ঢাকা, রোববার 22 October 2017, ৭ কার্তিক ১৪২8, ১ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টানা বর্ষণে দাকোপে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানির চাপে দাকোপের নলিয়ান এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয় -সংগ্রাম

খুলনা অফিস : নিম্নচাপের প্রভাবে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের নদ-নদীতে ৪/৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির তোড়ে নলিয়ান ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকাসহ পৃথক চারটি স্থানের বেড়িবাধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ঘটনায় সেখানকার চার শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দ্রুত বাধ নির্মাণ সম্ভব না হলে নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকে সুতারখালী ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ এবং নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানির চাপ বৃদ্ধি হওয়ায় দাকোপের অধিকাংশ বেড়িবাধ ঝুকির মুখে আছে। এরই মাঝে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে সুতারখালী ইউনিয়নের ২,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের পৃথক চারটি স্থানের বাঁধ ভেঙে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দু’টি স্থানের বাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে তাৎক্ষণিক আটকানো সম্ভব হয়েছে। তবে নলিয়ান ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন বাজার বেষ্টিত দুটি বাঁধ আটকানো সম্ভব না হওয়ায় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার রাতের শেষভাগে গুনারীর সাবেক ইউপি সদস্য অবনী বৈদ্যের বাড়ি সংলগ্ন, নলিয়ান ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন বাজার বেষ্টিত বাধের পৃথক দু’টি স্থান এবং নলিয়ান জালাল গাজীর বাড়ি সংলগ্ন বেড়ীবাধের আনুমানিক চারশ’ গজ এলাকা ভেঙে যায়। এর মধ্যে বাজার এলাকার পাশাপাশি দু’টি স্থান বাদে অপর দু’টি স্থান জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এলাকাবাসী তাৎক্ষণিক আটকাতে সক্ষম হয়েছে। নলিয়ান বাজার বেষ্টিত বাধ ভেঙে কমপক্ষে চার শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সেখানে থাকা জনগুরুত্বপূর্ণ কৃষি ব্যাংক, নলিয়ান মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলিয়ান দারুল উলুম মাদরাসা, ইউনিয়ন তহশিল অফিস, ফরেষ্ট অফিস এখন পানিতে তলিয়ে আছে। দুই হাজার বিঘা জমির ফসল পানির নীচেসহ শতাধীক পুকুর ভেসে গেছে, কাচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে গত তিনদিনের অবিরাম ভারী বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ওয়াপদহ বাধের বাইরে কালাবগী ঝুলন পাড়া এলাকার পৃথক ৫/৬ টি স্থানে ভেঙে যাওয়ায় জমির ফসল ও মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির জানায়, নদীতে পানির প্রচন্ড চাপ থাকায় এখন কাজ করার পরিবেশ নেই, তবে রবিবার সকালে ফের নির্মান কাজ শুরু করা হবে বলে পরিষদের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান জানান, উপজেলার ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারের বাঁধ নিমানের কাজ বিশ্ব ব্যাংক হাতে নেয়ায় ওই দুটি পোল্ডারে আমরা করতে পারছিনা। তবে অধিক ঝুঁকিপুর্ণ বাঁধগুলি এই মুহূর্তে কোন রকম টিকিয়ে রাখতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অবস্থার পরিবর্তন হলে ক্ষতিগ্রস্ত নদী ভাঙ্গন এলাকায় বাঁধ পূর্ণ নির্মাণ করা হবে।
দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন বলেন, উপজেলার তিনটি পোল্ডারে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংক ৩২ এবং ৩৩ পোল্ডারের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ঠিকাদার প্রাতষ্ঠান কাজ শুরু করলেও তারা নদী শ্বাসন ব্যবস্থা না রেখে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করায় দু’টি পোল্ডারসহ ৩১ নং পোল্ডারের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ৩টি পোল্ডারের ঝুকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার করার জন্য আমি সংশ্লি¬ষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস বলেন, সমুদ্র উপকূলীয় দাকোপ উপজেলার পৃথক তিনটি পোল্ডারের ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নলিয়ান, গুনারী, কালাবগী, জালিয়াখালী, কামারখোলা, বটবুনিয়া, খোনা, কামিনীবাসিয়া এলাকা অধিক ঝুকিপূর্ণ। এ গুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্ধর্তন কর্ত্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলার ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে চলামন কাজে নদী শাসন ব্যতিত কাজ করায় পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।
৬০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে নিপতিত
আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা : উপকূলীয় বরগুনা জেলার আমতলী ও তালতলীতে টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানি এবং বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৪০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কোন শেষ নাই। চারদিকে পানি আর পানি। অপরদিকে আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঘটখালী, অরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলী ও তালতলী উপজেলার তেতুঁলবাড়িয়ার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় জোয়ারের পানি ঢুকে ৪০ গ্রাম প্লাবিত  হয়েছে। আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে। পানিতে এলাকার ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে বৈরি আবহাওয়া ও গত চারদিন ধরে প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। শ্রম ও দিনমজুর মানুষ অর্ধাহার অনাহারে দিনাতিপাত করছে। আমতলী ও তালতলীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল সাগর ও তৎসংলগ্ন পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাড়ি-ঘর তলিয়ে গেছে। এতে দু’উপজেলায় ৬০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পরেছে।
খেপুপাড়া  আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুদিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাগর ও পায়রা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাড়ি-ঘর তলিয়ে গেছে। গত ১২ অক্টোবর রাতে জোয়ারের পানির প্রবল চাপে পশ্চিম ঘটখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর নির্মিত স্লইজটি ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে গেছে। ওই ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি গ্রামে প্রবেশ করেছে। এলাকার মানুষের ঘর বাড়ি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। অপর দিকে আমতলীর গাজীপুর বন্দরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘর বাড়ি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে রয়েছে । সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম দেলওয়ার হোসেন বলেন ক্ষতিগ্রস্ত  মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে। বরগুনা পানি উন্নয়র বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান বলেন স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন পশ্চিম ঘটখালী বাঁধ এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি।  জরুরিভাবে বাঁধ মেরামতের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অব্যাহত বর্ষণে উপজেলা দুটির অধিকাংশ আমন ফসলের ক্ষেত পানির নিছে তলিয়ে রয়েছে। অপরদিকে টানা বর্ষণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের  দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ