ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় রাজনৈতিক প্রভাবে পাট খাতে ঋণের নামে হরিলুট

খুলনা অফিস : রাজনৈতিক প্রভাবে নেয়া খুলনা সোনালী ব্যাংকের পাট খাতে দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় এদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থাও নিতে পারছেন না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সোনালী ব্যাংকের খুলনার ৬টি শাখায় ১১২জন ব্যবসায়ীর কাছেই মোট পাওনা এক হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। ফলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার আক্ষেপ করে বলেন, যারা ঋণ দিয়ে ব্যাংকে আর আসেন না তারাই বারবার নানা সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। আর যারা নিয়ম মানছেন তাদের কোন সুবিধাই দেয়া যাচ্ছে না। ফলে ব্যাংকিং খাত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ব্যাংকের অর্থ লোপাটের অন্যতম হোতা ভিজে সিরাজ নামে এক নতুন রফতানিকারক।
সোনালী ব্যাংকের খুলনা জোনের জেনারেল ম্যানেজার মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, খুলনা অঞ্চলে পাট রফতানি খাতে তাদের ব্যাংকের ১১২জন গ্রাহকের কাছে মোট বিনিয়োগ এক হাজার চারশত ৯৮কোটি টাকা। তার মধ্যে সময়মত ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকের নিয়মানুযায়ি ১০৮জনই ঋণ খেলাপী হয়েছেন। যাদের কাছে পাওনা এক হাজার দুইশ’ কোটি টাকা। যা বিনিয়োগের ৮০ দশমিক ০৮% ঋণ খেলাপি।
জেনারেল ম্যানেজার মো. মোশারেফ হোসেন আরো বলেন, সব থেকে ভয়াবহ চিত্র প্লেজ ঋণেরক্ষেত্রে। মোট দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে প্লেজ ঋণই হচ্ছে ৮৭০ কোটি টাকা। এই ঋণের সিংহভাগই লাপাত্তা হয়েছে। তিনি বলেন, প্লেজ ঋণটা দেয়া হয় গুদামে পাট রয়েছে তার বিপরীতে। কিন্তু পাট রফতানিকারকরা শুধু কাগজপত্রে গুদামে পাট দেখিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে খাতাপত্র অনুযায়ী পাট নেই। গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ তদন্তে এসব চিত্র উঠে এসেছে। তিনি জানান, প্লেজ ঋণে ভয়াবহ বিপর্য়য়ের ফলে গত ৩ বছর থেকে পাট খাতে প্লেজ ঋণ দেয়া বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতারণা ও জাল জালিয়াতি করার দায়ে ঋণখেলাপী অভিযোগ করে ১০৮ জন গ্রাহককে ব্যাংক হতে চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়েছে। মামলা করার  প্রস্ততি হিসাবে  লিগ্যাল নোটিশও দেয়া হয়েছে। যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত আগষ্ট’১৭ মাসে। ব্যাংকের বিধিবিধান মত তাদের নামে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই মামলা করার কথা ছিল। কিন্তু ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত প্রজ্ঞাপনে কোন টাকা পরিশোধ ছাড়াই ঋণ খেলাপিদের দুই বছর সময় দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে আগের টাকা ব্লাক হিসাবে রেখে তাদের আবার নতুনভাবে প্রয়োজনীয় জামানত নিয়ে ঋণ দিতে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এহেন নির্দেশে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা চলে এসেছে।
এদিকে পাট ব্যবসায়ীদের একটি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জুট এসোসেয়েশন চেয়ারম্যান ও দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী  চলতি বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী বরাবরে একটি চিঠি প্রদান করে। এই চিঠিতে তারা কাঁচা পাট রফতানিকারকদের সকল বকেয়া এবং দেনা একটি সুদবিহীন ব্লাক হিসাবে স্থানান্তর পূর্বক ১০% সহায়ক জামানতের ভিত্তিতে ২৫ বছরে পরিশোধের সুযোগ দাবি করেন। এই আবেদনের সূত্র ধরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান এমপিসহ বিজেএ’র নেতৃবৃন্দ অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাত করে তাদের দাবির স্বপে নানা যুক্তি প্রদর্শন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক পাট রফতানিকারকদের এসব প্রস্তাবে রাজী না হয়ায় কয়েক দফা বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রীর উপর নানা ভাবে  প্রভাব বিস্তার করা হয়। রাজনৈতিক ভাবে প্রভাব বিস্তারের ফলে সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার মো. খায়রুল কবীর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম নবী মল্লিক স্বারিত গত ২৬ আগস্ট এক অফিস আদেশে জারী করেন। এই অফিস আদেশের বিষয় ছিল, ‘কাঁচাপাট রফতানিকারক ঋণগ্রহীতাদেরকে ৩১ মার্চ ২০১৭ ভিত্তিক ঋণ হিসাবে স্থিতি নিরুপন পূর্বক কষ্ট অব ফান্ড হারে সুদ আরোপ করে দুই বছরের মরাটরিয়াম সুবিধাসহ দশ বছরে পরিশোধযোগ্য করে ব্লাক হিসাবে স্থানান্তরের ঋণগ্রহিতার চাহিদা এবং ব্যাংকার গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন ঋণ প্রদান প্রসঙ্গে।
এখানে বলা হয় যে, বাংলাদেশ ব্যাকিং, ব্যাকিং প্রবিধি, প্রধান কার্যালয় ঢাকা এর ০২-০৫-২০১৭ তারিখে বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং ০৩ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও অর্থিক প্রতিষ্টান বিভাগ, নীতি ও আর্থিক প্রনোদনা শাখার ২৪-০৪-২০১৭ তারিখের স্মারক নং ৫৩০০০০০০৩৩১, ৩৬০০২-১৭ ,১০৯ এর নির্দেশনা ও পরবর্তীতে  অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সভাপতিত্বে ৩১ জুলাই ২০১৭ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্টিত সভার মতামত বিবেচনায় কাঁচাপাট রফতানিকারক ঋণগ্রহীতাদের পাট খাতে বিদ্যমান সমস্যা কাটিয়ে উঠে ব্যবসা চালু রাখার বিবেচনায়  রেখে ব্যাংকের ঋণের বকেয়া পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে এ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ২ আগস্ট ২০১৭ তারিখে  ৫৩৩তম সভায় পর্ষদ কর্তৃক নিমোক্ত নীতিমালা জারীর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। মূল কথা চিঠিতে ব্যাংকের ঋণ খেলাপিদের কোন ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই পরিশোধ দুই বছর সময় দেয়া হয়। দুই বছর পর থেকে তারা কিস্তি পরিশোধ করবে এবং এসব ঋণ খেলাপীরা পুনরায় নতুন ভাবে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবে। এই চিঠির ফলে সোনালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে নেয়া সকল পদক্ষেপ স্থগিত হয়ে গেছে।
খুলনা জেনারেল ম্যানেজার অফিস সূত্রে জানা গেছে,  সোনালী ব্যাংকের খুলনা কর্পোরেট শাখার পাট খাতে ৫২জন ব্যবসায়ীর কাছে দেয়া ঋণ মোট ৩৮৩কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিধিবিধান মতে ঋণখেলাপী হয়েছে সবাই এবং খেলাপি ঋণ ৩৮২কোটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৯৯.৪৮%। দৌলতপুর কর্পোরেট শাখায় ১৯জন গ্রাহকের কাছে ঋণ ৬৬৯কোটি ৫লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৬জন ঋণ খেলাপির কাছে পাওনা ৪৩৪কোটি ৭৭ লাখ টাকা। দৌলতপুর কলেজ রোড় শাখার ২০জন গ্রাহকের কাছে মোট পাওনা ৩২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এরমধ্যে ১৯ জন গ্রাহকের কাছে পাওনা ৩১৮কোটি ৮৫ লাখ টাকা। শতকারা হিসাবে ঋণ খেলাপি ৯৮.৮৮%। একই চিত্র খুলনা খালিশপুর এবং স্যার ইকবাল রোডের  সোনালী ব্যাংক শাখায়।
পাট ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, বিগত পাকিস্তান আমল থেকে পাট রফতানিকারক হিসাবে রয়েছে দৌলতপুরের আকুঞ্জী ব্রাদার্স ও প্রগতি জুট। তাদের সব মিলিয়ে ঋণ যথা ক্রমে ১০ ও ১২ কোটি টাকা মাত্র। ব্যাংকের বিধিবিধান মত তারা প্রতিবছর রিনিউল এবং লেনদেন করছে। এমনকি  তারা নিজেরাই ব্যবসা মন্দার কারণে আবেদন করে ঋণ অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে। অথচ ২০০৫-২০০৬ সালের পর ব্যবসায় যারা এই পাট ব্যবসায় এসেছে  তাদের ঋণ হয়েছে ৯০ থেকে শত কোটি টাকা। যার পুরোটাই হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব  আর ব্যাংক কর্মকর্তারা আর্থিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ২০১০ সালের দিকে ব্যাংক কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রায় সব পাট রফতানিকারকদের ঋণ দ্বিগুণ করে দেয়া হয়। আবার এসব পাট ব্যবসায়ী ব্যাংকে যা জামানাত হিসাবে দিয়েছেন তার মধ্যে এফডিআর বাদে অন্য জামনতই ভুয়া। যে কারণে গত দুই বছরে এসব জামানত নিলাম আহবান করলেও তা বিক্রি হয়নি। পাট ব্যবসায়ী থেকে ২০০৫-২০০৬ সালে রফতানিকারক হন চুয়াডাঙ্গার মো. সিরাজুল ইসলাম। তার নিজের নাম, ছেলে সুমন নামে সব মিলিয়ে ঋণের পরিমাণ প্রায় শতকোটি কোটি টাকা।
সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর কলেজ রোড় শাখার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম বেশীর ভাগ সময় সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কে অবস্থান করে প্রভাব বিস্তার করে এভাবে ব্যাংক লোপাট করে দিয়েছে। তিনি এখনও প্রতি নিয়ত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিয়ে মুঠো ফোন  আদেশ দিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিষয়টি ওপেন সিক্রেট যে এই সিরাজুল ইসলাম উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জন করে বিধি বহির্ভূত ভাবে দশ বছরে এই ১০০কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন। তার নিজ নামে ও ছেলের নামে মোট তিনটি হিসাবে রয়েছে  যা জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে একবার উত্তোলন করে আর জমা দেয়া হননি।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে চুয়াডাঙ্গার জ্যোতি বিস্কুট প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন এই সিরাজুল ইসলাম । এই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার  সেন্টু আগারওয়ালা হত্যা হলে সিরাজুল ইসলাম সেই মামলার আসামী হন। পরে উচ্চ আদালতে মামলা স্থগিত করে চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে  খুলনার দৌলতপুর এসে আস্তানা গাড়েন। খুলনার দৌলতপুর পাট রফতানিকারকদের কাছে তিনি ভিজে সিরাজ হিসাবে পরিচিত। সিরাজুল ইসলাম নিজেও স্বীকার করেন তার পরিচিতি ভিজে সিরাজ হিসাবে।
সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর কলেজ-পে আইনজীবী এই এস এম ওয়াহিদুর রহমান ১৮ জুলাই ১৫ দিন সময় দিয়ে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। মো. সিরাজুল ইসলাম পিতা মন্ডল দৌলতপুর ঠিকানায় দেয়া এই লিগ্যাল নোটিশে বলা হয় ৩১ জুন ২০১৭ পর্যন্ত এই হিসাবে তার পাওনা ৪৭কোটি ৫৯লাখ ৬৬ হাজার ২৪৩ টাকা।
একই ভাবে সিরাজুল ইসলামের পুত্র মো. সাজেদুর রহমানকে দেয়া লিগ্যাল নোটিশে বলা হয় তার নামে ৩১ জুন ১৭ পর্যন্ত পাওনা ২৩ কোটি ৫৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫৮টাকা এবং সিরাজুল ইসলামের মালিকানাধীন মোসার্স এস আর জুট ট্রেডিং প্রতিষ্ঠনের নামে পাওনা ২৩ কোটি ৫৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫৮টাকা। পিতা-পুত্র আর প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় একশত কোটি টাকা তারা পকেটস্থ করে এখন আর ব্যাংক মুখ হন না । আবার একই শাখায় সিরাজুল ইসলামের নামে বাংলাদেশ ব্যাকের খাদ্যশস্য খরিদের জন্য আরো দশ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। এছাড়াও দৌলতপুর পাট মোকামে সিরাজুল ইসলামের কাছে বিভিন্ন ব্যাপারীর প্রায় ৭/৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে  সোনালী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখার ম্যানেজার ও প্রিন্সিপাল অফিসার  মো. জাকির হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি স্বীকার করেন সিরাজুল ইসলাম, তার ছেলে সুমনসহ তাদের তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় একশ’ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এবং আদায়ের জন্য মামলা করার পূর্ব পদপে হিসাবে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন সিরাজুল ইসলাম কারণে অকারণে ব্যাংকের ডিএমডি, জিএম পরিচালকদের দিয়ে মুঠো ফোনে নির্দেশ দিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা আদায় করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি ব্যাংকের উর্ধ্বতন মহল সিরাজুল ইসলামকে সুবিধা দিতে আবারও ফোন করেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন লিখিত আদেশ না দিলে তিনি কোন কিছু করতে পারবেন  না।
সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তাদের এই খেলাপি ঋণ নিয়ে বিষয় নিয়ে সাবেক মন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ানকে নিয়ে অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী সহ বিভিন্ন মহলে বৈঠক হয়েছে। তারা ব্যাংকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন আর কোন সমস্যা নাই। তাদের হিসাব আর ঋণ খেলাপির আওতায় থাকবে না সবাইকে তারা ম্যানেজ করে ফেলেছেন। তিনি বলেন, লেখা লেখি করে কোন লাভ হবে না।
এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক খুলনা জোনের জেনারেল ম্যানেজার মো. মোশারেফ হোসেন স্বীকার করেন পাট খাতে বিনিয়োগকৃত প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছে সরকার তাদের আবারও সুযোগ দেয়াই তারা সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই সুবিধায় পাট খাতের ব্যবসায়ীদের দুই বছরের মধ্যে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া  যাবে না। তিনিও স্বীকার করেন তদবিরের কারণে ঋণ খেলাপিরা বারবারই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু যারা ব্যাংকের নিয়মনীতি  মেনে টাকা নিয়মিত পরিশোধ করছে তারা কোন সুবিধা পাচ্ছে না। তিনি স্বীকার করেন প্লেজ ঋণ বিপর্যয়ের কারণে তার নতুন করে কোন প্লে ঋণ দিচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংক হতে জাল জালিয়াতি ও প্রতারণা করে ঋণ নেয়া এবং তাদেরকে সহযোগিতার জন্য সোনালী ব্যাংকের জিএম নেপাল চন্দ্র ডিজিএমসহ একাধিক কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের নামে দুর্নীতি দমন কমিশন খুলনা এ পর্যন্ত সাতটি  মামলা করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ