ঢাকা, রোববার 22 October 2017, ৭ কার্তিক ১৪২8, ১ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাভারে ট্যানারির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল ॥ পরিবেশ হুমকির মুখে

সাভার সংবাদদাতা: সাভারে বিসিক শিল্প নগরী ট্যানারির পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ট্যানারির পাশে ঝাউচর গ্রামে ট্যানারির পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দি হয়েছে প্রায় একশ’ পরিবার। এলাকার ফসলী জমিও নষ্ট হচ্ছে। এলাকাবাসী নানা ধরনের অসুখে ভুখছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এছাড়া এরই মধ্যে চামড়া শিল্পনগরীর কেমিক্যাল ও রাসায়নিক মিশ্রিত পানি ধলেশ্বরীতে মিশে নদীর পানি সম্পূর্ণ কালো করে ফেলেছে। মারা গেছে নদীর মাছ ও অন্যান্য প্রাণী। এলাকার শত শত মৎস্যজীবীরা অভাবে পড়ার পাশাপাশি ধ্বংস করছে জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ।
জানা গেছে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় ২০০৫ সালে দুই’শ একর জমির উপর ট্যানারির কাজ শুরু হয়। পরে ২০১৭ সালের শুরুতে রাজধানীর হাজারিবাগ এলাকা থেকে হেমায়েতপুরে ট্যানারির কারখানা স্থান্তরের কাজ শুরু করেন মালিকরা। ১৫৫ টি ট্যানারির মধ্যে বর্তমানে এক’শটিতে পুরোদমে কাজ চলছে। চামড়া শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, ট্যানারি পল্লীর উত্তর ও দক্ষিন পাশের সীমানাঘেঁষে ফেলা হচ্ছে ট্যানারি বর্জ্য। ট্যানারি পল্লীর একেবারে দক্ষিন প্রান্তে ট্যানারি পল্লীর জন্য ডাম্পিং স্টেশন তৈরির জায়গা রাখা হয়েছে। কিন্তু সেটি এখন পাঁচ বিঘা জমির ওপর অনেকটা পুকুরের মতো। এখন এই পুকুর ভরে গেছে ট্যানরির বর্জ্যে। এখানে ফেলা সলিড বর্জ্য এবং ঝিলির অংশ ফেলায় সেগুলো গড়িয়ে পড়ছে পানিতে। আবার ট্যানারি পল্লীর উত্তরপাশে কিছুটা দূরে একেবারে ধলেশ্বরী নদীর পাড়ঘেঁষেও ফেলা হচ্ছে ট্যানারির কঠিন বর্জ্য। ট্যানারির বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশ্রিত এসব বর্জ্য গিয়ে পড়ছে নদীর পানিতে। ফলে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ফলে নদীর মাছ মরে যাচ্ছে। ট্যানারির বর্জ্য এখন এ এলাকা এবং এ উপজেলার জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, এ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত। আক্রান্ত হচ্ছেন কারখানার শ্রমিকেরাও। এ বিষাক্ত বর্জ্যে ধলেশ্বরীর স্বাভাবিক রঙ পাল্টে গেছে। দেখা দিয়েছে মাছের মড়ক। এলাকাবাসীর অভিযোগ ইতোমধ্যে ধলেশ্বরী নদীর মাছও মরে যাচ্ছে। বর্জ্যের বিষক্রিয়ায় আবাদি জমির ফলনও অনেকগুণ কমে গেছে। ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঝাউচর গ্রামের কৃষি জমি আবার অনেক স্থানে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বাড়ি ঘরে পানি জমেছে। রাত হলেও দুর্গন্ধর জন্য ঘরে থাকা যায় না। এছাড়া ট্যানারির ভিতরের রাস্তা ঘাট ও ভাঙ্গা। বিভিন্ন স্থানে এক হাটু করে পানি জমেছে। এলাকাবাসী এ থেকে রেহাই পেতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এছাড়া ট্যানারির মালিকরাও বলেছে ট্যানারির রাস্তাঘাট ও ভাঙ্গা থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া ট্যানারির রাস্তাঘাটে পাওয়া যাচ্ছে ময়লা। কিন্ত চ্যামড়া শিল্প নগরী বিসিকের কোন কতৃপক্ষ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিতিত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাভার উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল আলম সমর বলেন, ঝাউচর গ্রামে ট্যানারির বর্জ্যরে পানি ঢুকে  ১০০ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তাদের ফসলি জমিও উৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে। সরকারের উচিৎ এই পরিবারগুলোর দিকে তাকানো। এসময় তিনি সমস্যা সমাধানে বিসিকের সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
এবিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) স্থানীয় ডেপুটি ম্যানেজার মো: মোস্তফা মজুমদার ট্যানারির বর্জ্যে স্থানীয় এলাকাবাসীর ফসলের ক্ষতি ও ধলেশ্বরী নদীতে বর্জ্য পড়াসহ বিসিকের গাফিলতির কথা স্বীকার করে বলেন ট্যানারির বর্জ্যরে পানি যেন আর ঝাউচর গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য আমরা বিসিকের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে বিসিক শিল্প নগরী কতৃপক্ষ দ্রুত সদস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নিলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমবে বলে মনে করেন এখানকার বাসিন্দরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ