ঢাকা, রোববার 22 October 2017, ৭ কার্তিক ১৪২8, ১ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম মহানগরীতে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি নিয়ে নগরবাসীর ক্ষোভ বাড়ছে

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম মহানগরীতে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি নিয়ে নগরবাসীর ক্ষোভ বাড়ছে। এনিয়ে সভা সমাবেশ প্রতিবাদ সভা মিছিল অনুষ্ঠিত হচেছ প্রতিদিন। খোদ সরকারি দলের নেতারাও এ নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছে। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কথা একটাই,আপীল করুন,রিভিউ বোর্ডে সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। এতে ক্ষোভ আরও বেড়ে গেছে।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত সভায় ক্ষোভ প্রকাশ-চট্টগ্রাম নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব ও সংকট নিরসনে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি সেবা সংস্থাকে প্রদত্ত চিঠির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী’র আহ্বানে সংগঠনের সভাপতি ম-লী, সম্পাদক ম-লী ও নির্বাহী সদস্যদের এক সভায় নগরবাসীর উপর বর্ধিত অযৌক্তিক গৃহকর ধার্যের ব্যাপারে সিটি মেয়রের অনমনীয় ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সভায় আরো বলা হয়, আওয়ামী লীগ জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার ধারক এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী। চট্টগ্রাম নগরীতে ক্ষেত্র বিশেষে শতভাগের চেয়েও বেশি করারোপ করে সরকারের বিরুদ্ধে একটি দুরাচারী মহলের জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলার আলামত সুস্পষ্ট হয়েছে। তাই আইন ও মন্ত্রণালয়ের দোহাই না দিয়ে সিটি মেয়রকে জনগণের মনের ভাষা পাঠ করে গৃহকর বৃদ্ধির পক্ষে তাঁকে জনস্বার্থে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার জন্য আবারও আহ্বান জানানো হয়। বিগত ১৪ অক্টোবর বিভিন্ন সরকারি সেবা সংস্থাকে দেয়া নোটিশ এখন পর্যন্ত সেবা সংস্থার প্রধানগণ যে জবাব দিয়েছেন তার আলোকে এর বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনা করে এই সভায় বলা হয় যে, চিঠিগুলোতে যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে তার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করে স্ব স্ব সেবা সংস্থার প্রধানগণকে জনস্বার্থে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সাম্প্রতিক অতি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার ফলে নগরীর যে সমস্ত সড়ক ধ্বংস হয়ে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে সেগুলো দ্রুত সংস্কার করার জন্য সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএ-এর প্রতি দাবি জানানো হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের ব্যর্থতার ফলে নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকা আবর্জনার ভাগার সৃষ্টি হয়। এতে পরিবেশ দুর্গন্ধময় হয়ে উঠে। সিডিএর মেঘাপ্রকল্প সম্পর্কে বলা হয়, সরকারের বরাদ্দ দেয়া এই মেগা প্রকল্পগুলোর ডিজাইন, কার্যকারিতা এবং এই প্রকল্পগুলোর সুফল সম্পর্কে জনগণের কাছে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে জনগণকে অন্ধকারে না রেখে প্রকল্পের ষোলওয়ানা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের সাথে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
নগরীর বিদ্যমান পানি সংকট সম্পর্কে বলা হয়, নগরীর এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন নেই। চট্টগ্রাম ওয়াসাকে নগরীর সমস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং পানি সরবরাহ ছাড়াই ঢালাওভাবে ভুতুরে বিল বন্ধের দাবি জানানো হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আগের চেয়েও ভালো বলে দাবি করলেও লক্ষণীয় যে, প্রি-প্রেইড মিটার চালুর পর থেকে জনভোগান্তি বেড়েছে। এর নিরসন হওয়া জরুরি। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ কেন্দ্রগুলোতে জনগণের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে ট্রান্সফর্মারগুলোর মেরামত দ্রুত করার দাবি জানানো হয়। সভায় বাস্তবতার নিরীক্ষে অতি বর্ষণ ও জোয়ারের ফলে আগ্রাবাদ, হালিশহর, কালুরঘাট ও বাকলিয়াসহ নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলো বছরের অর্ধেক সময় প্লাবিত হয়ে থাকে। সভা থেকে এ সমস্ত এলাকায় হোল্ডিং ট্যাক্স জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত মওকুফ করার দাবি জানানো হয়।
সভায় আরো বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জনবল নিয়োগের পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ সুপরিকল্পিতভাবে ঢাকায় গ্রহণ করছে। এরফলে নিয়োগ বাণিজ্য বেড়ে গেছে। ঢাকার বাইরে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া চট্টগ্রাম বন্দরের নীতিমালা পরিপন্থী, যা চট্টগ্রামবাসীর প্রতি অবজ্ঞার সামিল। বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে আরো বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ও কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। অথচ দেখা যাচ্ছে যে, এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে উদাসীন। তাই অত্যাধুনিক একাধিক ড্রেজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করে কর্ণফুলী নদীতে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং কার্যক্রম চালাতে হবে। সংগঠনের সভাপতি চশমা হিলস্থ স্বীয় বাসভবনে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড. সুনীল কুমার সরকার, খোরশেদ আলম সুজন, এম জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, প্রমুখ।
সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাসভবনে চট্টগ্রাম গণ অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা-সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার সকালে সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাসভবনে চট্টগ্রাম গণ অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা এম এ হাশেম রাজুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাবেক মেয়র রাজনীতিবিদ মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন ৬০ লক্ষ নগর বাসীকে প্রতিপক্ষ না ভেবে সর্বদলীয় মিটিং ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন। তিনি আরো বলেন আমি মেয়র থাকা অবস্থায় নগরীর গরীব মানুষের ঘরবাড়ীকে কর-এর আওতামুক্ত রেখেছিলাম। আমার আমলে নগরীর কোন এলাকা জলাবদ্ধতায় ছিল না। শহরের প্রতিটি রাস্তা ঘাট চলাচলের উপযোগী ছিল। নগরীর ৩৬ টি ছোট বড় খাল আজ প্রভাবশালীদের দখলে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ গণ অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, মন্ত্রণালয়ের দোহাই দিয়ে নতুন নিয়মে চট্টগ্রাম নগর বাসীর নিকট থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা যাবে না। জনগণের মনের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন। কোন রাজনীতিবিদ ও প্রশাসক এক গুয়েমী করে জীবনে সফল হতে পারে নাই। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চ.গ.অ. ফোরামের সহ-সভাপতি মোহাম¥দ খোরশেদ আলম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন, মোহাম্মদ নুরুদ্দীন নুরু, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম¥দ সেলিম,সহকারী সম্পাদক এয়ার মোহাম্মদ প্রমুখ।
 চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদের সমাবেশ-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তাবিত গৃহকর বাতিলের দাবিতে গত শুক্রবার বিকাল ৪টায় আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় সংলগ্ন সিঙ্গাপুর মার্কেটের সামনে চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাবিত গৃহকর বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনটির গতকালের সভাভৈল থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ আমির উদ্দিন। তিনি বলেন, জালালাবাদ ওয়ার্ডে, ২২ অক্টোবর দোস্ত বিল্ডিং চত্বরে, ২৫ অক্টোবর অলংকার মোড়ে গণসমাবেশ এবং আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে বাকলিয়া ওয়ার্ড থেকে ৪১টি ওয়ার্ড অভিযাত্রা করা হবে। তিনি বলেন, যত হুমকিই দেওয়া হোক না কেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।
সংগঠনের সভাপতি নুরুল আবছার বলেন, আমাদের বক্তব্য একটা। আপিল করব না, ট্যাক্স দেব না। প্রস্তাবিত গৃহকর বাতিল না করলে চট্টগ্রাম অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ৪১ ওয়ার্ডে একসাথে মানববন্ধন করব। প্রত্যেকে যার যার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন। চট্টগ্রাম অচল হবে। প্রয়োজনে অন্য জেলা থেকে চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।
সভায় আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ–সভাপতি রাজনীতিবিদ মজিবুল হক চুন্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস পপি, সাবেক কাউন্সিলর এম এ মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ারুল করিম, মো. নাহিদ, হাজী মো. মাহবুবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম মানিক, হাজী মো. ইমরান, মো. কামাল, নজরুল ইসলাম, শামসুল আলম দুলাল, মো. সিরাজুল ইসলাম, মোস্তাক আহমেদ, মো. ইসলাম, আবু তাহের সর্দার, মো. মো. হাসমত, মাসুদ পারভেজ প্রমুখ। সভা শেষে মিছিল আগ্রাবাদ থেকে শুরু হয়ে দেওয়ানহাট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ