ঢাকা, শনিবার 21 October 2017, ৬ কার্তিক ১৪২8, ৩০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাখিদের অভয়ারণ্য শ্রীনগর সরকারী কলেজ

জাতির হোসেন, মুন্সীগঞ্জ: পাখিদের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর সরকারী কলেজ। স্ব-চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না। কলেজের আম, জাম, কড়ইসহ নানা ধরনের উচু গাছে কয়েক হাজার পানকৌড়ি পাখি আবাস গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি অনেক গাছের ডালে অসংখ্য বাদুড়কেও ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। অনুসন্ধানে জানা-গেছে, মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরের আড়িয়াল বিলসহ খাল-বিলের পানি কমে যাওয়ার কারণে খাদ্যের সন্ধ্যনে আসা বক, ত্রিশুল, কাদাখেচো, শালিক, পানকৌড়ি রাতচোরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখিদের সমরাহ ঘটেছে। কলেজে সারাদিনই পানকৌড়ির আনাগোনা। কলেজে পরন্ত বিকেল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অসংখ্য পানকৌড়ি পাখিরা নীড়ে (কলেজের বিভিন্ন উচু গাছের ডালে) ফিরতে থাকে। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে কলেজসহ আশ-পাশের এলাকা। এক সাথে এত পানকৌড়ি এক সাথে দেখার জন্য উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে অনেকেই ভিড় জমায় কলেজ প্রাঙ্গণে। শ্রীনগর সরকারী কলেজে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। মনে হয় কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থীদের সাথে পানকৌড়ি পখিগুলোর অনেক দিনের চেনা। যেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্ব-যতেœ লালন পালন করছেন তাদের। শ্রীনগর সরকারী কলেজ প্রফেসর গোলাম মোস্তফা সরকার বলেন, এতো পানকৌড়ি এক সাথে এক স্থানে সাধারণত দেখতে পাওয়া যায়না। পাখি গুলোকে কেউ যাতে কোন প্রকার ক্ষতি সাধন করতে না পারে সে জন্য আমরা সবাই নজর রাখছি। পাশা-পাশি দর্শন বিভাগের প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম পানকৌড়ি পাখি গুলোর প্রতি নজর রাখছে। এ বিষয়ে প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাধারণত কয়েক বছর ধরে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে কলেজে অসংখ্য পানকৌড়ি দেখতে পাওয়া যায়।  প্রতিদিন প্রায় ১০/১২ জন পাখি শিকারি পানকৌড়ি পাখি শিকার করতে আসে। আমি তাদের শিকার না করার জন্য বুঝিয়ে বলি। পাখি শিকারিদের শিকার না করতে দেওয়া খুবই কঠিন কাজ। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনিকেও অবহিত করা হয়েছে। এমনকি  উচু গাছের মাথায় পানকৌড়ির বাসা থেকে বাচ্চাগুলো কলেজের পুকুরে পড়ে গেলে। যাতে সাঁতার কেটে উঠতে পারে সে জন্য আমরা পুকুরের বিভিন্ন স্থানে গাছের ডাল কেটে দিয়েছি। জন সচেতনার অভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ে আমাদের আশপাশে নানা প্রজাতির পশু পাখি প্রায় ধ্বংসের পথে। ১৯৭৪ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ হলেও সে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। দেশীয় প্রজাতির এসব পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অতিব প্রয়োজনীয়। তাই, পাখি শিকারিরা যাতে অন্যায় ভাবে পাখির অভয়ারণ্য শ্রীনগর সরকারী কলেজের আগত পানকৌড়ি পাখিসহ অন্যান্য পাখিদের শিকার করতে না পারে। সে জন্য অতিসত্তর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ