ঢাকা, রোববার 22 October 2017, ৭ কার্তিক ১৪২8, ১ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

রোহিঙ্গা
ইকবাল কবীর মোহন

রাখাইনে জ্বলছে আগুন
পুড়ছে বাড়িঘর
বর্মী সেনার বর্বরতা
বইছে খুনের ঝড়।

রোহিঙ্গারা আসছে ছুটে
দেশে দলে দলে
অনেক মানুষ মরছে পথে
নাফের গভীর জলে।

রোহিঙ্গারা কষ্টে এখন
সহায়-সম্বল হারা
ক্ষুধা-জ্বরা নিত্য তাদের
করছে কেবল তাড়া।

বর্মী সেনার প্রতিরোধে
উঠুক জেগে বিশ্ব
নিরাপদে দেশে ফিরুক
রোহিঙ্গা সব নিঃস্ব।


জলদি ছুটে যাও
মুহাম্মদ আলী মজুমদার

আরাকানে জ্বলছে আগুন
দেখরে চেয়ে ওই
সালাউদ্দিন-তারিক-মুসা
ওমর-আলী কই!

মজলুমানের আর্তনাদে
আকাশ-বাতাস ভারী
চারিদিকে ভাসছে শুধুই
করুণ আহাজারি।

নির্যাতিতদের মুক্তি দিতে
অস্ত্র তুলে নাও
মানবতা কাঁদছে যেথায়
জলদি ছুটে যাও।

সুচি

মগ সেনারা মারছে মানুষ
সুচি যে নিশ্চুপ
বিশ্ববাসী দেখল এবার
সুচির আসল রূপ।
সুচি এখন ডাইনী বুড়ী
রক্ত-খেকো নারী
সুচির কানে ঢুকছে না তাই
করুণ আহাজারি।

তোর বিবেকে থুথু মারি
শোন্ হে শয়তান সুচি
তোর চেয়ে ঢের ভালো আছে
শান্তিকামী মুচি।


কিশোর লিবাস
মো. সাইদুল ইসলাম সাঈদ

আমাদের ছেলেবেলায়
পোশাকের সাজ,
ছিল না ফ্যাশন-ঢক
এতো কারুকাজ।

এক জোড়া কাপড় আর
এক জোড়া জুতো,
নেতি ভরা হাফপ্যান্ট
খশখশে সুতো।
লাইলন শার্ট আর
পায়জামা ঢিলে,

জুতো ছাড়া হেঁটে যখন
এসে গেছে ঈদ,
বানিয়ে দেবার তরে
ধরতাম জীদ।

বিয়েথা-কুটুম বাড়ি
পাঠশালা হাট,
পোশাক একই তবে
ধুয়ে ফিটফাট।

উৎসব এলে পরে
ভাজ করে রাতে,
দিয়েছি বালিশ চাপা
সোজা হয় যাতে।


মৌ-মাসি   
হোসাইন মোস্তফা

বাড়ির পাশে বকুল গাছে
হঠাৎ দেখি কাল
মৌমাছিরা বাঁধছে বাসা
নেচে তাধিন তাল।

গুনগুনাগুন গুঞ্জরনে
করছে মুখরিত
তাইনা দেখে ডানপিটেরাও
ভীষণ রকম ভীত।
গাছেই পেঁকে আছে কত
ডাসাডাসা কুল
ভুলেও তবু চড়ছে না কেউ
ফোটায় যদি হুল!

ফুরুত ফুরুত উড়ছে যে মৌ
ঘুরছে ঝাঁকে ঝাঁকে
পাড়া জুড়ে জাগলো সাড়া
জমবে মধু চাকে।

ভাবছে খোকন আসছে বুঝি
তার সে প্রিয় মৌ-মাসি
মাসি থাকেন শ্বশুরবাড়ি
নোয়াখালীর চৌগাছি।


মানুষ মারে
মোস্তফা কামাল সোহাগ

মানুষ মারে দিনে রাতে
ঘর পুড়ে ছাই-
লাখে লাখে মরছে মানুষ
তাহার হিসাব নাই।

মানুষ হয়ে মানুষ মারে
কোন বিধানে আছে-
সঠিক বিচার চাই যে পেতে
খোদাতালার কাছে।

কাঁপছে আকাশ কাঁপছে মাটি
দেখে শিশুর কান্না।
রোহিঙ্গাদের রক্ষা করতে
বিশ্বের সবাই জাননা।

মিয়ানমারে সেনার হাতে
মরছে মুসলমান
তাদেরকে আজ বাঁচিয়ে রাখো
দিয়ে সবাই ত্রাণ


আল্লাহর কথা বলি
শরীফ সাথী

আল্লাহর সাথে সন্ধি করে
সত্যের পথে চলি,
ভালোতে মন বন্দি করে
আল্লাহর কথা বলি।।

এই পৃথিবী সৃষ্টি করলো
এই মানুষের জন্য,
তাঁর গুণগান গেয়ে যেতে
পারলে হবো ধন্য।।
মুহাম্মদ এর নূরের আলোয়
এসো আমরা জ্বলি।

এই মানুষের জন্য কোরআন
পাঠালো এ ধরায়,
মিষ্টি মধুর সুরে সুরে
সেই বানীকে ছড়ায়।।
মুসলমানের ঘরে আমরা
মুমিন হয়ে ফলি।।


হেমন্তে দেখি
ফরিদ আহমেদ হৃদয় 

সোনা রঙের ধানে ভরা ওইযে কত মাঠ

চাষি ভাইয়ের মনে জাগে যেনো খুশির হাট।

পাকা ধানের গন্ধে মুহু গাঁও-গেরামের বাও

চাষি ভাইয়ে ধান আনছে বোঝাই করে নাও।   
হালের গরু ব্যস্ত অতি মাড়াইয়ের কাজে       
কিষানিরা ভরছে গোলা সকাল হতে সাঝে।

কেউবা আবার ধান বুনিতে ঢেকিঁর ওপর দাড়াঁয়

পিঠা খাওয়ার ধুম পড়েছে দেখি সকল পাড়ায়।


শহরের ছোঁয়া
আব্দুস সালাম
 
শহর থেকে গাঁয়ে যাওয়ার পথটি এখন পাকা
দুই পাশে সব ফসলের মাঠ নেই একটুও ফাঁকা
নারী পুরুষ ব্যস্ত সবাই আটা-রাইস মিলে
ঝাঁড় বাগানের মাঝেও বাড়ি চমকায় না আর পিলে।
 
গরুরগাড়ি আর চলে না চলছে নছিমন
অটোরিক্সা টেম্পু লেগুন চলছে করিমন
নদীর ঘাটে ইঞ্জিনের নাও খুব সকালে ভিড়ে
ফেরীঅলা যাচ্ছে নিয়ে দুধ কলা দৈ চিড়ে।
 
বিদ্যুতের সব বাতি জ্বলে নেই হারিকেন ল্যাম্প
গাঁয়ে যাওয়ার মধ্যপথে পুলিশ ফাঁড়ি ক্যাম্প
টিভিতে আজ ছবি চলে দল বেঁধে সব মাচায়
বৃদ্ধ যুবক দেখে ছবি চাচী এবং চাচায়।
 
নদীর পারে নেই কো সাঁকো সেথায় পাকা সেতু
উন্নয়ন ও হচ্ছে গাঁয়ে সকড় প্রধান হেতু
স্কুল কলেজ যায় সকলে নয় তো শহর দূরে
প্রাণটা আমার যায় জুড়িয়ে গ্রামটা যে আজ ঘুরে।


হেমন্তটা এলোরে
মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী

কোমল রোদের মিষ্টি পরশ
হিমেল হাওয়ায় দোলে
হেমন্তটা এলোরে ভাই
বাংলা মায়ের কোলে।

পাকা ধানের গন্ধমাখা
সোনারাঙা শীষে
মুক্তোঝরা হাসির বাহার
কী অপরূপ ঘাসে!

মাঠে মাঠে ছুটছে কৃষাণ
কাটছে আমন ধান
নবান্নেরই উৎসবে আজ
গাইছে সবে গান।

মনটা আমার হয় যে রঙিন
যেই দেখি সেই রূপ
হেমন্তের এই আবেশটাকে
লাগে অপরূপ!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ