ঢাকা,বুধবার 18 October 2017, ৩ কার্তিক ১৪২8, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে বিচার বিভাগও

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী রায় বাতিল ও তার উপর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগের এক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার বিচারপতিদের অভিসংশনের ক্ষমতা সংসদের হাতে নিতে চেয়েছিল। আপিল বিভাগের ৭ বিচারপতি এবং আদালত কর্তৃক নিয়োজিত অ্যামিকাস কিউরিগণ একযোগে রায় দিয়েছিলেন যে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলযোগ্য। কারণ হিসেবে অনেক পয়েন্ট তারা উল্লেখ করেছিলেন। তার মধ্যে একটি ছিল সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে ভোট দেয়ার ক্ষমতাহীনতা। কোন সংসদ সদস্য যদি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নিজের মতামতের ভিত্তিতে ভোট দিতে চান বা দেন তবে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়। ফলে বিচারপতিদের ওই অভিসংশন সংসদ নেতা বা এক ব্যক্তির হাতে কুিক্ষগত হতে বাধ্য। আর তাতে সংসদ নেতার ইচ্ছা অনিচ্ছার উপরই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকদের চাকরি ও ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারত। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ৭ জন সম্মানিত বিচারপতি এই ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন যে, এসব নানাবিধ কারণে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলযোগ্য। অ্যামিকাস কিউরিরাও তাই বলেছিলেন। ফলে আপিল বিভাগ ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেন। 

আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের অবতারণা করেছিলেন। তার মধ্যে একটি ছিল কোনো এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করেনি। আওয়ামী লীগের প্রধান আপত্তির জায়গা ছিল সেটাই। তাদের বক্তব্য ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের একক নেতৃত্বেই দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। যদিও শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ কিংবা যুদ্ধ পরিচালনায় তাই তিনি ভূমিকা রাখতে পারেননি। এই সত্য উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীদের তোপের মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এ রায় এককভাবে প্রধান বিচারপতির ছিল না। আপিল বিভাগের ৭ জন বিচারপতিই সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু আক্রমণের খড়্্গ এসে পড়েছে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার উপরেই। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ পথে-ঘাটে এবং জাতীয় সংসদের ভেতরেও প্রধান বিাচরপতিকে তুলোধুনো করে ছেড়েছে। কিন্তু বিচারপতি সিনহা দৃঢ়তার সঙ্গেই সে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। 

এ প্রসঙ্গে তিনি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের উদাহরণও তুলে ধরেন। সম্প্রতি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের আদেশে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। পাকিস্তানের উদাহরণ টানায় আরো এক দফা কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ যখন সারা পৃথিবী থেকে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে। যখন তার কূটনীতি চরমভাবে ব্যর্থ তখন বাংলাদেশ সরকার সেই পাকিস্তানেরই দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের পাশে নেই অতিপ্রিয় মিত্র ভারত, পাশে নেই চীন ও রাশিয়াও, পাশে নেই মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসমূহ, পাশে নেই যুক্তরাষ্ট্র। তখন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে সে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী আব্বাসির সঙ্গে দেখা করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বজনমত গঠন করতে তার সহায়তা চেয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে প্রধান বিচারপতি যদি দোষ করে থাকেন, তাহলে তার চেয়ে শত গুণ দোষ করেছে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের সহযোগিতা চেয়ে।আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বার বার একটি কথাই বলা হয়েছে যে, সামরিক সরকার এদেশে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেছিল। সিনহার কাছে সামরিক সরকার এতো প্রিয় হলো কেন? একথা ঠিক যে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারপতিদের অভিসংশন ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতেই ছিল। তখন সংসদের এতো দুর্বলতার কথা চিন্তা করা হয় নাই। তখন এটাই চিন্তা করা হয় নাই যে, জাতীয় সংসদের ৩০০ সদস্যের মধ্যে ১৫৪ জনই বিনা ভোটে নির্বাচিত হবেন। তখন এই কথা চিন্তা করা হয় নাই যে, সংসদ সদস্যদের নিজেদের অভিপ্রায় অনুযায়ী ভোট প্রদানের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে। ততোদিনে নদীর স্রোতের মতো অনেক সময় গড়িয়ে গেছে। ১৯৭৫ সালের শেখ মুজিবুর রহমান সরকার দেশের সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় বাকশাল শাসন কায়েম করেন। এমনকি তাতে আওয়ামী লীগ পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে যায়। সেই বাকশালে শেখ মুজিবুর রহমান বিচারপতিদের অভিসংশন ক্ষমতা সংসদের হাত থেকে নিজের হাতে নিয়ে নেন। অর্থাৎ জাতীয় সংসদের আর বিচারপতিদের অভিসংসন ক্ষমতা থাকে না। তা চলে যায় রাষ্ট্রপতির হাতে। রাষ্ট্রপতি তথা শেখ মুজিবুর রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী বিচারপতিদের নিয়োগ, বদলি বা অপসারণের ব্যবস্থা হয়। জিয়াউর রহমানের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন সেই ধারারই আরো এক ধাপ অগ্রগতি মাত্র ছিল। আপিল বিভাগের সর্বজ্যেষ্ঠ তিনজন বিচারপতিকে নিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়। বিচারপতিদের অভিসংশন ক্ষমতা এই কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করা হয়। কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়ে তা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করবেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাষ্ট্রপতিই। অর্থাৎ শেখ মুজিবুর রহমান বিচারপতিদের অভিসংশন ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে নিয়েছিলেন। তাকে আরো একটু জবাবদিহিতামূলক করতে ওই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করতে হয়। এখানে সামরিক শাসনপ্রীতির কোনো প্রশ্ন উঠে না। 

কিন্তু এই যুক্তির ধার আওয়ামী লীগ ধারেনি। শেখ হাসিনা যা বলেছেন, সারা দেশের আওয়ামী লীগাররা শত মুখে সেই ঢেড়াই পিটিয়ে গেছেন। ফলে যুক্তি এখানে পরাভূত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার রায়ের প্রতি অবিচল ছিলেন। তখন আপিল বিভাগের ৬ বিচারপতি অত্যন্ত সঙ্গত কারণেই চুপচাপই ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে কেউ কোনো কথা বলেননি। কারণ তারা কেউই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রতি দ্বিমত পোষণ করেননি। কিন্তু বোঝা যাচ্ছিল সরকার প্রধান বিচারপতিকে একহাত নিয়ে নেবে। সুরেন্দ্র কুমার সিনহাও প্রথম থেকেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উপর জোর দিয়ে আসছিলেন। এমনকি তিনি নি¤œ আদালতের বিচারকের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, প্রেষণ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। সেটাই সঙ্গত ছিল। আর সেই বলেই নি¤œ আদালতকে যথেচ্ছ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার করে যাচ্ছে সরকার। সেই অর্থে কারো কাছে তাদের জবাবদিহিতা নেই। প্রধান বিচারপতি সিনহা সেই জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। সরকার কিছুতেই তাতে ধরা দেয়নি। 

এরপর পর্দার অন্তরালে নানা ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত চলতে থাকে। আদালতের অবকাশের পর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যথারীতি তার খাস কামরায় হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু দুপুর ২টার দিকে যে প্রক্রিয়ায়ই হোক না কেন, তাকে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। তিনি বাসায় চলে যান। এরপরও টানা টানাপোড়েন চলতে থাকে। তাকে আর আদালতে আসতে দেয়া হয় না। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ক’দিন পরে একটি কাগজ দেখিয়ে বলেন, প্রধান বিচারপতি ক্যান্সারে আক্রান্ত, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ছুটির আবেদন করেছেন। সেখানে সিনহা যে স্বাক্ষর দিয়েছেন সেই স্বাক্ষরের সঙ্গে তার প্রচলিত স্বাক্ষরের কোনো মিল পাওয়া যায় নাই। ফলে সংশয় জাগে যে, ওই পত্র তার লেখাই নয়। তাতে ছিল বানান ভুরের সমাহার। তখন রটে যায় যে, সরকার তাকে গৃহবন্দূ করে রেখেছে। একথার মধ্যেও সত্যতা মেলে। কারণ এ সময় শুধুমাত্র সরকার নির্ধারিত লোকেরাই বিচারপতি সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন আর কাউকে তার সঙ্গে দেখা করার বা কথা বলার সুযোগ দেয়া হয় না। ইতিমধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জানান, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বাসায় ল্যান্ড ফোনটিও কেটে দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজজীবী সমিতির সভাপতি সম্পাদকসহ কয়েকজন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মৎস্য ভবনের সামনে পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তারা দেখা করতে পারেননি। যারা আদালতে সব সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন, দেখা করতে পেরেছেন, তার গুরুতর অসুস্থতার সময় কেন তারা দেখা করতে পারবেন না? আবার প্রধান বিচারপতির ছুটির দরখাস্তও সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তরের সময় আইনমন্ত্রী হাসিতে বিগলিত ছিলেন। যেন তিনি বিরাট বিজয় অর্জন করেছেন। দেশের প্রধান বিচারপতি ক্যান্সারে আক্রান্ত এই খবরের মধ্যে এতো আনন্দের কি ছিল সেটা বোঝার শক্তি দুষ্কর। তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মিডিয়ায় এই ধরনের প্রচার হতে থাকে যে, প্রধান বিচারপতিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি মোটেও অসুস্থ নন, তিনি অসুস্থ কি অসুস্থ নন সেটা জানবার জন্য সরকারি ভাষ্য ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। 

প্রধান বিচারপতির এক কন্যা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতি ও তার স্ত্রীকে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা নিতে বাধ্য করা হয়। আর সরকারের তরফ থেকে বলা হয় যে, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া চলে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি তার ছুটিও মঞ্জুর করেছেন। এর সঙ্গে আইনমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কোনো সংযোগ ছিল না। আইনমন্ত্রী গর্ব করে বলেছেন, প্রধান বিচারপতির চিঠিতে তিনি ও প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন। এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষা। সেই স্বাক্ষরও এক সময় জুটে যায়। প্রথমে বলা হয় যে, প্রধান বিচারপতি সস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাচ্ছেন। কিন্তু তার পর কি যে হলো! আটকে গেলেন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা। সত্য যখন গোপন করা হয়, তখন গুজব মাথাচাড়া দিতে থাকে। গত ১৩ অক্টোবর জানা গেল যে, প্রধান বিচারপতি সস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন না। তিনি একাই যাচ্ছেন। তখন দ্রুতই গুজব রটলো যে, সরকার সুষমা সিনহাকে জিম্মি হিসেবে আটক রেখেছেন। যাতে প্রকৃত ঘটনা সিনহা প্রকাশ না করে দেন। এর সবই হয়তো গুজব। কিন্তু স্বচ্ছতা না থাকলে গুজব তো অবধারিত। 

যাবার আগে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে তাঁর একটি লিখিত পত্র বিলি করেন। তাতে তিনি স্পষ্টই বলেন যে, তিনি অসুস্থ নন, সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে কেউ ভুল বুঝিয়েছে। ফলে তিনি নানাভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বোমাটা ফাটে এখানেই। যে আনিসুল হক হাসতে হাসতে বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি অসুস্থ ও ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার কথাটি অসত্য প্রমাণিত হয়। মন্ত্রী যদি অসত্য কথা বলেন, তবে শপথ ভঙ্গ হয়। আর তাই বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনিসুল হকের পদত্যাগ দাবি করেন। 

ঘটনা এখানেই শেষ হয়ে যায় না। প্রধান বিচারপতি দেশত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের অপর ৫ বিচারপতিকে চায়ের দাওয়াত দিয়ে ডেকে নিয়ে জানান যে, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ আছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন ও অর্থ পাচার। প্রত্যেকটি অভিযোগ গুরুতর, সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রধান বিচারপতি দেশে থাকা অবস্থায় এই অভিযোগগুলো কেন প্রকাশ করা হলো না? আর যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সে কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করে গ্রেফতার পর্যন্ত করা যেতো। বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা এসব অভিযোগের কারণে তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সে কথাও কেন আগে প্রকাশ করা হলো না? ফলে সবটাই একটা বড় ধরনের ষড়যন্ত্র বলে প্রতীয়মান হলো। কিন্তু সঙ্কটটা দাঁড়ালো অন্য জায়গায়। কোনো বিচারপতির যদি নৈতিক স্খলন ঘটে, তিনি যদি দুর্নীতি করে থাকেন, তিনি যদি অর্থ পাচারের মতো গর্হিত অপরাধ করে থাকেন তবে তাঁর দেয়া রায়গুলো একটিও কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। যুদ্ধাপরাধ মামলায় তিনি জামায়াত নেতাসহ অনেককেই ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন। তবে কি ধরে নিতে হবে যে, এই দণ্ড দেয়ার জন্য সরকার তাঁকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উৎকোচ দিয়েছিল? অর্থাৎ তার দেয়া সকল রায় এখন প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান ব্যক্তির দেয়া সকল রায়ই যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাহলে আদালতের আর অস্তিত্ব থাকে না। সরকার প্রশাসন ধ্বংস করেছে, শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, পুলিশ প্রশাসন ধ্বংস করেছে। এবার বিচার বিভাগকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল। এর জন্য তাদের একদিন অবশ্যই চরম মূল্য দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ