ঢাকা, শনিবার 21 October 2017, ৬ কার্তিক ১৪২8, ৩০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কয়েক মোড়লের কারণেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিধন?

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : তিন মোড়লের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেই দেশের গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে। মেরুদন্ডহীন জাতিসংঘসহ পুরো পৃথিবী যখন মিয়ানারের বিরুদ্ধে কথা বলছে তখনও সেখানে চলছে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। এমন সমালোচনা সত্ত্বেও মিয়ানমারের শক্তি তিন পরাশক্তি। তাদের পাশে আছে চীন, রাশিয়া এবং ভারত। এরা মুখে মানবাধিকারের কথা বললেও প্রকাশ্যে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারও কিছু করতে পারছেনা। কারণ ক্ষমতাসীনরা নিজেরাই অবৈধ। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে। যে নির্বাচনের বৈধতা কেউ দেয়নি। এছাড়া আগামীতেও যেন এই মোড়লদের সহযোগিতা নিয়ে ক্ষমতাকে দীর্ঘ করা যায় সেজন্যই প্রতিবাদ টুকুও করছেনা। মিয়ানমারকে বলছে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে। অথচ প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ভাষণে এই নৃশংস হত্যার কোনো প্রতিবাদ করেনি।
মিয়ানমারে মুসলিমদের উপর চলমান জেনোসাইড বা গণহত্যাটি কোন সাম্প্রতিক নৃশংসতা নয়। সুপরিকল্পিত এক ব্লু-প্রিন্টের অংশ হিসেবে সেটি চলছে তিন দশকের বেশী কাল ধরে। সম্প্রতি সেটি পৌঁছেছে তার চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিশ্বের  শক্তিবর্গ দেশগুলো এ ঘৃণ্যতম জেনোসাইডকে বন্ধ করা দুরে থাক, নিন্দা করতেও ব্যর্থ হয়েছে। যা স্পষ্ট হয়ে গেছে গত ২৮ই সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে। ঐ বৈঠকটি মায়ানমারের বিরুদ্ধে কোনরূপ সিদ্ধান্ত ও নিন্দা প্রস্তাব ছাড়াই শেষ হয়। উক্ত বৈঠকে রোহিঙ্গাদের উপর হামলা ও তাদের নির্মূলের জন্য রাশিয়ার প্রতিনিধি মায়ানমারের সেনা চৌকির উপর রোহিঙ্গা আরাকান সালভেশন আর্মির হামলাকে দায়ী করে সমর্থন করেছে মায়ানমার সরকারের সকল নৃশংসতাকে। একইভাবে এই হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলাকে সমর্থন জানিয়েছে চীন, জাপান ও ভারত। বিশ্বের প্রধান প্রধান শক্তিগুলি যে কতটা হৃদয়হীন ও নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত, ঘটে যাওয়া ঘটনা তারই বড় প্রমাণ। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে চলমান কয়েক দশকের নৃশংস নিষ্ঠুরতায় তাদের জনসংখ্য অনেক কমে গেছে। ১৯৫২ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ। (সূত্রঃ জেনোসাইড ইন মায়ানমার, লন্ডনের কুইন মেরী ইউনিভার্সিটির গবেষণা।) ১৯৫২ সাল থেকে ২০১৭ সাল এ দীর্ঘ ৬৫ বছরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ন্যায় প্রতিটি মুসলিম দেশের জনসংখ্যা তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পেলেও-  অবাক ব্যাপার হচ্ছে বিগত ৬৫ বছরে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংখ্যা বাড়েনি, বরং আশংকাজনকভাবে কমছে। ২০১৭ সালে এসে এখন বলা হচ্ছে তাদের সংখ্যা ১.১ মিলিয়ন তথা ১১লাখ। তাদের বিরুদ্ধে সরকার পরিচালিত নির্মূল প্রক্রিয়া যে কতটা সফল এ হলো তারই দলিল। হিসাব অনুযায়ী এতোদিন রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিশ্চিত ৩৬ লাখে পৌঁছাতো।
মায়ানমারে রোহিঙ্গা-নির্মূলকামী সংগঠনগুলোর সংখ্যা অনেক। তবে তাদের মধ্যে প্রধান হলো ‘মা বা থা’ এবং ‘৯৬৯ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট’। রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা বলা হোক -তাতেও এসব সংগঠনের প্রচন্ড  আপত্তি। তাদের দাবি, রোহিঙ্গা বলে মায়ানমারে কোন জনগোষ্ঠি নাই। যারা আছে তারা হলো বাংলাদেশ থেকে আগত বাঙালী। অতএব দাবী, তাদের একমাত্র বাঙালীই বলতে হবে এবং বাংলাদেশেই তাদের ফিরে যেতে হবে। জাতিসংঘের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল বান কি মুন যখন তার বক্তৃতায় রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধেও এরা বিক্ষোভ করেছিল। রোহিঙ্গাদের এ ভয়াবহ বিপদকালে তারা জাতিসংঘের ত্রাণসামগ্রীও রোহিঙ্গা গ্রামে পৌঁছতে বাধা দিয়েছে। বিদেশী কোন সাংবাদিককে ঢুকতেও দেয়নি তারা। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান খুঁজতে জাতিসংঘের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল কফি আনান যখন মায়ানমারে যান, তার বিরুদ্ধেও তারা মিছিল করেছিল। মায়ানমারে ১৩০টির বেশী জাতিসত্তা আছে। কিন্তু শুধুমাত্র স্বীকৃতি নাই রোহিঙ্গাদের। শত শত বছর সে দেশে বসবাস করলে কি হবে, আইন করে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্মূল করণে যে রোডম্যাপটি হুবহু অনুসরণ করা হচ্ছে তার একটি নৃশংস পর্যায় হলো, টার্গেট করে ক্রমান্বয়ে তাদেরকে দৈহিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক, আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে দুর্বল ও নির্জীব করা। এজন্য তারা যেমন তাদেরকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে ঠাসাঠাসী করে জড়ো করে, তেমনি ক্যাম্পে রেখে তাদেরকে আলো-বাতাস, শিক্ষা-দীক্ষা, ধর্মকর্ম, রাজনীতি, সমাজকর্ম ও পরস্পরে মেলামেশার ন্যায় অপরিহার্য বিষয়গুলো থেকেও বঞ্চিত করে। সে সাথে তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় লাগাতর অপমান, অবমাননা ও নির্যাতন। পরিকল্পিতভাবে অপুষ্টি, মহামারি ও চিকিৎসাহীনতা তাদের জন্য নিত্য সহচর করা হয়। যেসব রোহিঙ্গাগণ এক সময় স্বচ্ছল গৃহস্থ, চাকুরিজীবী বা ব্যবসায়ী ছিল, তাদের ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট ও চাকুরি-বাকুড়ি কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব বস্তিবাসী করা হয়েছে। যারা এক সময় মসজিদের ইমাম, স্কুল-কলেজের শিক্ষক বা রাজনৈতিক দলের নেতা ছিল তারা এখন নিঃস্ব বস্তিবাসী। তাদের যেমন শহরে প্রবেশাধিকার নেই, তেমনি নেই হাট-বাজার, হাসপাতাল, বিদ্যালয়ে প্রবেশের অধিকার। অধিকার নেই মসজিদে যাওয়ার। বস্তির ঘরের আলো-বাতাসহীন স্যাঁত-সেঁতে মেঝেতে রোগাগ্রস্ত দুর্বল দেহ নিয়ে রাত-দিন শুয়ে থাকা ও ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হওয়া ছাড়া তাদের সামনে কোন বিকল্প পথ খোলা রাখা হয়নি। চাকু চালিয়ে জবাই করা বা বন্দুকের গুলিতে হত্যাই কেবলমাত্র গণহত্যা নয়। গণহত্যার আরেক নৃশংস রূপ হলো এভাবে মৃত্যুর দিকে জোরপূর্বক ঠেলে দেয়া।
গত আগস্টের শেষ দিকে শুরু হওয়া এ হত্যাযজ্ঞ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে ভিডিওচিত্রসহ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীভৎস মৃত্যুর মহোৎসব থেকে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পাড়ি দিয়ে শরণার্থী হয়েছেন বাংলাদেশে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, এ পর্যন্ত তাদের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আরো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্ত ও পাশের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছেন। এছাড়া গণহত্যার শিকার হয়ে রাখাইনে গত দু’সপ্তাহে নিহত হয়েছেন অন্তত তিন হাজার রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের সেই লোমহর্ষক ও ভয়াবহ চিত্র তাদের মুখের বর্ণনাসহ দেশী-বিদেশি গণমাধ্যমে ফুটে উঠেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে চাল কিনতে সচিবসহ মিয়ানমারে যান বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অপরদিকে বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে মিয়ানমার সেনাদের সঙ্গে যৌথ অভিযানের প্রস্তাব দিয়েছে। এর সমালোচনা করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, মিয়ানমার সীমান্তে যৌথ অভিযানের প্রস্তাব দিয়ে সরকার- বাংলাদেশকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। মিয়ানমারের মানবিক সংকটের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটিতে সফর করেছেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত সহিংসতার কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি ও মিয়ানমারের নেতা অং সান সুচি এক যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সমস্যাকে ‘সন্ত্রাসবাদ বলে অভিহিত করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের বিতর্কিত কূটনীতির পেছনে তাদের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।  ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এক টুইট বার্তায় বলেন, মিয়ানমারের জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধ করতে চাইলে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি। এরদোগানের ফোনের জবাবে সুচি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার সরকার নিরাপদে রেখেছে।
বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে বিশ্বের অনেক দেশই পাশে থাকবে। অন্তত ৪০টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় একথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশ একা এই মানবিক সংকট মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে। যতো দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের তাদের দেশ মিয়ানমারে ফেরাতে সবাই বাংলাদেশের পাশে থাকবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক রূপান্তর অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে। তবে দেশটির ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে কোনো দেশই প্রস্তাব করেনি। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা এবং মানবিক সহায়তায় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য চীন খুবই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়। চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন সরকার রাখাইনে সব ধরনের সহিংসতায় উদ্বেগ এবং মিয়ানমার সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাচ্ছে। চীন রোহিঙ্গা সংকটকে জটিল আখ্যা দিয়ে এর দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান আশা করে। এ জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে চীন।
একই সঙ্গে ধাপে ধাপে বিষয়টির সমাধান আশা করে চীন। নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব রয়েছে। সেখানে প্রথম অগ্রাধিকার হলো সহিংসতা বন্ধ করা এবং মানবিক সহায়তা দেওয়া। ফ্রান্স মনে করে, তাদের দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হলো সেখানে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বৈষম্যের অবসান ও কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন। নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য জাপানের পক্ষ থেকেও চীনের মতোই সতর্ক বক্তব্য দেওয়া হয়। জাপানের পক্ষ থেকে রাখাইনে সহিংসতা ও আরাকান সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার জোরালো নিন্দা জানানো হয়।
জাপান বলে, ‘এই মানবিক বিপর্যয়ে জাপান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছি। জাপান মনে করে, এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজ এগিয়ে নেওয়া, বিশেষ করে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও মানবিক সহায়তা প্রদান। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশটি রাখাইন পরিস্থিতির অবনতির ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহানুভূতি জানাচ্ছি। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনা করা হয় এবং আরসার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পায়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা দেখছি সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাশিয়াও আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়। তবে রাশিয়া মনে করে সমাধানের উপায় বেশ জটিল।
ই-মেইল: jafar224cu@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ