ঢাকা, শনিবার 21 October 2017, ৬ কার্তিক ১৪২8, ৩০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা সংকট গন্তব্য কোথায়

নূরুল আনাম (মিঠু) : আমি যখন এই প্রবন্ধ লিখি তখন দিন গণনার সাকুল্যে শিরোনামে উল্লেখিত বিষয়টির প্রায় দেড় মাস পূর্ণ হয়েছে। গত ২৫ শে আগস্টে যখন এই সংকটের সূত্রপাত তখন বোঝা গিয়েছিল যে এবারের এই রোহিঙ্গা সংকট স্বাভাবিক নিয়মেই প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার খোরাকে পরিণত হবে। তবে এই সংকট এবারই প্রথম নয়। আগেও কয়েক দফা এটা ঘটেছে। প্রথমবার ঘটেছিল ১৯৭৮ সালে। এরপর পালাক্রমে এটি ঘটেছে ১৯৯২, ২০১২ এবং সব শেষ ২০১৭ তে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাবার আগে আরো কিছু কথা বলে নেয়া দরকার। বর্তমান বার্মা কিংবা মিয়ানমার নামের এই রাষ্ট্রটির জন্য এটিই একমাত্র সমস্যা সংকট নয়। বস্তুত জন্মলগ্ন থেকেই অন্ততঃ ডজন খানেক সমস্যায় জর্জরিত দক্ষিণ এশিয়ার এই ট্রপিকাল রাষ্ট্রটি। এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা অং সান আততায়ীর গুলীতে নিহত হয়েছিলেন স্বাধীনতার লগ্নেই। তারপর থেকেই এই রাষ্ট্রটি একের পর এক জাতিগত ধর্মীয় বিরোধে ক্রমান্বয়ে জড়িয়েই চলেছে। বিশেষত ১৯৬২ সনে সামরিক শাসন জারী হওয়ার পর  থেকেই দেশটির উপর যেন শনি ভর করেছে। আগেই বলা হয়েছে সেখানে অন্তত: ডজন খানেক জাতিগত ধর্মীয় সমস্যা চলমান। এর মধ্যে কারেন, শান ও কাচিন জাতি অধ্যুষিত অঞ্চলেও একই ধরনের সংকট বিরাজমান। অর্থাৎ রাষ্ট্রটি উপর দিক থেকে আপাতঃ স্থিতিশীল মনে হলেও আসলে গভীর সংকটে জর্জরিত। সর্বশেষ এই রোহিঙ্গা  সংকটে জর্জরিত রাষ্ট্রটিকে নতুনভাবে উন্মোচিত করল এবং ২৫ শে আগস্ট থেকে এই রোহিঙ্গা সংকটের সূচনা। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী রাখাইন প্রদেশ থেকে আগত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছুঁই ছুঁই করছে। মতান্তরে তা এই সংখ্যাকে অতিক্রম করে গেছে। কিন্তু সংখ্যায় কিছু আসে যায় না। সব কিছু ছাপিয়ে বেশ কিছু সত্য এবার বেরিয়ে এসেছে। এই ঘটনার দ্বারা একদিকে যেমন মিয়ানমারের বর্তমান ছদ্মবেশী সামরিক সরকারের একটি ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা উন্মোচিত হয়েছে। যদিও তারা মুখে তা বলছে না। আবার অন্যদিকে উন্মোচিত হয়েছে মিয়ানমারের  অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা আর্থ-রাজনৈতিক-সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার মুখোশ। আগেই বলা হয়েছে যে ১৯৬২ সনের সামরিক শাসন জারীর পর থেকেই দেশটির কাঁধে শনি ভর করেছে। শুরুতে অবশ্য সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে অন্য সব সামরিক জান্তার মতই দুটি গাল ভরা শ্লোগান তুলে ছিল। এর প্রথমটি হল তথাকথিত দুর্নীতি দমন আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে বিদেশী বিতাড়ন। বস্তুত এশিয়া-আফ্রিকা-ল্যাটিন আমেরিকায় সামরিক অভ্যুত্থান ও তৎজনিত সামরিক শাসন যেমন এ যুগে লক্ষ্মণীয় ঠিক তেমনি বিংশ শতাব্দীর পূর্বে ইউরোপেও তা একেবারে দুলক্ষ ছিল না। সামরিক অভ্যুত্থান ও তৎজনিত কারণে সৃষ্ট সামরিক শাসনকে সাধারণত দুটি মোটাদাগে বিভক্ত করা যায়। একটি হল ক্লাসিকাল বা ধ্রুপদী সামরিক অভ্যুত্থান। এ ধরনের সামরিক অভ্যুত্থানে সাধারণত সরাসরি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও কর্তৃত্বই হয় মূল নিয়ন্ত্রক। অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর প্রধান কিংবা এ ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে রাজনীতি বা এ ধরনের কোন অসামরিক বিষয় গুরুত্ব পায় না। পাকিস্তান, তুরস্ক ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে আমরা এ ধরনের সামরিক অভ্যুত্থান ও তৎজনিত সামরিক শাসন দেখতে পাই। আর দ্বিতীয় ধারার সামরিক অভ্যুত্থানে সাধারণত সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রক হলেও এখানে রাজনৈতিক তথা অ-সামরিক বিষয়গুলিও সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়। এর সাথে আবার যুক্ত হয়ে যায় নানবিধ উপজাতীয় ও আঞ্চলিক বিষয়ও। আলোচ্য এই বমী ট্রপিকাল সামরিক শাসনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে দুই ধারার অভূতপূর্ব সমন্বয়। কেন না এখানে যেমন ৬২ এরপর থেকেই ধ্রুপদী ধারায় সেনাবাহিনীর নিরংকুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঠিক তেমনি আবার দ্বিতীয় ধারার ও কিছু মাল-মশলাও সংযোজিত হয়েছে। তবে ঘটনার পিছনেও ঘটনা থাকে। আবার গল্প শুরুরও গল্প থাকে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার আগ পর্যন্ত উপমহাদেশের মতই এটিও ছিল বৃটিশ ডমিনিয়ন বা উপনিবেশ। তবে এর নিজস্ব কোন স্ট্যাটাস ছিল না। সেই সময় এটি ছিল বৃটিশ ভারতের একটি অংশ মাত্র। বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের একেবারে অন্তিমলগ্নে ১৯৩৭ সনে এসে তৎকালীন বার্মা বা বর্তমান মায়ানমার স্বতন্ত্র ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস লাভ করে। ফলশ্রুতিতে উপমহাদেশীয় রাজনীতিতে যে ধরনের ইউরো-মার্কিন প্রভাবিত আধুনিক ধারার রাজনীতির বিকাশ ঘটেছিল মিয়ানমারের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। এ কারণেই আমরা দেখতে পাই স্বাধীনতার লগ্নেই স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা অংসান স্বাধীনতার লগ্নেই  প্রকাশ্য দিবালোকেই খুন হলেন। ৬২ এর সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রটির উপর নেমে এল চিরস্থায়ী অন্ধকার। যার কাছে পাকিস্তানের সামরিক শাসনও নস্যি। সম্ভবত আইয়ুব-ইয়াহিয়া খান-জিয়াউল হকও কবরে নড়ে চড়ে বসেছেন। এটা দেখে নিশ্চিন্তভাবেই কিছুকাল আগে বিদায় হওয়া পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফ ও মুচকি হাসছেন এবং হয়তো কপাল চাপড়াচ্ছেন। কেননা এতোটা নিরংকুশ সামরিক নিয়ন্ত্রণ তারাও করতে পারেননি কিংবা কল্পনাও করেননি। এত কিছুর পরও দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময়ের পর বছর দেড়েক আগে যখন দীর্ঘ সময়ের ধারায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেন তখন ক্ষীণভাবে হলেও একটি আশা ছিল যে অতীতের ভুল-ভ্রান্তি ও সমস্যার সমাধান হবে। কেননা অংসান সূচি শুধু নিছকই একজন নেত্রীই নন তিনি তো মিয়ানমারের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা অংসানের মেয়ে। শুধু কি তাই? তিনি তো শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার জয়ী। মিডিয়ার কল্যাণে তিনি তো আন্তর্জাতিক নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সকলি গরল ভেল। কথায় বলে যে যায় লংকায় সেই হয় রাবণ। ক্ষমতার স্পর্শে সবাই নাকি বদলে যান। আর তাই ক্ষমতার স্পর্শে তিনিও বদলে গেলেন। অবশ্য তার প্রকৃত ক্ষমতা নিয়েও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। আসলে অংসান সুচিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকার প্রধান? দেখা যাচ্ছে, তিনি সেখানকার স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী  শব্দটার অর্থ বোঝা যায় কিন্তু স্টেট কাউন্সিলর পদটির অর্থ বুঝে ওঠা কঠিন। তবে এই রোহিঙ্গা সংকটের কারণে মিয়ানমারের রাষ্ট্রকাঠামোর অনেক তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, সেখানকার সংসদের শতকরা ২৫ ভাগ আসনই সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। অর্থাৎ অংসান সূ চি সেখানকার সামরিক সরকারের একজন প্রতিনিধি মাত্র। এক্ষেত্রে তিনি সামরিক জান্তার একটি বেসামরিক মুখোশ, বেসামরিক পুতুলের চেয়ে বেশি কিছুই নন। সুতরাং রোহিঙ্গা মুসলমানদের এই উচ্ছেদ (এবার সম্ভবত চিরকালের মত) অভিযানের সিদ্ধান্ত ও কার্যকরের অধিকারী কেবলমাত্র সেনাবাহিনী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নেত্রী (?) অংসান সূ চি একজন নির্বাক দর্শকমাত্র। সুতরাং তার জাতিসংঘ সম্মেলনে না যাওয়া এবং গত ১৯ আগস্টের হাস্যকর শিশুসুলভ বক্তব্যের মধ্যে কোন অস্বাভাবিকতা নেই বরং এটাই স্বাভাবিক। এত গেল শুধু মুদ্রার একপিঠ। এবার স্ব-সমাজ ও স্বরাষ্ট্রের পরিস্থিতিতে আসা যাক। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাবার আগে কিছু কথা বলে নেয়া দরকার। বর্তমান মিয়ানমার বা বার্মার একটি অংশে বিশেষত ভাটি অঞ্চলের আরাকানে বাংলাভাষীদের বসতি মধ্যযুগ থেকেই শুরু হয়েছিল। আলাওল, দৌলত কাজী প্রমুখ কবিদের কাব্যচর্চা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এদের অনেকেই উচ্চপদে আসীন হয়েছিলেন। এমনকি আরাকান রাজার অভিষেক হতো বাঙালি মুসলমান মন্ত্রীর হাতে। এরপর ইংরেজ রাজত্বেও এ অঞ্চলের অনেকেই আরাকানসহ পুরো বার্মায় জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিলেন। আগেই বলা হয়েছে, এই ঘটনার প্রথম সূত্রপাত ১৯৭৮ সনে। তবে সেবার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের দক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে এই সমস্যার ত্বরিত সমাধান হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত এই যে, মিয়ানমারের মূল খুঁটি গণচীনও এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ নিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয়বার এই সংকট দেখা দিল ১৯৯২ সনে। সেটা বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের আমল। কিন্তু সেবার প্রথমবারের মত সহজে সমাধান হয়নি। মিয়ানমার ও তার নাগরিকদের পুরো ফেরত নেয়নি। সে সময় জাতীয় রাজনীতিতে তথাকথিত গণআদালতকে কেন্দ্র করে আওয়ামী-বাকশালী রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটেছিল। সরকারের ভেতরেও বেশ কিছু প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতা অন্তর্ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সে সময় অবশ্য এ যুগের মত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার তেমন প্রসার ঘটেনি। কিন্তু এরপরও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তা যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ প্রখ্যাত পাকিস্তানী সমাজসেবক সে সময় করাচির রাস্তায় দাঁড়িয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য চাঁদা তুলেছিলেন। এরপর দীর্ঘ দুই দশক ধরে মিয়ানমার সীমান্ত মোটামুটি শান্তই ছিল। এই সময়ে এমনকি দুই দেশের মধ্যে স্থলবন্দর ও সীমান্ত বাণিজ্যও চালু ছিল। কিন্তু ছন্দপতন ঘটলো ২০১২ খৃস্টাব্দে এসে। ততদিনে অবশ্য আওয়ামী-বাকশালীরা নিরংকুশ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। আর তাই দেখা গেল সে সময় আগত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা তেমন বেশি না হওয়ায় সে সময় সরকারও এটিকে খুব সুন্দরভাবে নিজের স্বার্থে চালিত করতে পেরেছিল। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর সাথে জঙ্গি-জামায়াতের যোগসূত্রও আবিষ্কার করেছিলেন। স্বাভাবিক নিয়মেই মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এতে উৎসাহিত হয়েছিল। ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা-ইরাবতি দিয়ে অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বেশকিছু খনিজ সম্পদ আবিষ্কৃত হয়েছে এবং সামরিক জান্তার মাথায় তথাকথিত অর্থনৈতিক অঞ্চল (চীনা পদ্ধতিতে) প্রতিষ্ঠার ভূত মাথায় ঢুকে গেছে। এরই বহিঃপ্রকাশ আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। তবে খুঁটির জোর ছাড়া পাটা কখনই নাচতে পারে না। এক্ষেত্রে তাদের মূল ভরসা হচ্ছে চীন। তার মদদেই সে বিশ্বজনমতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসছে। অথচ বাংলাদেশ চীনের শত্রু নয় বরং ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র। সর্বশেষ এই ঘটনায় চীনা রাষ্ট্রদূতও এব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। অথচ এ ব্যাপারে কোনই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেই। অবশ্য ভারতবান্ধব এই নিরংকুশ ক্ষমতাসীন আওয়ামী-বাকশালীর কাছ থেকে তা কেউই আশা করে না। পূর্বসূরী নীতিকে তো অনেক আগেই কবরে পাঠানো হয়েছে। এত বড় ঘটনার পরও সরকারী দল এতে জঙ্গি পাকিস্তানি গন্ধ শুঁকে বেড়াচ্ছে। আর তাই ভারতবান্ধব এই সরকার ভারতকে চটিয়ে কখনই চীনের সাথে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে না।
 আর ঠিক এই কারণেই মিয়ানমারের সামরিক জান্তাও এত সহজে মচকে যাবে না। তা সে যত আন্তর্জাতিক চাপই থাকুক না কেন। হয়তো কিছু উদ্বাস্তু ফেরত নেবে কিন্তু এই সমস্যাকে তারা কৌশলে ঝুলিয়ে রাখবেই। অতএব, পূর্বমুখী নীতির পুনর্জীবন না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যার কোন স্থায়ী সমাধান নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ