ঢাকা, রোববার 22 October 2017, ৭ কার্তিক ১৪২8, ১ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঢাকা মোমেনশাহী মহাসড়কে যানজট

টঙ্গী সংবাদদাতা: ঢাকা মোমেনশাহী মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠার অভিযোগ উঠেছে। প্রতি দিন ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজিতে যানবাহনের চালকের পাশাপাশি নিরীহ যাত্রীরাও হাঁপিয়ে উঠেছে। এতে প্রতিদিন জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত মহাসড়কে  যানজট জনজট নিত্যসঙ্গী  হয়ে গেছে। ফলে যাত্রীদের পাশাপাশি স্কুল কলেজগামী কিশোর ছাত্র -ছাত্রী, অফিসমুখি নিরীহ মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ১২ কিমি রাস্তা পাড়ি দিতে ন্যুনতম ৩/৪ ঘন্টা সময় লাগছে।  আর এই দৃশ্য দেখতে দেখতে ঢাকা - মোমেনশাহী মহাসড়কের যাত্রীরা ও নিরীহ পথচারীরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর মাঝেমধ্যে ভি আই পিদের বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরার দিন তো পুরো ঢাকা শহরসহ আশ পাশের শহরের সড়কগুলোও সারা দিন জট লেগে থাকে ।  এতে বিশেষ করে গাজীপুরের টঙ্গী ও আশুলিয়ার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে বেশী। এছাড়া এই সড়কের যারা নিয়মিত যাত্রী তারা প্রায় সময় ট্রাফিক-চালক হাতাহাতি দৃশ্যের সাথে পরিচিত। পুলিশের টি আই থেকে শুরু করে সার্জেন্ট, কন্সটেবল, সোর্স, দালাল চাঁদাবাজিতে কেউ পিছিয়ে নেই। বলা যায় চাঁদাবাজিতে এক প্রকার প্রতিযোগিতা চলে। যার পদের ওজন যতটুকু, চাঁদাবাজির চাহিদাও ততটুকু। প্রায় সময়  ট্রাফিক পুলিশের সোর্সের দাপট দেখে হতভম্ব হতে হয়। তারা  অটো চালকের গলায় গামছা লাগিয়ে টেনে হ্যাঁচড়ে বসের দরবারে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।  এই  অবৈধ অটো চালকরা বলির পাঁঠা হয় বেশী। চাহিদামত এই অবৈধ অটো চালকরা চাঁদা না দিলে নির্যাতনের খড়গ কত প্রকার হতে পারে তা টের পাইয়ে দেয়া হয়। প্রতিবাদ করলে কিল ঘুষি লাথি লাঠিপেটা মামলা কোন কিছুই বাদ যায় না। কয়েক দিন পর পর এ দৃশ্য এই সড়কের পথচারীদের  নজরে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে অবৈধ অটো থেকে মাসোহারা নেয়ার পাশাপাশি দৈনিক বখরাও আদায় করা হয়। ব্যত্য্য় হলেই অটোর উপর বোল্ডার দিতে দ্বিধা  করছেনা বেরসিক ট্রাফিকের দাদাবাবুরা। আর এই অবৈধ অটোর ব্যাটারী জব্দ করে সহজ উপায়ে টু পাইস কামাবার  ধান্ধা ত ট্রাফিকের নিত্যদিনের ঘটনা। এ ব্যাপারে অটো চালক রুবেলের নিকট জানতে চাইলে সে জানায়, রেকারের লোকজন জ্বালায় বেশী। তারা অটো থেকে ব্যাটারী নিয়ে যায় এবং নেয়ার সময় ব্যাটারী নম্বর ও চালকের নাম লিখে একটা টোকেন দিয়ে যায়। তারপর ব্যাটারী প্রতি ২/৩ হাজার করে টাকা আদায় করে ব্যাটারী দিয়ে দেয়। তার কথার সত্যতা পাওয়া গেল গত ১৮ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে। রেকারের ইনচার্জ  টি আই শহীদের নেতৃত্বে তিন জনের টিম গাজীপুরা বাসস্টপে প্রায় অর্ধ শত অটোর ব্যাটারী জব্দ করে নিয়ে যায়। এসময় অনেক চালককে মারপিট করার ঘটনা ঘটে।  এছাড়া ঢাকা থেকে যে সব সি এন জি নিবন্ধিত, সে সব সি এন জি আব্দুল্লাহপুর পেরিয়ে টঙ্গী সীমানায় পৌঁছলেই ট্রাফিকের পোয়াবারো। কলেজ গেইট এলাকায় পেলে তো আর কথাই নাই। ট্রাফিকের লম্ফজম্ফ দেখে কে। ট্রাক বাস মিনিবাস পিকআপ ভ্যান কভার ভ্যান  মটর সাইকেল বাদ যায় না কোন যান ট্রাফিকদের দাবড়ানি থেকে। সরকার হাইওয়ে পুলিশের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করেছে জনগণের সেবার জন্য অথচ সেবার  পরিবর্তে   নির্যাতনের মাত্রা  আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ । মহাসড়কের পাশে যে সকল হাইরাইজ ভবন ও মার্কেটে সি সি ক্যামেরা রয়েছে, উক্ত সিসি ক্যামেরা গুলো পর্যবেক্ষণ  করলে ট্রাফিক পুলিশের অপকর্মের প্রমান মিলবে। নানা অভিযোগ, চাঁদাবাজি ও যানজটের ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমান ট্রাফিক বিভাগ অনেক গুছানো ও দক্ষ। তারা অবিরামভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা  অস্বাভাবিক কিছু না। আমরা সব সময় সচেতন আছি। কিন্তু কর্মকর্তাদের কথার সাথে বাস্তবতা নেই। ঢাকা -মোমেনশাহী মহাসড়কের এই চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ  থেকে সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়ে মুক্তি কামনা করেছে ভুক্তভোগী গাজীপুরবাসী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ