ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠিতে সোয়াইন ব্লু নারিকেল মাল্টা সবজি ও মাছ চাষে সফলতার হাতছানি

 

মোঃ আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি ঃ ঝালকাঠির সদর উপজেলার কির্ত্তীপাশা ইউনিয়নের বেশাইনখান গ্রামে ৩ বিঘা সম্পত্তিতে সর্জন পদ্ধতিতে সোয়াইন ব্লু নারিকেল, মাল্টা, লাউ, করল্লা, ধুন্দুল, শসা ও মাছের চাষ নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘এশা ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচার’ নামে মিশ্র খামার। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের কবল থেকে গাছ ও নারিকেল রক্ষায় ঝালকাঠিতে ভিয়েতনামের খাটো জাতের সিয়াম ব্লু নারিকেল গাছের এ চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এ খামারে নারিকেল চারা রয়েছে ১৮০ টি। নারিকেল গাছের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে মাল্টা, লাউ, করল্লা, ধুন্দুল ও শসার। এসব ফসলের কাঁদির ফাঁকে রয়েছে মাছের অভয়ারণ্য। ঝালকাঠিতে ভিয়েতনামের খাটো জাতের সিয়াম ব্লু নারিকেল গাছের খামার বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে সর্ববৃহৎ হওয়ায় পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও কৃষি অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ৭ অক্টোবর যুগ্ম সচিব ফরিদা জাহানের  নেতৃত্বে কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং ১৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসক মোঃ হামিদুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আতাহার আলী মিয়া এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ তাজুল ইসলাম। ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেশাইন খান গ্রামে কৃষক মো. মাহাফুজুর রহমানের মিশ্র খামারে পরিদর্শন করেন। এ সময় খামারটির বিভিন্ন সফলতা ও সম্ভাবনার বিষয়ে সার্বিক খোঁজ খবর নেন। নারিকেল গাছের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে মাল্টা, লাউ, করল্লা, ধুন্দুল, শসা ও কাঁিদর ফাঁকে মাছের চাষ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্থ দাস জানান, কৃষক মাহফুজুর রহমান একর জমিতে গড়ে তুলেছেন এই মিশ্র খামারটি। ছয় মাস আগে ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ভিয়েতনামের খাটো জাতের সিয়াম ব্লু ১৮০টি নারিকেল গাছের চারা কিনে রোপণ করেন তিনি। বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় এই নারিকেল গাছের কোনো ক্ষতি হবে না। চারা রোপণের তিন বছরের মধ্যে ছোট অবস্থাতেই গাছে নারিকেল পাওয়া যাবে। খামারটির খোঁজখবর নিতে আছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফরিদা জাহান, কৃষি অধিদপ্তরের বরিশালের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওমর আলী শেখ, ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মো. আবু বকর সিদ্দিক, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস শুক্কুর মোল্লা। কৃষি মন্ত্রীর নির্দেশে খামারটি পরিদর্শন করার কথা জানিয়েছেন যুগ্ম সচিব ফরিদা জাহান। এদিকে প্রতিদিনই অসংখ্য বেকার যুবক খামারটি দেখতে বেশাইন খান গ্রামে ছুটে যাচ্ছেন। তারা খামারের মালিক মাহফুজুর রহমানের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এই ধরনের মিশ্র খামার করার পরিকল্পনা করছেন। শ্রমিক আনসার আলী জানায়, এই নারিকেল খামারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন পাঁচজন শ্রমিক। তারা এ খামারে কাজ করে পরিবার নিয়ে ভালো ভাবে চলছে। কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে নারিকেল গাছের পাশাপাশি চাষ করছেন সাথি ফসল মাল্টা, লাউ, করল্লা, ধুন্দুল ও শসার। আর এসব ফসলের কাঁদির ফাঁকে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য। মাহফুজের মিশ্র খামারটি দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। লাউ, করল্লা, ধুন্দুল ও শসা বিক্রি করে এ খামার থেকে ইতোমধ্যেই সপ্তাহে দশ হাজার টাকা আয় হচ্ছে মাহফুজের। তিন বছর পরে তার এ খামারের নারিকেল এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যাবে। ঝালকাঠির সদর কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চাষীকে নারিকেল গাছের চারা সরবরাহ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভিয়েতনামী সিয়াম ব্লু জাতের নারিকেল বাগান বাংলাদেশের মধ্যে এটিই সর্ববৃহৎ্। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ আবু বকর ছিদ্দিক মিশ্র এই খামারটি এক সময় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নারিকেল ও সবজির চাহিদা মেটানো যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। 

জেলা প্রশাসক মোঃ হামিদুল হক খামারের প্রশংসা করে জানান, কৃষক মাহফুজুর রহমান’র মিশ্র খামার অনুকরণিয় দৃষ্টান্ত। ফল, সবজি ও মাছ সকল ধরনের পুষ্টি উপাদানের সমারোহ ঘটবে এখানে। আমি এ উদ্যোক্তা ও খামারের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ