপ হয়। অতিরিক্ত মদ্যপানজনিত রোগসহ একাধিক রোগে ভুগছিলেন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। জেল সুপার চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাতানার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।   

কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. বদরুল হাসান জানান পাতানা মাদ্রাজীকে, কোনো রকম পুলিশি নির্যাতন করা হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ