ঢাকা, শুক্রবার 20 October 2017, ৫ কার্তিক ১৪২8, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দেশ ও জাতির ক্রান্তি লগ্নে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুবই প্রয়োজন

খুলনা অফিস : খেলাফত মজলিসের আমীর ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, দেশ ও জাতির ক্রান্তি লগ্নে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ একমাত্র আলেম সমাজই পারে একটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের যে কোন দুঃসময়ের হাল ধরতে, উত্তোরণ ঘটাতে এবং সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে। 

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে মুসলিমদের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ এবং দেশ থেকে বিতাড়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন মুসলমানের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতেও মুসলিমদের ওপর এ ধরণের হত্যাযজ্ঞ মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে এ গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ শরণার্থী রোহিঙ্গা মুসলিমদের যথাযোগ্য মর্যাদায় মিয়ানমারে ফেরত নিতে চাপ প্রয়োগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা মহানগরী হোটেল ক্যাসল সালামে অনুষ্ঠিত ‘দেশ ও জাতির ক্রান্তি লগ্নে জাতির কর্ণধার উলামায়ে কেরামের করণীয়’ শীর্ষক বিভাগীয় উলামা সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

মিয়ানমারের আরাকানে মুসলিমদের গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, দেশ থেকে বিতাড়নের ঘটনায় জাতিসংঘ, ওআইসিসহ মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ এবং পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে খেলাফত মজলিস খুলনা বিভাগীয় শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে। 

উলামা সম্মেলনে প্রধান আলোচক ছিলেন-হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আল্লামা তাজুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় উলামা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন। বিশেষ আলোচক ছিলেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা মজদুদ্দীন আহমদ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) মাওলানা এ.কে.এম. আইয়ুব আলী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি মাওলানা মুফতী শিহাব উদ্দীন ও সিলেটের জামেয়া নজিবিয়া ইসলামিয়া গোলাপগঞ্জের প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা সালেহ নজীব আল-আইয়ূবী। 

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও জেলা ইমাম পরিষদ সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ, দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামীম হাফেজ মাওলানা মোস্তাক আহমদ, মাওলানা রফিকুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা আ. খ. ম. যাকারিয়া, মাওলানা মাহ্বুবুর রহমান, মাওলানা শেখ আব্দুল্লাহ, মাওলানা মুফতী আব্দুল হামিদ, জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এমদাদুল হক, মাওলানা আসয়াদুল্লাহ, মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক, মুফতী গোলামুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা এ. এফ. এম. নাজমুস সাউদ, মাওলানা নাসির উদ্দিন কাসেমী, মাওলানা মুফতী জিহাদুল ইসলাম, মুফতী আমীরুল ইসলাম ও দলের খুলনা জোনের সহকারী পরিচালক হাফেজ মাওলানা নাসির উদ্দীনসহ অন্যান্য উলামায়ে কেরাম বক্তৃতা করেন। দলের মহানগর সভাপতি ও ওলামা সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মুফতী আলী আহমাদ এবং জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও রূপসা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ যোবায়ের সম্মেলন পরিচালনা করেন। 

সম্মেলনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আল্লামা তাজুল ইসলাম বলেন, আজ মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এবং অং সান সু চি’র নেতৃত্বে যে হত্যাযজ্ঞ চলছে, তা পৃথিবীর সকল বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। নারী-পুরুষ শিশুদের নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ করা হচ্ছে। হত্যার পর শরীর এবং বাড়িঘরে আগুন জালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নারী-পুরুষকে হত্যার পর উলঙ্গ করে কেটে টুকরো টুকরো করে দেহ ছিন্ন ভিন্ন করা হচ্ছে। এটি কোন মুসলমান মেনে নিতে পারেনা। এ অবস্থায় বাংলার তৌহিদী জনতা ঘরে বসে থাকতে পারেনা, ধৈর্য্যরে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে, প্রয়োজন হলে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে সু চিকে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। মিয়ানমারকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আরাকান রাজ্যে যদি মুসলমান থাকতে না পারে, তাহলে বাংলায়ও ৯ লাখ বৌদ্ধ থাকতে পারবে না। তাদেরও বাংলা থেকে বিতাড়ন করে উচিত শিক্ষা দেয়া হবে। 

সভাপতির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় উলামা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর সেখানকার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা যে নৃশংস নির্যাতন ও গণহত্যা চালাচ্ছে অবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, নির্যাতন-নিপীড়ন সইতে না পেরে আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমান নর-নারী- শিশু-বৃদ্ধরা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্তের পাহাড়-জঙ্গল, নদী-খালে অবস্থান করছে। বিশেষ করে মুসলিম মহিলারা পাশবিক নির্যাতন-নিপীড়ন ও ইজ্জত আব্রু বাঁচানোর তাগিতে এক কাপড়ে সীমান্তের দিকে ছুটে আসছে। আর সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসছে বিপন্ন রোহিঙ্গাদের ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ আর্তনাদ। বাতাসে ভেসে আসছে বারূদ আর লাশের গন্ধ। এদেশে আশ্রয় নেওয়া মাজলুম রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং নির্মম হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে বিশ্ব বিবেককে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, চীন এবং ভারত মিয়ানমারের পক্ষ নিয়ে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদেরকে মুসলমানের শত্রু আখ্যায়িত করে মিয়ানমার, ভারত ও চীনের সকল পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এবং প্রধানমন্ত্রী অং সান সু চি’র ফাঁসি দাবি করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখা এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বস্ত্র এবং নিরাপত্তা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 

খুলনা বিভাগের সকল জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং মহানগরীর সকল থানা, ইউনিট থেকে খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য আলেম উলামাগণ এ সম্মেলনে যোগদান করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ