ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চোরাচালান ও মাদক পাচারে নয়া কৌশল

খুলনা অফিস : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভারত থেকে চোরাই পথে আনা চোরাচালানী পণ্য পাচারে নতুন রুট ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপদে চোরাই পণ্য পাচারে নেয়া হচ্ছে নানা কৌশল। মাদক পাচার ও বিক্রিতেও কৌশল বদল করা হয়েছে। আর এসব নয়া রুট ও কৌশল ব্যবহারে পুলিশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে ও সরেজমিন যেয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
সুত্রে আরও জানা যায়, আগে ভারতীয় অবৈধ পণ্য সীমান্ত এলাকা থেকে সাতক্ষীরা হয়ে চুকনগরের ওপর দিয়ে খুলনা শহরে পৌঁছাতো। বর্তমানে চুকনগরের পাশ দিয়ে গৌরিঘোনার মধ্যদিয়ে শোলগাতিয়া ব্রিজ পার হয়ে খুলনা শহরে চোরাচালানী পণ্য পাচার হচ্ছে।
ওই সূত্রটির দাবি চোরাচালানী পাচারে রয়েছে, একটি শক্তিশালী চক্র। বর্তমানে সাতক্ষীরার চোরাচালানী জাহাঙ্গীর নারকেলতলা এলাকা থেকে মাহেন্দ্রা বা ছোট পিকআপে করে এসব পণ্য বোঝাই করে নিজ দায়িত্বে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করে কলারোয়া এলাকার লিটন। খুলনায় ঠুন্ডো বাবুল ও গোপাল এসব মালামাল বুঝে নেয়। তাদের দায়িত্বে কিছু চালান আবার ফকিরহাটেও যায়। ফকিরহাটের এক জনপ্রতিনিধির ছেলে ওই পণ্য পাচারে জড়িত বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ওখান থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব পণ্য পাচার করা হয় বলে সূত্রটি দাবি করে। সীমান্ত থেকে খুলনা শহর হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এব পণ্য নিরাপদে পৌঁছাতে প্রশাসনের বিভিন্ন  স্তরে মোটা অংকের উৎকোচ দিতে হয়।
চুকনগর থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত এসব পণ্য নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য ডুমুরিয়া থানা পুলিশকে মাসে এক লাখ টাকা দেয়া হয় বলে ওই সূত্রটি জানায়। সকল মালামাল নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষে দায়িত্ব পালন করছে ডুমুরিয়া থানার কথিত ক্যাশিয়ার মাহাবুর। থানা পুলিশের সদস্যরা রাস্তায় চেকিংয়ের নামে অবস্থান করে এসব পণ্য পাচারে সহযোগিতা করছে বলেও বেশ কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে। ডুমুরিয়া থানায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত এস আই সিরাজ চোরাই পণ্য পাচারে সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে। তিনি বদলী হলেও আবার কয়েক দিনের মধ্যেই এ থানায় এসে পুনরায় যোগদান করেন।
জানা গেছে, নগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষে সহযোগিতার জন্য কাজ করে চোরাকারবারী জিরে জামাল ওরফে ডাকাত জামাল। তিনি হরিণটানা, লবণচরা ও নগর ডিবির পক্ষে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে বলে সূত্রটি জানায়। 
ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিল হোসেন বলেন, তার থানায় কোন ক্যাশিয়ার নেই। তিনি মাহাবুর নামে কাউকে চেনেন না বলে দাবি করে বলেন, চোরাচালানী পণ্য পাচারে পুলিশের কেউ জড়িত নেই। যদি এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তবে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাদের তৎক্ষণাত অবহিত করা হবে।
চোরাচালানীর সাথে অভিযুক্ত এস আই সিরাজ তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে চোরাচালানী রোধে আমরা বিভিন্ন রুটে অভিযান পরিচালনা করেছি।   
হরিণটানা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে চোরাচালানীরা এই রুটটা কম ব্যবহার করছে। আর এই থানায় ক্যাশিয়ার বলে কিছু নেই, সেক্ষেত্রে জামাল বা জিরে জামাল বলে কাউকে চেনার প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে মাদক চোরাচালানীতে কৌশল বদল হয়েছে। বিক্রয়কারীরাও কৌশলে মাদক বিক্রি করছে। তারা ক্ষুদ্র চালান সরবরাহে যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করে থাকে আর বড় মাপের মাদক চালানগুলো পাচার করে বিভিন্ন কোম্পানির কার্ভাড ভ্যান, পিকআপ ও খালি ট্রাকের মাধ্যমে। আর এসব মাদক মুঠোফোনের মাধ্যমে বিকিকিনি হয়ে থাকে। বিকাশে টাকা পেমেন্টের পর কথামত মাল জায়গায় পৌঁছে যায়।
ডুমুরিয়া থানার তালিকা অনুয়ায়ী উপজেলায় ১৩ জন মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। এরা হলো উপজেলার কাগজিপাড়া গ্রামের নেছার আলী শেখের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৩), উলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রিঠন শেখ (৩৬), ডুমুরিয়া সদরের আফছার আলী গাজীর ছেলে মফিজুর রহমান গাজী ওরফে মফি গাজী (৪০), গুটুদিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার কাশেম গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান গাজী (৪২), দক্ষিণ ডুমুরিয়ার শহিদুল বিশ্বাসের ছেলে আপেল বিশ্বাস (২৬), শাহ্পুর গ্রামের শফি আকুঞ্জি’র ছেলে ইলিয়াস আকুঞ্জি (৪৯), চুকনগর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে জুম্মান ওরফে নজরুল ইসলাম (৪১), আরাজি সাজিয়াড়া গ্রামের জামাল বিশ্বাসের ছেলে আহম্মদ বিশ্বাস (৪৭), কাগজিপাড়া গ্রামের খালেক শেখের ছেলে ইমদাদুল শেখ (৪৭), ডুমুরিয়া সদরের মজিদ বিশ্বাসের ছেলে মুকুল বিশ্বাস (৪১) কাঞ্চনপুর গ্রামের তাইজুল মাহমুদের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৩২) একই গ্রামের শের আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান (৩৫) ও রস্তমপুর গ্রামের মোসলেম মোড়লের ছেলে আব্দুর রশিদ। এদের ছত্রছায়ায় উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ছিচকে মাদক বিক্রেতা রয়েছে। এই বিক্রেতাদেরমাধ্যমেই নিরাপদে মাদকাশক্তদের হাতে পৌঁছে যায় গাজা, ফেন্সিডিল, হেরোইনসহ নেশার সামগ্রি।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা বলেন, চোরাচালানী ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। কোন থানায় পুলিশের কোন ক্যাশিয়ার নেই, এ ধরনের কোন ব্যক্তির নাম পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ