ঢাকা, শনিবার 21 October 2017, ৬ কার্তিক ১৪২8, ৩০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কারিগরী শিক্ষার সোনালী সোপান দ্রুত ধাবমান

ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমাদ : কারিগরী শিক্ষাই দেশ গড়ার হাতিয়ার। মেধা আর শ্রম দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধানই সত্যিকারের সমৃদ্ধি। দারিদ্র্য, অভাব, অনটন আর অলসতার মোকাবিলায় উন্নতি, শান্তি আর অগ্রগতির পথই হলো কারিগরী শিক্ষা। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বিশ^ব্যাপী আজ উন্নতির সোনালী সোপান দ্রুত ধাবমান।
কারিগরী শিক্ষার মূখ্য মাধ্যম হলো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। কারিগরী জরুরি বিষয় ভিত্তিক  ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা ব্যবস্থায় মধ্যম শ্রেণির কারিগর তৈরীর মহা প্রকল্প এই পলিটেকনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। একসময় এই কারিগরী শিক্ষার ব্যাপারে বিশ্ববাসী ছিল উদাসীন। আধুনিক সভ্যতা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে সাথে উক্ত কারিগরী শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার স্থলে এখন কারিগরী শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দ্রুত বেড়ে চলেছে।
আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্ব কারিগরী বাজারে চাহিদা মোতাবেক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সমারোহ ও সমৃদ্ধি বেড়ে চলেছে। তাই আজ কারিগরী শিক্ষার জোয়ার দিকে দিকে। গৌরবের বিষয় হলো যে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের চাইতেও অধিক হারে পেশাজীবী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হচ্ছে। ব্যবসা,বানিজ্য এবং বৈদেশিক জনশক্তি হিসেবে কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিতগণ বেশি সমাদৃত হচ্ছে। ঢুয়েট সহ দেশের এবং বিদেশের সরকারি বেসরকারি কারিগরী বিশ^বিদ্যালয় সমূহে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার চমৎকার সুযোগ পাচ্ছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ।
কারিগরী কলেজে ডিপ্লোমা-ইন- ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের ২৯টি টেকনোলজিতে এ বছর আসন সংখ্যা ৪৮ হাজার ১৫০। কিন্তু আবেদন এসেছে ১,৫৫,৫৭৭ টি। ইতিমধ্যে মেধা তালিকায় নির্বাচিত হয়েছে ৪১,৮০০ শিক্ষার্থী। বাকি আসনগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। আবেদনকারীদের বাকি ১,০৭,৪২৭ জন শিক্ষার্থী বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহে ভর্তির সুযোগ নিবে। ইতিমধ্যে সারা দেশ ব্যাপী ৫ শতাধিক বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্বত:ষ্ফুর্তভাবে ভর্তি হয়েছে অগনিত শিক্ষার্থী। ভর্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে আরো ব্যাপক সংখ্যক মেধাবী আগ্রহী শিক্ষার্থী। এর কারণ কি ? কারণ বাস্তব সমস্যা ও কারিগরী শিক্ষার গুরুত্ব।
সরকার তাই কারিগরী শিক্ষাকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমানে ১৪% শিক্ষার্থী কারিগরী শিক্ষায় লেখাপড়া করছে। কারিগরী শিক্ষার এ হারকে ইতিমধ্যে ২০%এ উন্নীত করা হয়েছে। দেশে ও বিদেশে কারিগরী ময়দানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা ও দক্ষতার ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
অন্যদিকে কারিগরী শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরের নানিয়ান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ৪২০ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে সুদক্ষ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ১১৫০ জনকে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হবে। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সুদক্ষ প্রশিক্ষক তৈরীতে চীনে পাঠানো হয়েছে আরো ৫৮১ জন শিক্ষককে।
শিক্ষার্থীদের বিশাল অংশকে কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে উৎসাহিত করার সরকারি উদ্যোগ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সাথে সাথে বেসরকারি সব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, অভিভাবক মহল এবং দেশপ্রেমিক শিক্ষাবিদ ও জ্ঞানীদের পক্ষ থেকে চলছে ব্যাপক প্রচার ও প্রসারতা।
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে দেশের অবশিষ্ট ২৩ জেলায় বিশ্বমানের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। দেশের ৪টি বিভাগীয় শহরে ১টি করে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাকী ৪টি বিভাগীয় শহরেও মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাছাড়া প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ১টি করে কারিগরী স্কুল ও কলেজ স্থাপন করা হবে। এভাবেই সরকারি  ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপকভাবে কারিগরী শিক্ষার প্রসারে পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে। কারিগরী শিক্ষার মান বৃদ্ধি হয়েছে। চাহিদাও বেড়ে চলেছে অনেক। কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিতগণ দেশ-বিদেশের সরকারি বেসরকারি শিল্প কারখানায় আত্মনিয়োগ করে উন্নত ভাগ্য রচনা করছে।
দেশ ও জাতিকে করছে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী। চারিদিকে তাই কারিগরী শিক্ষার ব্যাপক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ব্যক্তি, সমাজ, দেশ, জাতি ও আন্তর্জাতিকভাবে আজ কারিগরী শিক্ষার গুরুত্ব অনেক অনেক গুন বেড়ে গিয়েছে। তাই কারীগরী শিক্ষার সোনালী সোপান  দ্রুত ধাবমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ