ঢাকা, শুক্রবার 20 October 2017, ৫ কার্তিক ১৪২8, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রূপসার অচিনতলা মদিনাতুল উলুম  কওমী হেফজ বিভাগের ছাত্র নয়ন

 

খুলনা অফিস : শিক্ষকের মারপিটের পর নিখোঁজ খুলনার রূপসা উপজেলার অচিনতলা মদিনাতুল উলুম কওমী মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিশু ছাত্র ইব্রাহিম হোসেন নয়নের (৯) ১৯ দিনেও সন্ধান মেলেনি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মাদরাসা থেকে সে নিখোঁজ হয়। এ ব্যাপারে তার পিতা শেখ তৈয়ব আলী সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি ও র‌্যাব-৬’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিশুটির পরিবার।  

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রূপসা উপজেলার তালিমপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ তৈয়ব আলীর কনিষ্ঠ ছেলে নয়ন রূপসার অচিনতলা মদিনাতুল উলুম কওমী মাদরাসার হেফজ বিভাগে পড়ালেখা করে আসছিল। সে রাতে মাদরাসায় থাকতো। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে নয়নের পড়া মুখস্ত না হওয়ায় মাদরাসা শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তার দুই হাত গামছা দিয়ে বেঁধে বেত্রাঘাত করে। ঘটনার দিন দুপুরে নয়ন বাড়িতে গেলে তার মাতা শামছুন্নাহার বেগম তাকে গোসল করাতে গিয়ে বেত্রাঘাতের চিহ্ন তার দৃষ্টিগোচর হয়। বিষয়টি তার পিতাকে জানান। দুপুরে ভাত খাওয়ার পর নয়নের মা তাকে বাড়ি থাকার কথা বললেও শিক্ষক সাইফুল ইসলামের ভয়ে সে মাদরাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর দীর্ঘদিন অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান পায়নি তার পরিবার। ঘটনার পর থেকে মাদরাসার দুই জন শিক্ষক গা ঢাকা দিয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (যার নং-১০৫, তারিখ-৩/১০/১৭ ইং) এবং গত ৮ অক্টোবর র‌্যাব-৬’র দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তার পিতা।

মাদরাসা শিক্ষক সাইফুল ইসলামের ভাষ্য মতে, মাদরাসা ছাত্র নয়নের পড়া মুখস্ত না হওয়ায় তাকে বেত্রাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে বাড়ি যাওয়ার কথা বলে সে মাদরাসা থেকে চলে যায়। এরপর নয়ন আর মাদরাসায় ফিরে আসেনি।

নয়নের পিতা শেখ তৈয়ব আলী বলেন, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে তার বড় ছেলে মাদরাসায় নয়নের জন্য রাতের খাবার দিতে যায়। কিন্তু নয়নকে না পেয়ে সে তার পিতাকে জানান। খবর পেয়ে তিনি ওই রাতে মাদরাসায় ঢোকার চেষ্টা করলে মাদরাসার সামনে থাকা মুদি ব্যবসায়ী আমজাদ ও রিয়াজুল তাকে মাদরাসার ভেতর ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ঘটনার পরের দিন মাদরাসার শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে শিক্ষকরা তার সামনে আসেনি, এমনকি তাকে কোনো তথ্যও দেয়া হয়নি। ঘটনার পর থেকে মাদরাসার দুই জন শিক্ষক ইয়াকুব ও মিকাইল গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ