ঢাকা, শনিবার 21 October 2017, ৬ কার্তিক ১৪২8, ৩০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কলারোয়ায় ১২৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী উপ-বৃত্তির টাকা হতে বঞ্চিত

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: শিওর ক্যাশ কর্তৃক কলারোয়ায় ১২৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতশত শিশু শিক্ষার্থীর উপ-বৃত্তির টাকা লোপাট এবং জনপ্রতি ১০ টাকা হারে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, রূপালী ব্যাংক শিওর ক্যাশের মাধ্যমে প্রথম দফায় বিগত ২০১৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিক দুই কিস্তির টাকা এক সংগে প্রদান করা হয়। গত ফেব্রুয়ারী মাসে জনপ্রতি মাসিক ১’শ টাকা হারে প্রথম দফার টাকা প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় দফায় শিওর ক্যাশের মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে ২০১৭ সালের জানুয়ারী-মার্চ এবং এপ্রিল-জুন দুটি ত্রৈমাসিক কিস্তির টাকা প্রদান করা হয়। শিওর ক্যাশের এই দুই দফায় টাকা গ্রদানে গুরুতর অনিয়ম এবং সীমাহীন দূর্নীতি সংঘটিত হযেছে।
লোহাকুড়া প্রাথমিক বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষিকা বিলকিস সাহানা জানায়, গত ফেব্রুয়ারী মাসে প্রথম দফায় টাকা প্রদানের সময় তার বিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থীর মোবাইল নাম্বার ভুল থাকার কারণে তারা টাকা পায় নি। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় টাকা প্রদানের আগে তাদের মোবাইল নাম্বার সংশোধন করে পাঠানোর পরেও তারা দ্বিতীয় দফায় কোন টাকা পায় নি। মোবাইল নাম্বার ঠিক থাকার পরেও লোহাকুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৭ শিক্ষার্থী ২য় দফায় টাকা পায় নি। এদিকে ঝাপঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজামান জানায়, এই স্কুলে শিক্ষিকা আছমা খাতুনের দুই সন্তান পড়াশুনা করে। শিক্ষিকা আছমার দুই সন্তানের জন্য প্রথম দফায় মাসিক ১’শ টাকা হারে দুটি ত্রৈমাসিক বাবদ ৬’শ টাকা করে মোট ১২০০ টাকার বিল করে পাঠানো হয়। কিন্তু শিওর ক্যাশের মাধ্যমে আছমা খাতুনের মোবাইলে মাত্র ৬’শ টাকা আসে।
অভিযোগ করার পরেও সেই টাকা আর দেওয়া হয় নি। মোবাইল নাম্বার ঠিক থাকা সত্বেও সোনাবাড়িয়া প্রাইমারী স্কুলে তিন শিক্ষার্থী এবং কাকডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষার্থী উপ-বৃত্তির টাকা পায় নি বলে প্রধান শিক্ষকদ্বয় জানায়। এভাবে কলারোয়া উপজেলার ১২৭ প্রাইমারী স্কুলের শতশত শিক্ষার্থী উপ-বৃত্তির টাকা পায় নি। সোনাবাড়িয়া, ঝাপাঘাট, কাকডাঙ্গা প্রাইমারী স্কুলে কতিপয় অভিভাবক ও প্রধান শিক্ষকত্রয় শিওর ক্যাশের এজেণ্টদের মাথা পিছু ১০ টাকা থেকে স্থান বিশেষে ২০ টাকা ঘুষ গ্রহণের কথা জানায়।
কলারোয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকবর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে কত জন শিক্ষার্থী উপ-বৃত্তির টাকা বঞ্চিত হয়েছে এবং কত জন এজেণ্ট উপ-বৃত্তির টাকা প্রদানে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে তার সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেন নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ