ঢাকা, শনিবার 21 October 2017, ৬ কার্তিক ১৪২8, ৩০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংকট সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে

এক সময় বাংলা সিনেমা দেখতাম, যার মধ্যে খলচরিত্রের সশস্ত্র শক্তিধর সমাজপতির অভিনয় থাকতো।যারা নানাপ্রকার বেআইনি ব্যবসা ও যুবসমাজ বিধ্বংসী ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে গড়ে তুলতো অন্যায় অত্যাচারের অন্ধকার রাজত্ব। তারা মদ, জুয়ার আসর জমাতে ভুমিহীন বস্তিকে টার্গেট করে তাদের লালিত লাঠিয়াল বাহিনী লেলিয়ে ১২ বা ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বস্তি ছেড়ে যাবার হুমকি দিতো। বস্তিবাসী যদি সে সময়ের মধ্যে বস্তি খালি করে না যেতো, তাহলে ঐ লাঠিয়াল বাহিনী এসে তাদের উপর চালাতো বর্বরোচিত হত্যা,ধর্ষণ ও লুটপাট। মিনিটের মধ্যে পুড়িয়ে ছারখার করে তাদেরকে বিতাড়িত করেই ছাড়তো।তারপরে গড়ে তুলতো নিজেদের পছন্দের বালাখানা। সে বস্তিবাসীদের পক্ষে কথা ও  বলার জন্য কাউকে পাশে পাওয়া যেতোনা।
রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের সাথেও বিশ্ব আজ তদ্রূপ আচরণই প্রত্যক্ষ করছে। যে ধরনের পৈশাচিক আচরণ তাদের সাথে করা হচ্ছে তা মূলত ঐসকল ছিনেমার ঘটনা সাদৃশ্য প্রমান করে। যদি অপরাধের অযুহাত পেশকরা হয়, তাহলে অপরাধ দমন করতে অপরাধিকে সনাক্ত করে তাকেই শাস্তির আওতায় এনে অপরাধ দমনকরাই হলো রাষ্ট্রের কাজ। অপরাধিকে নাপেয়ে বা এক, দুজন অপরাধির অপরাধকে সকল নিরাপরাধ মানুষদের কাঁধের উপরে চাপিয়ে দিয়ে সকলের উপরে হত্যাযোগ্য চালানো কোনো ন্যায়নীতি বা আইনের সাশ্বন সম্বলিত কাজ নয়। এটা নিছক অযুহাত তুলে তাদের উপরে দলন পিঢ়ন চালিয়ে নিধন-নিষ্পেশন চালানো ছাড়া আর কিছুই নয়। এ কথাটা যেমন আমরা বুঝি তেমনি বিশ্ব বোঝে এবং মায়ানমারের সু চি সরকার ও বোঝে। তারপরেও সে মায়ানমার ঐ দীর্ঘদিনের অধিকার বঞ্চিৎ রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপরে এমন নারকীয় তা-ব চালিয়ে চলছে যাদেখে বিশ্ব আজ হতবাক। সবার ভাবনা তাহলে এ ক্লিন অপারেশনের পিছে কোন অশুভ শক্তির অঙ্গুলি নির্দেশ মদদ যোগাচ্ছে? আর তা যদি সত্যি হয়, তাহলে সে অশুভ শক্তির পরিচয়ইবা কি? কেন? কি সার্থেই বা তাদের এ ভূমিকায় নিজেকে পেশ করা?
এ সকল প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর বের করার আগে কিছুতেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের আশা করা যেতে পারেনা। আর আশা করলেও নিছক আশা ছাড়া সফলতা আসবেনা। তবে সর্বশ্রেষ্ঠ যে ব্যাপারটি বিশ্বসমাজ ও তার সদস্যদের মধ্যে বিরাজমান থাকা অতিব জরুরী, সে হোলো মাানুষ মানুষই ধর্ম, বর্ণ তার সত্বার দান। কৃষ্ণ-সুভ্র, লম্বা-বেটে, মুসলিম-অমুসলিমের ভেদাভেদ ভুলে সবাকে সমান জানার মানসিকতা পালন করা লাগবে।মানুষকে মানুষের মূল্যয় মূল্যায়ন করার মানসিকতা ব্যতিত সাম্প্রতিক রহিঙ্গাদের এ সংকট সমাধানের সফলতার দেখা পাওয়া আদৌ সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে এ সংকট সমাধানের পথে আমাদেরকে হাটতে হলে প্রথমে এহেন সংকট সৃস্টির পিছে শক্তি যোগানদাতা কুলাঙ্গারদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।
তামাম বিশ্বের সাথে আমরাও লক্ষ্য করেছি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইচ ওয়াচসহ সমগ্র পৃথিবীর অসংখ ব্যক্তি, সংগঠন ও দেশের নানা প্রকার প্রশংসনীয় সমাধানের তৎপরতা। যে প্রচেষ্টাগুলো মাত্র গুটিকয়েক দেশের বিরোধিতার আঘাতে গুড়িয়ে গেলো।কিন্তু কেনো? তাদের চোখ কি বিশ্বের অন্য চোখগুলোর মতো রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনের অবর্ণণীয় দৃশ্যগুলো দেখিনি? যদি দেখে থাকে তাহলে বিরোধিতা কেনো? এমন ন্যাক্কারজনক বিরোধিতাকে মানবমন্ডলি কি তাদের মানবতার মৃত্যু ঘটেছে মনে করবে? নাকি ধর্মীয় প্রতিহিংসার রাহুযহোরে নিহত মানবতাবর্জিত হস্তনির্মিত অকেজো মানব প্রতীমা রূপে ধরে নিবে? এ দুটির কোনোটিই যদি নাহয় তাহলে অবশ্যই রাখাইনে বিধ্যস্ত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিরোধিদেরকে এ সংকট সৃষ্টির মদদ দাতা বলতেই হবে।
এদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য এরাই সু চি সমর্থক ও তার সেনাবাহিনীকে ঐ আগেকার ছায়াছবির খলনায়কদের মত ব্যবহার করে মুসলিম অধ্যুসিত এ রাখাইন অঞ্চলকে তাদের কাজের উপযোগি করে গড়ে তুলতে শক্তি ও সহযোগীতার সর্বাত্মক যোগান দিয়ে জঞ্জাল মুক্তো এলাকা করে বুঝে নিচ্ছে। যাতে করে সে ভূমিকে তারা তাদের মনমোতো কোরে ব্যাবহার করতে তাদের আর কোনো বেগ পেতে না হয়।
সাম্প্রতিক এ সংকটকে সামনেনিয়ে সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় আরো কিছু বড়ো বড়ো বিবেচ্য ঘটনা বিবেকবান মানুষকে ভাবিয়ে চলছে।সেহোলো কেনো জাতিসংঘ কোনো কার্যকর সিদ্ধান্তে উপনিত না হয়েই অধিবেশনের সমাপ্ত ঘাটালো।মানুষকে এমন অবস্থায় ফেলেরেখে যদি স্বনামধন্য এ শান্তির সংস্থাকে কোনো বিধিবিধানের অভাবে বিফল সভার গ্লানির ভাগীদার হতে হয়। তাহলে তার চেয়ে উত্তম হলো সংবিধান সংশোধন করে মানবতার শান্তিতে অবদান রাখা।কিন্তু জাতিসংঘের দিকে বিশ্ববাসীর চাতকপাখির মতো সে চেয়ে থাকা কাঙ্খিত রূপ দান করলোনা। যার কারণে আজও মানুষ প্রশ্ন তুলার সুযোগ পাচ্ছে যে রাখাইনের এ রহিঙ্গারা মুসলিম, তাইকি এ অমুুসলিম স্থায়ী সদস্য বিশিষ্ট জাতিসংঘ কোনো যোগ্য ও কার্যকর সমাধানে উপনিত না হয়েই অধিবেশন সমাপ্ত করল?
শান্তিতে নোবেল জেতা গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সাং সু চির মগ সেনা ও সশস্ত্র নাডালা বাহিনী এবং উগ্র বুদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকেরা আজও গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার উদ্দেশ্যে পথে নামা তিন লক্ষাধীক রোহিঙ্গা। আজহোক কালহোক তারা এই দরিদ্র ছোট্ট বাংলাদেশটায় এসে উঠবেই উঠবে। অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র এ মহাবিপদগ্রস্ত মানুষ গুলো যাতে তাদের দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সীমান্তে কড়াকড়ি নির্দেশ জারি করে রেখেছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ যদি তাদেরকে আশ্রয় না দিত তাহলে চরম নির্যাতনে নির্যাতিত হতেহতে মরা ছাড়া তাদের সামনে আর দ্বিতীয় পথ খোলা ছিল না। তাছাড়া তারা যদি এভাবে এই হতদরিদ্র বাংলাদেশে প্রবেশ করতেই থাকে, তাহলে এদেশের অবস্থাইবা কি দাড়াবে।সে কথা যারা চিন্তা করতে ব্যর্থ, তাদের ব্যাপারে নিশ্চিত ধারনা লাভ করতেই হবে যে এরা কারোনা কারোর কাছে বিবেক বিক্রি দিয়ে বসেছে। এঅবস্থায় মানব সভ্যতার যে বা যারা এ ব্যাপারে যদি চিন্তা নাকরে তাহলে মানবতা সে বা তাদেরকে আর সভ্য মানব বলবেনা।আর এটা চিরন্তন সত্য যে অসভ্য মানব সম্প্রদায় চীরকালই মানব হত্যা করা বা তার স্বপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করাই তাদের মজ্জাগত দোষ।কিন্তু গুটিকয় অসভ্যদের কাছে যদি গোটা বিশ্বের সভ্যতা পরাজিত হয়ে পড়ে, তাহলে সে হবে সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম ব্যর্থতা ও বদনামের কারন। এমনটাই হলে সে লজ্জা আর কোথায় রাখাযাবে! তাই সভ্যমানবতা জীবিত ও সুস্থ সবল থাকতে কোনো মানব সম্প্রদায়কে অসভ্যদের লালশার বলিতে পরিণত হতে দেয়া যায় না। সেজন্য যদি প্রয়োজন পড়ে ঐ অসভ্যদেরকে উপেক্ষা করে তাতাম পৃথীবির সভ্যতার গুনে গুণীদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সংকট নিরোশনের কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয় তা ও করা সমীচীন। বিশ্বসভ্য সার্বভৌম দেশগুলোর কর্ণধারদেরকে ভুলে গেলে চলবেনা যে যুগেযুগে মানবতার কল্যাণে আমাদের ভূমিকাই ছিলো বিজয়ী।আমাদের দুর্বলতার কোনো কারন নেই। পৃিথবীতে মানব সম্পদ সংরক্ষণে মানব স্রষ্টা সভ্যদেরকেই সাহায্য করেথাকে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যেধরনের ঐক্যের আজ বিকল্পই নেই। তাই আসুন মানবতাকে বিপন্নের হাতথেকে রক্ষা করতে ওরা এগিয়ে না আসুক, আমরা সকল সভ্যদেশ ঐক্যবদ্ধহয়ে যোগ্যতম পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসি।
-ডা. মো. মুহিব্বুল্লাহ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ