ঢাকা, রোববার 22 October 2017, ৭ কার্তিক ১৪২8, ১ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাহত্যা বৃহৎ শক্তিগুলোর মুসলিম নিধনের অংশমাত্র

জিবলু রহমান : [সাত]
গণধিকৃত ফ্যাসিস্ট সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য গণআন্দোলন তারপর নিয়মিতভাবে চলতেই থাকে। ফলে দীর্ঘ ৩০ বছর পর ১৯৯৯ এর মে মাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১০০-রও বেশি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন দল (এনএলডি) ৪৮৫ আসনের মধ্যে ৩৯২টি আসনে জয়ী হয়। আর সামরিক জান্তা সমর্থিত ন্যাশনাল ইউনিটি জয়ী হয় মাত্র ১০টি আসনে। কিন্তু এ বিশাল জয় সত্ত্বেও “রাষ্ট্র পরিচালনায় উপযুক্ত নয়”-এ অজুহাতে সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে। সামরিক জান্তার নির্বাচনের আগেই সুচির জনপ্রিয়তা দেখে ভীত হয়ে ১৯৮৯ সালের ২০ জুলাই তাকে গৃহবন্দী করে।
গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় ফ্যাসিস্ট জান্তা সরকারের নৃশংসতা ও বর্বরতার প্রতিবাদে টানা ২২ দিন অনশন করে পৃথিবীবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নির্বাচনে যখন সু চির দল জয়লাভ করে তখনো তিনি গৃহবন্দী। ১৯৯১ সালের ১৪ অক্টোবর তাকে শাস্তির জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়, তখনো তিনি গৃহবন্দী। ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল জেনারেল খান শোয়ে নতুন সামরিক প্রধান হিসেবে দেশের দায়িত্ব নেন। ১৯৯৫ সালের ১০ জুলাই দীর্ঘ ছয় বছর অন্তরীণ থাকার পর সুচিকে মুক্তি দেয়া হয়। এ মুক্তির কিছু দিনের মধ্যেই সুচির মিটিং, মিছিলে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতে থাকে।
১৯৯৬ সালের ৭ জুন সু চি’র বিরুদ্ধে ফরমান জারি করে বলা হয়, ‘সুচির কোনো ভাষণে যেসব মানুষ আসবে তাদের গ্রেফতার করে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড প্রদান করা হবে।’ ১৯৯৬ সালের ৯ নভেম্বর সুচির গাড়ি বহরে সরকারপন্থী ইউএসডি কর্তৃক হামলা করা হলে তার ছয়জন সহযোগী নিহত হন। এরপর সু চি’-কে আবারও গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৯৯ সালে তার লন্ডন প্রবাসী স্বামী মাইকেল এরিস ক্যান্সারে মারা গেলে সু চিকে লন্ডনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, ফিরে আসতে পারবেন না এ শর্তে। কিন্তু এ শর্ত মানেই যে মিয়ানমারের নির্যাতিত মানুষদের নিঃসঙ্গ করে দেয়া এটি সু চি ভালোভাবে বুঝেছিলেন। তাই এ শর্ত তার পক্ষে মানা সম্ভব হয়নি। তিনি গৃহবন্দীই থেকে যান। ২০০৬ সালের মে মাসে সু চির মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। ২০ মে জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল ইব্রাহিম গামবারি মিয়ানমার এলে সামরিক জান্তা তাকে বলেছিল ২৭ মে সু চি’র মুক্তি দেয়া হবে। কিন্তু সামরিক জান্তা আবার গণতন্ত্রকামী জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সুচির গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ আরো এক বছর বৃদ্ধি করেন।
 বিভিন্ন দেশের সামরিক শাসকের যেমন খেয়াল হয় একটি নতুন রাজধানী করার মিয়ানমারের শাসকও তার থেকে ব্যতিক্রম নয়।  উপকূলীয় অঞ্চল ইয়াঙ্গুন থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত করা হয় স্থলবেষ্টিত পিয়ানমানা’য়।
নতুন ও অধিকতর উন্নত অস্ত্র নিয়ে সামরিকবাহিনী আধুনিকায়নে মিয়ানমারের উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘তাতমাদাউ’ নামেও পরিচিত। প্রায় ৬০ বছর আগে যেমন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হালকা পদাতিক বাহিনী ছিল এখনো এ বাহিনীর সে পরিচয় ঘুচেনি। থাইল্যান্ডের সাথে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন এবং অন্যান্য সশস্ত্র বিদ্রোহী তৎপরতা দমনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রায় যে আক্রমণ পরিচালনা করছে তাতে ৬০ বছর আগের পরিচয়টিই ফুটে উঠে বারবার। সামরিক বাহিনীর ব্যাপক উন্নয়ন সত্ত্বেও মিয়ানমারের প্রায় ৬৫ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান হয়নি। স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং স্কুল ও স্বাস্থ্য সুবিধার ব্যবস্থা করা ও এ সংক্রান্ত অবকাঠামো গড়ে তুলে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠীর লোকজনের হৃদয় জয় করার পরিবর্তে সেনাবাহিনী উপর্যুপরি সামরিক আক্রমণ পরিচালনা করছে। আর এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এমন সব স্থানে যেখানে জাতিগত গোষ্ঠীগুলো ষ্টেটপিস এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এসপিডিসি) এর শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে পরিচালিত এসব সামরিক অভিযান সমস্যার কোন সমাধান করেননি, বরং বছরের পর বছর বিদ্রোহী তৎপরতায় ইন্ধন জুগিয়েছে। কয়েকটি জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে অস্ত্র বিরতিতে উপনীত হওয়া সম্ভব হলেও কে এন ইউ, কারেনি ন্যাশনাল প্রগ্রেসিভ পার্টি, শ্যানু স্টেট আর্মি (দক্ষিণ) ও চীন ন্যাশনাল ফ্রন্টসহ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এখনও বার্মা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক অগ্রগতির অভাবে অস্ত্র বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরকারী অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী অসন্তুষ্ট। এখন এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে, যদি চাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে অস্ত্র বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কয়েকটি অথবা সবগুলো আবার সশস্ত্র সংগ্রামে ফিরে যেতে পারে। অন্যদিকে বিদেশী আগ্রাসন থেকে নিজেকে রক্ষা করার ওপরই এসপিডিসি অধিক মনোযোগ দিয়েছে। এসপিডিসি বিপুল ব্যয়ে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে, গ্রাম ও শহরে সরকার সমর্থিত জঙ্গিদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে অর্šÍভুক্ত করছে। গত দশক এসপিডিসি উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে। গোলন্দাজ ও সাঁজোয়া যান ইউনিটের সামর্থ্য ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে প্রচলিত প্রতিরক্ষা সামর্থ্য উন্নয়নের প্রতি দৃষ্টি রেখে। গত ২ দশকে প্রতি বছর সামরিক সংক্রান্ত খাতে যে ব্যয় করা হয়েছে তা মিয়ানমারের বার্ষিক জাতীয় বাজেটের প্রায় অর্ধেক। তথাপি সামরিক বাহিনীর বিদ্রোহী তৎপরতা মোকাবেলার সামর্থ্য ব্যয় অনুপাতে বাড়েনি। কয়েক বছর আগের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরছি। লড়াইক্ষেত্রে একজন সাধারণ সৈনিক এখনো একই যুদ্ধ করে চলছে। তার হাতে সেকেলে অস্ত্র। খাদ্য ও ওষুধের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে দুর্বল নৈতিক মনোবলের অধিকারী সৈন্যটি জানে যদি সে লড়াই করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়, তাহলে নিকটবর্তী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হবে। ইউক্রেন ও চীনের কাছ থেকে মিয়ানমার ট্যাংক ও সাঁজোয়াযান (এপিসি) ক্রয় করেছে। অষ্ট্রেলিয়াভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক এ্যান্ড্রু সেলথ’এর মতে সামরিক জান্তা ইউক্রেন থেকে ৫০টি টি-৭২ ট্যাংক সংগ্রহ করেছে। চীনের কাছে থেকে ১০৫টি টি-৬৩ হালকা ট্যাংকের পাশাপাশি সামরিক জান্তা টি-৬৯ দ্বিতীয়, টি-৫৯ডি টি-৮০ এবং টি-৮৫’র মতো প্রধান যুদ্ধ ট্যাংক কিনেছে দুই শ’টির বেশি। সামরিক শাসক চীনের কাছ থেকে তিনশ’ লাকি টি-৮৫ ও টি-৯০ প্রকৃতির সাঁজোয়াযান ক্রয় করেছে।
সেনাবাহিনীর নতুন গোলন্দাজ ইউনিট সজ্জিত করা হয়েছে এক শ’র অধিক ১৫৫ মিলিমিটার ডব্লিউপি ৫২ এবং ১২২ মিলিমিটার টাইপ ৫৪ ক্ষুদ্র কামান দিয়ে। চীনের কাছে থেকে ৩০টি ১০৭ মিলিমিটার টাইপ ৬৩ মাল্টিপল রকেট লঞ্চার, ইসরাইলের কাছে থেকে ১৬টি ১৫৫ মিমি সোল্টাম ফিল্ড কামাল, উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ১৬টি ১৩০ মিমি টাইপ ৫ ফিল্ড কামান এবং ভারতের কাছ থেকে ৮০টি ৭৫ মিমি পাহাড়ি ছোট কামান সংগ্রহ করেছে মিয়ানমার। স্বতন্ত্র কারেন মানবাধিকার গ্রুপের রিপোর্ট অনুযায়ী ভারী অস্ত্র-শস্ত্রের ব্যবহারের একমাত্র দৃষ্টান্ত হচ্ছে ১২০ মিমি মর্টারের ব্যাটারি। উত্তরাঞ্চলয় কারেন রাজ্যের লার মুপ্লাউ ঘাঁটি গুড়িয়ে দিতে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। রাশিয়া থেকে কেনা মিগ-২৯ এবং চীনের কাছে থেকে কেনা পুরনো এফ-৭ ও এ-৫ নিয়ে বেশ আলোচনা হলেও বিদ্রোহ মোকাবেলার নামে কারেন রাজ্যের আকাশে এসব যুদ্ধ বিমানকে দেখা যায়নি। নব্বাইয়ের দশকে চীনের কাছ থেকে এসপিডিসি ৫০টি এফ-৭ এবং ৪৮টি এ-৫ ভূমিতে হামলা করার যুদ্ধ বিমান কিনে। পরবর্তীতে রাশিয়া থেকে কেনা ১০টি মিগ-২৯ এ বিমানবহরে যোগ করা হয়।
২০০৪ সালে সার্বিয়া থেকে বিমান কারিগর আনা হয় ১টি সোকো জি-৪ গালিব ভূমিতে আক্রমণে সক্ষম যুদ্ধ বিমান মেরামত করার জন্য। খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে এ বিমানগুলোকে আকাশে উড়া থেকে বিরত রাখা হয় কয়েক বছর। ভ্রাম্যমান গেরিলা ইউনিটের ওপর হামলা চালাতে এ বিমানগুলো খুব একটি সক্ষম নয়। অন্যদিকে নিচু দিয়ে চলার কারণে কোন সৌভাগ্যবান কারেন বিদ্রোহীর গুলিতে এটির ভূপাতিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং খুচরা যন্ত্রাংশের অভাব এ বিমানগুলোকে অকেজো করে রেখেছে। সামরিক বহিনীর হেলিকপ্টার বহরের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।
৩০ মে ২০০৬ দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচন্ড বিক্ষোভ হয়। সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেসক্রেসি কর্মীদের সঙ্গে সামরিক শাসকের লেলিয়ে দেয়া গুন্ডা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এতে সু চিসহ অনেক নেতাকর্মী হতাহত হন। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সারা বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত রাজালি ইসমাইলকে দ্রুত ইয়াংগুনে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে সু চিকে আটক করার প্রতিবাদে আমেরিকা, বৃটেনসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিবাদ করে। প্রথমদিকে রাজালি ইসমাইলের সঙ্গে সু চিকে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি। পরে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের চাপে সামরিক সরকার নতি স্বীকার করে। ইয়াংগুনের একটি সরকারি রেস্ট হাউসে রাজলি ইসমাইল সাক্ষাৎ করেন সু চির সঙ্গে। সরকার মাত্র এক ঘন্টা সময় নির্ধারণ করে দেয়। তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যত মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উন্নয়নে একটি কার্যক্রম ঠিক করেন। রাজালি ইসমাইল সিঙ্গাপুরে যাত্রা বিরতিকালে সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ ও সু চির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাজালির মতে, সু চি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। রাজালির পাঁচ দিনের সফরে সু চি’র সঙ্গে দেখা করা ছাড়াও তার মুক্তির ব্যাপারে সামরিক শাসকের সঙ্গে একটা রফা করেন। এর ইঙ্গিত তিনি সাংবাদিকদের দেন।  সর্বশেষ যে বিদেশী তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি ইব্রাহীম গাম্বারি। জাতিসংঘের এ দূত জানান, সু চি ভালো আছেন। মিয়ানমারের রাজনৈতিক অগ্রগতিতে সু চি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। ইয়াংগুনে নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিকরা সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
মিয়ানমারের জান্তা অব্যাহতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আসছে বলে জেনেভা ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অপ দি রেড ক্রস ২৯ জুন ২০০৭ প্রকাশ্যে নিন্দা জানিয়েছে। নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে এসে এক ব্যতিক্রমী বিবৃতিতে রেড ক্রস বলেছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর নেয়া কঠোর নীতির ফলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সেখানকার হাজার হাজার মানুষ। সংস্থাটি জানায়, বিশেষ করে থাই সীমান্তের কাছাকাছি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জনগণ এবং বন্দিদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় আগে রুয়ান্ডার গণহত্যা সম্পর্কে প্রকাশ্যে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল রেড ক্রস। এরপর মিয়ানমারের ক্ষেত্রেই সংস্থাটি প্রকাশ্যে মুখ খুললো। কঠোর ভাষায় লিখিত ওই বিবৃতিতে রেড ক্রসের প্রেসিডেন্ট জ্যাকব কেলেনবার্গার অভিযোগ করে বলেন, মিয়ানমারের সেনা সরকার হাজার হাজার বন্দিকে সশস্ত্র বাহিনীর কুলি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এমনকি তাদের মাইন অপসারণের কাজেও বাধ্য করা হয়। অপুষ্টিতে ভোগ্য এসব বন্দিদের অবস্থা নাজুক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ