ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আড়াই ঘণ্টা বৈঠকের পর সিইসির পদত্যাগ দাবি করে সংলাপ বর্জন কাদের সিদ্দিকী

স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা’ বলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। গতকাল সোমবার ঢাকার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে যোগ দেওয়ার পর আড়াই ঘণ্টার সংলাপ শেষে বেরিয়ে এসে সংলাপ বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির প্রধান কাদের সিদ্দিকী। এদিকে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন চেয়েছে সাম্যবাদী দল।
দুপুর ২টার দিকে সংলাপ থেকে বেরিয়ে এসে কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনে আমাদের বক্তব্য অব্যাহত রাখতে পারি নাই। আমরা আলোচনা বয়কট করে চলে এসেছি।
ইসির ধারাবাহিক সংলাপের ৩৪তম দল ছিল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে প্রথমবারের মত এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হল নূরুল হুদার কমিশন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা আলোচনা বয়কট করেছি এই জন্য যে, যদি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে থাকে, তাহলে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কেউ না কেউ হত্যা করেছে। তাহলে সেই হত্যা করা, বাতিল করা, স্থগিত করা বা নির্বাসনে দেওয়া গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে জিয়াউর রহমান। তার (সিইসি) এই বক্তব্যের সাথে আমরা একমত না।”
সিইসিকে একটি ‘নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, “সিইসি এ কথা বলতে পারেন না যে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন আর শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। তাই আমি মনে করি, সিইসির এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা উচিত। তিনি অত্যন্ত কঠিন একটা বেহিসাবি কথা বলেছেন।”
আগের দিন বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসে দলটির নেতা সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা।
এরপর সূচি অনুযায়ী কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ২৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল সোমবার সকালে সংলাপে যোগ দিতে ইসিতে আসে। সিইসি কে এম নূরুল হুদা, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পরে বেরিয়ে এসে কাদের সিদ্দিকী বলেন, পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনে সিইসি বাকি চারজনের সঙ্গে ‘আলোচনা না করে একাই’ জিয়াকে নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। দেশে যে লড়াই সে সেটি গণতন্ত্রের লড়াই। সে লড়াই মানুষের অধিকারের লড়াই। সেই জন্য আমাদেরকে ডাকা। এই আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করলেও সেটাকে আমরা স্বীকার করতে পারছি না।”
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস, ভোটের সময় সেনা মোতায়েন, ইভিএম চালুসহ ১৮ দফা সুপারিশ করেছে বলে জানান দলটির সভাপতি।
‘পরে বলবেন’ সিইসি
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সংলাপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিকাল ৩টায় সাম্যবাদী দলের সঙ্গে বসে নির্বাচন কমিশন। সিইসি সম্মেলন কক্ষে প্রবেশের সময় সাংবাদিকরা কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চান ।
প্রথমে চুপ থাকলেও এক পর্যায়ে সিইসি বলেন, “এ বিষয়ে এখন কোনো কথা বলব না, পরে কথা বলব।”
বর্তমান সরকারের অধীনে
নির্বাচন চায় সাম্যবাদী দল
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল)।
গতকাল সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে  সংলাপে অংশ নিয়ে এমন সুপারিশ করেছে দলটি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে দলটির সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
সংলাপ শেষে দিলীপ বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসময় সংসদ বিলুপ্তির কোনো প্রয়োজন নেই বলে আমরা সুপারিশ করেছি।
এছাড়া দলটি নতুন আদমশুমারি প্রতিবেদন না থাকায় বিদ্যমান সংসদীয় আসনেই একাদশ সংসদের ভোট সম্পন্নকরণ, সেনা না মোতায়েন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী ও জামায়াতের প্রতিনিধিদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও যাতে ভোট করতে না পারে সে বিধান প্রণয়ন, ধর্মীয় মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে লালন-পৃষ্ঠপোষকতা করে এমন দলের নিবন্ধন বাতিল, ইভিএম চালু, ইসির নিজস্ব জনবল নিয়োগ, স্বাধীন ইসি গঠন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার, না ভোট চালু, প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার বন্ধ, অনলাইনে মনোনয়ন ও নিবন্ধিত দলকে রাষ্ট্রীয় অনুদান প্রভৃতি বিষয়ে সুপারিশ করেছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল ইসি। এরপর গত ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
সংলাপে আসা সুপারিশগুলোর মধ্যে সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন, বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, নবম সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, সেনা মোতায়েন, না ভোটের প্রবর্তন, প্রবাসে ভোটাধিকার প্রয়োগ, জাতীয় পরিষদ গঠন, নির্বাচনকালীন অস্থায়ী সরকার গঠন, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচনের সময় সংসদ ভেঙে দেওয়া, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও নির্বাচনকালীন সময়ে ইসির অধীনে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, দলের নির্বাহী কমিটিতে বাধ্যতামূলকভাবে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান তুলে নেওয়া ইত্যাদি অন্যতম।
১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) সঙ্গে বসবে নির্বাচন আয়োজনকারী এই কর্তৃপক্ষ।
এবারের সংলাপ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ অক্টোবর। এক্ষেত্রে ২২ অক্টোবর নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে, ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রীদের সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ