ঢাকা, রোববার 22 October 2017, ৭ কার্তিক ১৪২8, ১ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নবাবগঞ্জে কৃষি জমি নষ্ট করে ইটভাটা শস্য উৎপাদন কমবে

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে এম রুহুল আমিন প্রধান: দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ইট প্রস্তুতকরণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইট পোড়ার মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইট ভাটা নির্মাণের চলছে মহা উৎসব। নির্মাণ ঠেকাবে কে? জেলা প্রশাসন নাকি পরিবেশ অধিদপ্তর। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঝুঁকে পড়েছে এই ব্যবসায়। নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে চলছে নির্মাণ কার্যক্রম। অবৈধভাবে নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করার দাবিতে স্থানীয় কৃষক সহ নবাবগঞ্জ উপজেলার জিকজাক ইটভাটা মালিকেরা দিনাজপুর জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছে। এ উপজেলায় গড়ে উঠেছে এ বছরে ৮টি ইটভাটা। আর এসব ইটভাটা গিলে খেয়েছে এলাকার প্রায় ৫শ’ একর আবাদি জমি। এটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে তাই ঘটেছে। এই ভাটাগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে এলাকার আবাদি জমির ‘টপ সয়েল’ উপরিভাগের মাটি। ফলে আবাদি জমির উর্বরতা শক্তি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ। এসব ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমির ‘টপ সয়েল’ কেটে নিয়ে মজুদ করছে ভাটা মালিকরা। আর এ মাটি সংগ্রহ করতে ৫০টি ট্রাক্টর প্রতিদিনই বেপরোয়াভাবে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চলাচল করায় উপজেলার রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ কারণে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। এরপরও স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ছে না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব ইটভাটার বেশিরভাগই চলছে অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়া জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করে।  এসব ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ও কৃষি জমিতে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী কৃষি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বনভূমি, অভয়ারণ্য, জনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা নিষেধ রয়েছে। ওই আইনে আরও বলা হয়েছে ইটভাটা স্থাপন ও ইট তৈরি করতে কৃষি জমি, পাহাড়, টিলা, পুকুর, নদী-নালা, দীঘি, খাল-বিল এবং পতিত জমি থেকে মাটি কাটাও যাবে না। শুধু তাই নয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক নির্মিত উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ রাস্তা ব্যবহার করে ভারী যানবাহন দিয়ে ইট বা ইট তৈরির কাঁচামাল পরিবহন করা নিষিদ্ধ রয়েছে। এছাড়া ইটভাটা তৈরি করতে হলে জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিতে হবে। কিন্তু এসবের কোনো কিছুই মানছেন না ভাটা মালিকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ