ঢাকা, রোববার 22 October 2017, ৭ কার্তিক ১৪২8, ১ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় এসআই মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে হামলা বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট

খুলনা অফিস : গত ১৪ অক্টোবর খুলনা জেলা ডিএসবির এসআই মো. মনিরুজ্জামান কর্তৃক জমি দখলের অপচেষ্টা, হামলা, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, লুটপাট, অন্তঃসত্ত্বাকে মারপিট করার ঘটনার বর্ণনা দিলেন গৃহবধূ হোসনেয়ারা পিন্টু। গতকাল শনিবার খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ওই দিনের ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নিম্ন তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে সাবেক থানা দিঘলিয়া, হাল থানা খালিশপুর, জেএল নং-১২, মৌজা বয়রা, এসএস খতিয়ান নং-৫১২, দাগ নং-২১৮০, জমি ১৭ শতকের মধ্যে ৫ শতক। যার আরএস খতিয়ান নং-৫৯২, দাগ নং-৫৩২২। ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে আসছি। কিন্ত বেশ কয়েক মাস আগে জেলা ডিএসবির এস আই মো. মনিরুজ্জামান মোবাইল ফোনে (নং ০১৭১৬-১৫৩৮৬১) এবং তার ভাই মো. অহিদুজ্জামান পিতা-আতিয়ার রহমান মোল্লা, আমাকে এসে হুমকি দিয়ে বলে ‘তোমাদের বাড়ির জায়গার ভেতর ঝামেলা আছে। আমার কাছে বিক্রি করে দাও তা না হলে আমাকে এক লাখ টাকা দাও কোন ঝামেলা থাকবে না। অন্যথায় তোমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে ছাড়বো’। এই ঘটনার পর আমি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করি। যার নং এমপি ৩৭০/১৭। মামলায় উভয়পক্ষকে স্থিতিবস্থা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ওসি খালিশপুর থানাকে নির্দেশ প্রদান এবং মনিরুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। এই অবস্থা থাকাকালীন গত ইং ১৪-১০-১৭ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় ওই এসআই মো. মনিরুজ্জামান ও তার ভাই অহিদুজ্জামানসহ ২০/৩০ জন সন্ত্রাসী আমার বাড়িতে লাঠিশোটা, দাসহ মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাঙচুর করে। আমার ঘর থেকে আনুমানিক ১৬ হাজার টাকা, আমার কানের দুল, চেইন ও মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে যায়। আমার এবং আমার ভাড়াটিয়ার খাবার ভাত তরিতরকারী রান্না হচ্ছিল তা লাথি মেরে ফেলে দেয়। ঘটনা চলাকালে খালিশপুর থানায় সংবাদ দিলে পুলিশের একটি টিম এসে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে ঘুরে চলে যায়। তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অব্যাহত থাকে। এরপর খুলনার র‌্যাব-৬ কে খবর দিলে র‌্যাবের একটি টিম এসে ভাঙচুর প্রতিরোধ করে এবং এসআই মনিরুজ্জামানসহ সকল সন্ত্রাসী স্থান পরিত্যাগ করে। যখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় তখন আমরা আমাদের ভাঙ্গাছেড়া কাপড়-চোপড় জিনিসপত্র গোছগাছ করছিলাম এবং পুনঃরায় আবার ভাত-তরকারী রান্নার প্রস্ততি নিচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ করে এসআই মনিরুজ্জামান ও তার ভাই অহিদুজ্জামান, আব্দুল্লাহসহ ৮/১০ জন লাঠিসোটা নিয়ে পুনরায় এসে আমাদের ভাত-তরকারী ফেলে দেয় এবং মারধর করে। এবং বলে- ‘তোরা এখনো যাসনে।’ তারা আমাকে ও আমার ভাইয়ের বৌ অন্তঃসত্বা সোনিয়া (২২) ও ভাতিজি প্রতিবন্ধি লতা (১৯)কে শ্লীলতাহানী করে এবং তাদের শরীরে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। তাদের হামলায় লতার মাথা ফেটে যায়, অন্তঃসত্বা সোনিয়ার পেটে লাথি মারে, কান্নাকাটি করে ডাকচিৎকার করলে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন এসে সোনিয়া ও প্রতিবন্ধি লতাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমি ও আমার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে র‌্যাব-৬কে ধন্যবাদ জানাই। কারণ ঘটনার সময় র‌্যাবের টিম যদি দ্রুত ঘটনাস্থলে না আসতেন তাহলে আমাদের জীবন শেষ হয়ে যেত।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, এ সকল ঘটনা খালিশপুর থানার ওসিকে জানানো হয়েছে এবং খুলনার স্থানীয় সকল পত্র-পত্রিকায় গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তারপরেও এমন জঘণ্য ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত মামলা নেয়নি। সাংবাদিক সম্মেলনে ওই এসআই মো. মনিরুজ্জামান ও তার ভাই অহিদুজ্জামানসহ তাদের সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ