ঢাকা, রোববার 22 October 2017, ৭ কার্তিক ১৪২8, ১ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পল্লী বিদ্যুতের অনিয়ম দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানি বন্ধ না করলে কঠোর কর্মসূচি

 

সিলেট ব্যুরো : সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহকদের হয়রানির প্রতিবাদে দক্ষিণ সুরমায় সিলাম, জালালপুর ও মোগলাবাজার  ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে তিন  ইউনিয়নের সংযোগস্থল বৈরাগীবাজারে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বৈরাগীবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সুবল চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবী আলা উদ্দিন তুলার পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ আমাদের অতি প্রয়োজনীয় এবং নিত্যদিনের সাথী। অথচ সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহকদের মিটার স্থাপন কিংবা লাইন সংযোগের সময়ে ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। যে কোন সমস্যা নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে কর্মকর্তারা অশোভন আচরণের পাশাপাশি ঘুষ দাবি করেন। অথচ প্রধানমন্ত্রীর  উদ্যোগ ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এই শ্লোগান তারা কাজে লাগাচ্ছেন না।

বক্তারা বলেন, বিদ্যুতকে কেন্দ্র করেই জনগণ ফ্রিজে অনেক টাকার মাছ, মাংস ও অন্যান্য জিনিস সংরক্ষণ করেন। বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হলে এ সমস্ত দ্রব্য নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি এ সময় অসুস্থ, বয়:বৃদ্ধ, মুমূর্ষু রোগীদের জীবন মরণের ঝুঁকি বাড়ায়। বিদ্যুৎ পাবার জন্য এদেশের জনগণের ত্যাগ সর্বোচ্চ। গ্রাহক তার অতি মূল্যবান জায়গাতেও বৈদ্যুতিক খুঁটি টানা ও লাইন তার নিতে আপত্তি করে না। লাইন বা তারের সাথে গাছের সংযুক্তি হওয়া মাত্রই গ্রাহকের দীর্ঘদিনের লালিত পালিত গাছটি অফিসের লাইনম্যানরা কাটাকাটি করলেও গ্রাহক কোন অভিযোগ করে না, কোন ক্ষতিপুরণ দাবি করে না। কিন্তু কোন কারণে লাইন, খুঁটি বা তার বিষয়টি নিয়ে অফিসের সহযোগিতা চাইলে বিনিময়ে বিদ্যুৎ অফিস থেকে পাওয়া যায় অশুভ আচরণ। অথচ হওয়া উচিৎ ছিল বিপরীতমুখী। যেহেতু সাধারণ জনগণ বিদ্যুৎ পেতে সর্বদা উদগ্রীব থাকেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এই সুযোগে নানা কারসাজি ও অনিয়মের দ্বারা ইচ্ছামত বিল তৈরী ও টাকা আদায় করে থাকে। 

প্রতিবাদ সভায় গ্রাহকরা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সহ¯্রাধিক গ্রাহক প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন। এ সময় ভুক্তভোগী গ্রাহকরা প্রমাণসহ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃক হয়রানীর চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরেন।

প্রতিবাদ সভায় এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মুরব্বী সিদ্দিক আলী মাস্টার, আব্দুল কাদির, ফারুক মিয়া, সোনাহর আলী, আমীর উদ্দিন, আমীর আলী, আব্দুস শহীদ মাস্টার, শফিক উদ্দিন মেম্বার, ফয়জুল বারী ফটিক, হেলাল উদ্দিন গণি, ডাক্তার হাফিজুর রহমান মানিক মিয়া, মহিবুর রহমান কাচা মিয়া, আজির উদ্দিন, কবি আতিকুর রহমান, প্রদীপ চন্দ্র, মাস্টার আবুল হোসেন, আফতাব মিয়া, ছোরাব আলী, ময়না মিয়া প্রমুখ। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ক্বারী নেছার আহমদ।

ফররুখ আহমদ হলেন চেতনাবোধের কবি : এমসি বিশ^বিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যাপক আজিজুর রহমান লস্কর বলেন, কবি ফররুখ আহমদ এর কবিতায় বাংলাভাষা ও বাংলাদেশের মানুষের জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁর কবিতায় পাওয়া যায় বাংলার শেকড় ও সংস্কৃতি। তাই কবি ফররুখ আহমদ হলেন চেতনাবোধের কবি। গত শুক্রবার রাতে সিলেট সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে কবি ফররুখ আহমদ এর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি কবি কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের পরিচালক প্রাবন্ধিক জাহেদুর রহমান চৌধুরীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক কবি বাছিত ইবনে হাবিব, শাবিপ্রবির ডেপুটি রেজিষ্টার আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, মাসিক আল ইসলাহর সাবেক সম্পাদক কবি নাজমুল আনসারী, সহকারী অধ্যাপক রফিক মিয়া মজুমদার, প্রাবন্ধিক আহমদ হোসাইন, এডভোকেট জুনেদ আহমদ, ক্বারী আব্দুল বাছিত মিলন। কুরআন থেকে তেলাওয়াত করে সাব্বির আহমদ রাফি, সঙ্গীত পরিবেশন করে শাহ মো: তাজুল ইসলাম।  বক্তারা বলেন, কবি ফররুখ আহমদ মানুষের মধ্যে চেতনাবোধ তৈরি করে গেছেন। স্বাধীনতা সাম্য ও মুক্তির চেতনা তৈরি করে গেছেন। তাই আজকে কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে সেই জাগরণ ও চেতনাবোধ আরো বেশী করে জাগ্রত করা একান্ত প্রয়োজন। মানুষের মুক্তির কথা, স্বাধীনতার কথা বেশী করে লেখা প্রয়োজন। কবি ফররুখ আহমদের কবিতা পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ