ঢাকা, শনিবার 21 October 2017, ৬ কার্তিক ১৪২8, ৩০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বর্ষা মওসুমে বিল বাওড়ে পানি থাকলেও মাছ নেই

মাগুরা থেকে ওয়ালিয়র রহমান: মাগুরা জেলায় বর্ষা মওসুমে বিল বাওড়ে পানি  থাকলেও মাছ নেই। মাছ না থাকার কারনে  জেলেরা জাল উঠিয়ে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। সুষ্টু পরিকল্পনা না থাকায় মাছের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। কৃষকরা তাদের চাষাবাদের প্রয়োজনে বিল বাওড়ের পানি ছেড়ে দেয়। আর এ কারনে বিল বাওড়ের পানি আগের মত দীর্ঘদিন জমে না থাকায় মাছ বেশী বড় হতে পারেনা। এ কারণে মাছের ঘাটতি পূরনে সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। বর্ষা মওসুমে সকল বিল বাওড় ও জলাভ’মি পানিতে ভরে গেলেও  মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি হচ্ছেনা। জেলা মৎস্য বিভাগ প্রতি বছর ঘটা করে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর নামে মুক্ত জলাশয়ে  মাছের পোনা আবমুক্ত করলেও তা তেমন কাজে আসছে বলে মনে হয়না। জেলার প্রধান প্রধান নদ-নদী গুলো বর্তমানে পানির অভাব থাকলেও  বর্ষার সময় নদী পানিতে ভরে যায়। জেলায় জেলেদের সংখ্যাও কম নয়, তাদের রয়েছে প্রয়োজনীয় জাল নৌকা কিন্তু নদ-নদীতে নেই মাছ। সারাদিন জাল বেয়ে  যে, পরিমান মাছ তারা পায় তা দিয়ে একজনের ভরণ পোষন চালানো কষ্টকর । তার উপর রয়েছে তাদের পরিবার। এ কারণে অনেকেই পেষা ছেড়ে অন্য পেষায় যেতে বাধ্য হচ্ছে। মাগুরা জেলায় মাছের চাহিদা বছরে ১৭ হাজার ৪’৩১ মেট্রিক টন।উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৬০ মেট্রিক টন।চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকছে প্রতি বছর ২ হাজার ৩ শ’ ৭০ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের ২০ মেট্রিক টন মাছের পোনা অবমুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।  
প্রতি বছর জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে সরকারি ভাবে মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা ছাড়া হয় নানান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু সে মাছ যায় কোথায় তা কেউ জানেনা। মাগুরা জেলায় প্রধান নদ-নদীর মধ্যে গড়াই, মধুমতি, নবগঙ্গা, কুমার ও ফটকি নদী প্রধান। শুস্ক মৌসুমে এসব নদ-নদীতে পানি তেমন একটা না থাকলেও বর্ষা মৌসুমে নদীগুলো পানিতে ভরে যায়। প্রতি মৌসুমে মৎস্য বিভাগ মৎস্য সপ্তাহ পালন করে। বিভিন্ন নদ- নদীর জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয় ঘটা করে। সরকারের লাখ লাখ টাকার পোনা ছাড়ার নামে বিভিন্ন  কর্মসুচি নেয়া হয়। কিন্তু কি পরিমান মাছের পোনা ছাড়া হয় তা কেউ জানেনা। আসলে ছাড়া হয় নাকি খাতা কলমে দেখানো হয় এ প্রশ্ন দেখা দেয় তখনই যখন জলাশয়ে মাছের কোন দেখা  পায়না জেলেরা।  তবে সরকারের উদ্দেশ্য মানুষের আমিষের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ করার। সাথে সাথে জেলার ৫০ হাজার জেলে পরিবারের কাজের সুযোগ সৃষ্ঠি করা। কিন্তু এ পরিকল্পনা কাদের কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়না তা কেউ কোন সময় হিসাব নেয়না। জেলায় মৎস্য বিভাগের হিসেব মতে জেলায় ৬ হাজার পুখুর, ৮১টি বিল,৬৮ টি বাওড়, ৫১টি খাল, ৮টি নদী ও ২০টি প্লাবন ভ’মী রয়েছে।এ হিসেব হয়ত খাতা কলমে, বাস্তবে এর মিল খুজে পাওয়া যাবে না। এমন কথা বলে  থাকে অনেকেইে। 
মাগুরা জেলার মাছের ঘাটতি কমাতে মৎস্য বিভাগের আন্তরিক ভাবে কাজ করতে হবে। কেবলমাত্র প্রতি বছরের মত মৌসুমে ককেটি জলাশয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে মাছের পোনা অবমুক্তির মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে মাগুরার মাছের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবেনা।সরকারের পরিকল্পনাও কোনদিন বাস্তবায়ন হবেনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ