ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অবশেষে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ নীতির খসড়া অনুমোদন ॥ অর্থ খরচ হবে ১৪ খাতে

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে মন্ত্রিসভা বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি- ২০১৭’। জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিটি অনুমোদিত হওয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তামাকবিরোধী সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল  সোমবার সকালে সচিবালয়ের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার এ বছরের ১৯তম ও বর্তমান সরকারের ১৬০তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা।
উক্ত বৈঠকে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি ২০১৭’ এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া চার পৃষ্ঠার এ নীতিমালায় আদায়কৃত সারচার্জ তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবছর এ খাতগুলোতে ওই টাকা ব্যয় করা হবে। এরমধ্যে তামাক চার্জযুক্ত চাষিদের ভর্তুকি প্রদান ও অন্য ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন, তামাকজনিত সংক্রমক রোগ প্রতিরোধসহ নানা কারণে এ নীতিমালা তৈরি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বৈঠক শেষে দুপুর দুইটার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে আরো বলেন, তামাক পণ্যের উপর এক শতাংশ হারে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ থাকলেও এই অর্থ খচরের কোনো নীতি ছিল না, এখন এটা নীতিমালার আওতায় এলো। নীতিমালা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ হিসেবে পাওয়া অর্থ ১৪টি খাতে খরচ করা যাবে। এর মধ্যে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কার্যক্রম পরিচালনা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে টাস্কফোর্সসহ অন্যান্য কাজ বাস্তবায়নে সহায়তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে টোবাকো ট্যাক্স সেলের কার্যক্রম পরিচালনা, তামাকের ক্ষতিকারক দিক নিয়ে প্রচার ও প্রশিক্ষণ এবং তামাকের ব্যবহার, ক্ষয়ক্ষতি ও গবেষণায় এই অর্থ খরচ করা যাবে।
এছাড়া তামাকবিরোধী আইন নিয়ে সচেতনামূলক কার্যক্রম, তামাকজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কর্মরত সংস্থাগুলোর জন্য আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা, তামাক চাষরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তামাক চাষীদের বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতেও এই অর্থ খরচ করা যাবে বলে জানান সচিব শফিউল আলম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ২০৪০ সালের মধ্যে ধুমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার টার্গেট রেখে এই কার্যক্রম চলছে। ২০১৪ সালের জুলাই আমদানি করা ও দেশে তৈরি তামাকজাত সব ধরনের পণ্যের উপর এক শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করা হয়। এই খাত থেকে বছরে ৩শ’ কোটি টাকা আসে, যা স্বাস্থ্য খাতেই খরচ করা হয়।
এদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিটি চূড়ান্ত করতে তামাকবিরোধী সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে এসেছে। ২০১৪-’১৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য বিবেচনায় সকল তামাকপণ্যের উপর ১ শতাংশ হারে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ৩০-৩১ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-এশীয় স্পিকার সম্মেলনে সারচার্জের অর্থে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দেন। তবে সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি না থাকায় ২০১৬-’১৭ অর্থবছর পর্যন্ত এখাতে প্রায় ৯শ’ কোটি টাকা আদায় হলেও এই অর্থ ব্যবহার করা যায়নি। এই নীতি চূড়ান্তকরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এনটিসিসি’র ভূমিকা অত্যন্ত ইতিবাচক। এছাড়াও তামাকবিরোধী আন্দোলনকর্মীদের অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং গণমাধ্যম বিশেষ করে এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স- আত্মা’র জোরালো অবস্থান এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, সারচার্জ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয়ের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১৫ সালে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি’ এর খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। খসড়াটির ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত মতামত সন্নিবেশিত করে গত  বছর ডিসেম্বর মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে এই খসড়া নীতির ওপর সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি এটি আন্ত:মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অনুমোদন পায়। সর্বশেষ, গতকাল খসড়া নীতিটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে তা চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।  বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১১টি দেশে তামাকপণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক হিসেবে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আদায় করা হয় এবং আদায়কৃত অর্থ তামাক নিয়ন্ত্রণসহ নানাবিধ কাজে ব্যয় করা হয়। এসব দেশগুলোর মধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভিয়েতনাম, কাতার, মঙ্গোলিয়া, লাওস, আইসল্যান্ড ও এস্তনিয়া অন্যতম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ