ঢাকা, শুক্রবার 20 October 2017, ৫ কার্তিক ১৪২8, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার চায় জেপি

স্টাফ রিপোর্টার: বিদ্যমান সংসদীয় আসনের সীমানা বহাল রেখে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তাব করেছে জাতীয় পার্টি-জেপি। নির্বাচনে প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। তবে তারা সংবিধানের বাইরে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে দলের ১৩ জন সদস্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব করে। 

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে কমিশনারবৃন্দ, ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ৮টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে ক্ষমতাসীনদের শরীক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জেপি।

বৈঠকে উপস্থিত ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংবিধান অনুযায়ী ভোট, প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন, ভোটে ইভিএম না রাখা, সংসদীয় আসনের সীমানা বহাল, রাজনৈতিক দলকে মনিটরিং, ভোটার তালিকা নির্ভুল করাসহ আট দফা সুপারিশ রয়েছে দলটির।

সংলাপ শেষে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য সংবিধানের বাইরে যাবে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বারবার যেখানে আঘাত করা হয়েছে, সেখানে আমাদের একটাই স্ট্যান্ট ছিল। আমাদের অবস্থান নির্বাচনের পক্ষে। আমরা আগামীতে ভালো নির্বাচন হোক, সে প্রত্যশাই করি।’

 সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মঞ্জু বলেন, “আমরা সেনা মোতায়েনে পক্ষে না, বিপক্ষেও না। সেনা বলে কোনো গোষ্ঠী বা জাতি এখানে নেই। সবাই মানুষ।”

 ভোটকে সামনে রেখে জাতীয় সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে কিনা জানতে চাইলে জেপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা আমাদের সংলাপ করি; আমরাই তো জাতি, বিজাতি নাকি?”

পরে দলের মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, “অর্থবহ অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাই। সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক। তবে একটি বা দুটি রাজনৈতিক দল অংশ না নিলে অর্থবহ হবে না- তা নয়। সত্তরের নির্বাচনে মওলানা ভাসানীর দল অংশ না নিলেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আগামীতেও এ রকম গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ইসিকে একটি নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে বলেছি। প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হলে তা করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।

সহায়ক সরকার বা নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি ইসির এখতিয়ারের বাইরে থাকায় তা নিয়ে কোনো মত দেয়নি দলটি।

ইসির সামনে ‘সুন্দর নির্বাচন করাই’ আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মন্তব্য করে শেখ শহীদুল বলেন, “নির্বাচনকালীন সরকারের সময় ইসি ও সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা থাকলে সহায়ক সরকারের কোনো দরকার নেই।”

তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল একমত না হলেই ভোটে ইভিএমের ব্যবহার; তা নাহলে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে আমরা মত দিয়েছি।

গতকাল বিকেলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির সঙ্গে সংলাপে বসে কমিশন। এলডিপি'র চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বীরবিক্রম নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন। তারা নির্বাচনে লেবেল প্লেইং তৈরী, নির্বাচনকালীন সরকার ও সেনা মোতায়েনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব তুলে ধরে। এই দলের সাথে সংলাপের মধ্য দিয়ে কমিশনে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ হয়েছে। 

এরপর ২২ অক্টোবর নির্বাচন পর্যবেক্ষক, ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রী এবং ২৪ অক্টোবর নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ সূচি নির্ধারণ করেছে ইসি। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংলাপ শুরু করে ইসি। এরই অংশ হিসেবে গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল ইসি। এরপর গত ২৪ আগস্ট থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে ইসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ