ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাইকগাছায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো ধ্বংসের পথে!

খুলনা অফিস : খুলনার পাইকগাছায় রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের অভাবে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে দরিদ্রদের পুনর্বাসনকল্পে নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রকল্পের বাসিন্দা মধ্যবয়সী নূরজাহান, তোহরা বিবি ও ওসমান মল্লিকদের মত বহু পরিবার এ বর্ষা মওসুমে জলকাদায় চরম হতাশার মধ্যে যাপিত জীবন প্রতি মুহূর্তে উৎকন্ঠায় পার করছেন।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে বহু পরিবার বিকল্প কাজের সন্ধানে ব্যারাক ছেড়ে চলে গেছে। যারা জীবন সংগ্রামে টিকে আছে সে সমস্ত নারী পুরুষরা ইটভাটা ও চিংড়ি ঘেরের শ্রম বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
আশ্রয়ন প্রকল্পের বর্তমান সভাপতি ওসমান মল্লিক জানান, সরকার দরিদ্রদের পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পের অধীনে বাইশারাবাদে ৯.১১ একর সরকারি সম্পত্তিতে ১৯৯০ সালে বিভিন্ন স্থানের মত এখানে ৬টি ব্যারাকে ৬০টি টিন সেডের ছাউনী ঘর তৈরি করেন।
জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রকল্পের ৬০টি পরিবারকে ঘরের চাবি তুলে দিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা করেন স্থানীয় প্রশাসন। পরবর্তীতে দলিলও হস্তান্তর করা হয়।
এখানকার বাসিন্দা জহুরা বিবি, রূরজাহান, মনোয়ারা বেগম, নারায়ন চন্দ্র রায়সহ অনেকেই আশা-আকাঙ্খার কথা জানিয়ে বলেন, এখানে তাদের ছেলে- মেয়েদের পড়াশুনার জন্য স্কুল, খেলার মাঠ, ব্যারাকের ভেতরে রাস্তা-ঘাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সবই প্রাপ্তির কথা ছিল। কিন্তু আজও তার প্রতিফলন ঘটেনি। সুযোগ-সুবিধার অভাবে ইতোমধ্যে ৬০টি পরিবারের থেকে ব্যারাকে ৩৫টি পরিবার টিকে আছে। বর্ষার মওসুমে ভাঙাচোরা টিনের ছাউনী দিয়ে ঘরে পানি ঢুকে জল-কাদায় দিনরাত পার করতে হয়। উঠানে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, বৃদ্ধ নারী-পুরুষ, শিশুদের মধ্যে পানিবাহিত রোগ-বালাই লেগে আছে।
তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে গদাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জুনায়েদুর রহমান একটি পানির ট্যাংকি, একটি টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২নং ব্যারাকের ১০টি, ৪নং ব্যারাকের ৫টি ও অফিস কক্ষ, টিনের ছাউনীর কাজ করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, অধিকাংশ পুরাতন টিনে পুডিং করে কাজ করা হয়েছে। যার স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে প্রকল্পের ঘরগুলো মেরামত করে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল হাসান সরকারের পুনর্বাসনের জন্য প্রকল্পে একবারে বাসিন্দাদের জন্য ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। যার দলিল হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ